‘সাকিব আল হাসান এবং নোবেল পুরষ্কার’
কোনো একটা অজানা সাল। ডিসেম্বরের আগে ঘোষণা হলো সাকিব আল হাসান ❝নোবেল শান্তি পুরস্কার❞ পেয়েছেন। পুরো পৃথিবী তোলপাড় হয়ে গেছে। আঞ্চলিক মিডিয়া থেকে শুরু করে বিশ্ব মিডিয়ায় অধিকাংশ প্রতিবেদন, খবর ও ভিডিও ফুটেজ সাকিব আল হাসানের নামে। জাতিসংঘ পরিস্কার করে বলে দিয়েছে সাকিবের জন্মদিন হবে ❝বিশ্ব সাকিব দিবস❞! বিশ্ব মিডিয়ার টকশোতে শুধু সাকিব কে নিয়ে মাতামাতি ও বন্দনা। কলামের পর কলাম লেখা হচ্ছে শুধু এই হিরো কে নিয়ে। তর্কবিতর্কের উর্ধে গিয়ে সবাই বলছে তিনি অবশ্যই নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার দাবিদার। যোগ্য মানুষই নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন অবশ্যই। বাংলাদেশে হইহট্টগোল লেগে গেল। আনন্দে মাতোয়ারা ও দিশেহারা সবাই। সব জায়গায় এক টপিক শুধু সাকিব আর সাকিব। অলিগলি থেকে মিডিয়া ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবখানে একটাই আলোচনার বিষয়। সাকিবের নোবেল শান্তি পুরষ্কার! সাকিবের নোবেল শান্তি পুরষ্কার!
ঘটনা এখানে শেষ নয়। সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহের ওই প্রান্তের দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার একজন লেখক ❝সাহিত্য নোবেল পুরষ্কার❞ পেয়েছেন। নাম ❝ক্রিস্টিয়ান জ্যাক❞। সাহিত্য নোবেল পেতেই পারে এই নিয়ে হইচই কেন? যেহেতু ছয় বিষয়ে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। তোলপাড় হওয়ার বিষয় হচ্ছে ক্রিস্টিয়ান জ্যাক নোবেল পেয়েছেন সাকিবের বীরত্বের ঐতিহাসিক পটভুমি লিপিবদ্ধ করার জন্য। ❝দ্যা লিজেন্ডারি পারসোন ইন পলিটিক্স এন্ড স্পোর্টস অ্যারা❞ সাতশত পৃষ্ঠার লেখা বইয়ের জন্য। যেটা প্রকাশিত হয়েছিল মাত্র এক বছর পূর্বে। সাকিবের স্পোর্টস ইতিহাস এবং বাঙালি জাতির জাতীয় নায়ক হওয়ার গৌরবময় কাহিনী বিশ্ববাসীর কাছে জানিয়ে দেওয়ার জন্য। যে বই প্রকাশের পরপরই কোটি কোটি কপি বিক্রি হয়েছে দুনিয়ায়। শুধু তাই নয় কমপক্ষে ২০০ ভাষায় ভাষান্তর হয়ে প্রকাশিত হয়েছে ❝❝দ্যা লিজেন্ডারি পারসোন ইন পলিটিক্স এন্ড স্পোর্টস অ্যারা❞ বইটি। যা সমগ্র বিশ্বের জানা। সাকিব নোবেল পেয়েছেন শান্তিতে যিনি দেশকে নতুনভাবে তৈরি করেছেন। আর ❝ক্রিস্টিয়ান জ্যাক❞ নোবেল পেয়েছেন সাহিত্য যিনি সেই ইতিহাস সবার তরে পৌঁছে দিয়েছেন তাই।
আইভরি কোস্টের ইতিহাসের নায়ক ❝দিদিয়ের দ্রগবা❞ কে পিছনে ফেলেছেন আমাদের বীর ও নায়ক সাকিব। দ্রগবা আইভরিকোস্টের ফুটবল খেলোয়াড় যিনি ২০০২ সালের দিকে শুরু হওয়া ভয়ংকর গৃহ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিলেন। যখন বিদ্রোহী বাহিনী দখল করে নিয়েছিল দেশের একাংশ। দেশে মারাত্মক গৃহ যুদ্ধে পরিনত হয়েছিল। সরকারি দল ও বিদ্রোহী দল আলাদা হয়ে দেশ দুইভাগে বিভক্ত। রণক্ষেত্র পরিণত হয়ে যেখানে জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছিল জনগণের। সেই রণক্ষেত্র পরিবেশে ২০০৫ সালের অক্টোবরে আফ্রিকা মহাদেশীয় প্রতিনিধি হিসেবে ২০০৬ জার্মান বিশ্বকাপের টিকিট অর্জন করে আইভরি কোস্ট। সুদানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল। তাও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলবে দেশ। সবাই ভুলে গেল যুদ্ধ! কিছুদিনের জন্য আনন্দের জোয়ার বইতে লাগলো পুরো দেশে। মাথায় সহস্র চিন্তা দ্রগবার দেশের আগুন জ্বলা পরিস্থিতি নিয়ে। ২০০৬ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার প্রক্ষালে স্টেডিয়ামের সাজঘরে জাতীয় দলের সকল খেলোয়াড়দের পাশে নিয়ে দ্রগবা সবার উদ্দেশ্য আবেগময় বক্তৃতা দিয়েছিলেন।
যা পাল্টিয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকে। বিশ্বকাপে জায়গা নেওয়ার পরে আফ্রিকান নেশনস কাপে মাদাগাস্কারের বিপক্ষে একটা ম্যাচ আয়োজন করছিল সেই গৃহ যুদ্ধে পরিপূর্ণ দেশেই। এমনকি সকল স্তরের মানুষ, সরকারি ও বিদ্রোহদল এক সাথে বসে খেলা দেখছিল। আইভরি কোস্ট ৫-০ গোলে ম্যাচ জিতে। মাঠে দর্শক নেমে গেল কিন্তু দ্রগবার হাতে স্পিকার। গৃহ যুদ্ধ থেমে যায় এবং দ্রগবা হয়ে উঠে তাদের রুপ কথার রাজপুত্র! পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে মহা বীরের ভুমিকা। যুদ্ধ ছাড়াও বীর হওয়া যায় তার উপমা দিদিয়ের দ্রগবা। ২০১০ সালে টাইম ম্যাগাজিনের তালিকায় বিল ক্লিন্টন ও বারাক ওবামার সাথে বিশ্বের একশো প্রভাবশালী মানুষের এক জন ছিলেন তিনি। বাকি ইতিহাস আপনারা জানেন। আরো উদাহরণ রয়েছে ফুটবলের কিংবদন্তী ব্রাজিলের পেলেকে নিয়ে। ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি ৩ তারিখে একটি প্রীতি ম্যাচ ছিল যুদ্ধ-বিধ্বস্ত নাইজেরিয়ায়। সান্তোসের হয়ে খেলবেন ❝পেলে❞। বেনিন সিটিতে অনুষ্ঠিত দুই ক্লাবের খেলায় সান্তোস ২-১ গোলে স্থানীয় একাদশকে পরাজিত করে। পুরো নাইজেরিয়াতে রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধ চলছিল। সম্ভবত ❝বায়াফ্রা❞ রাজ্য মূল দেশ থেকে আলাদা হওয়ার চেষ্টা করলে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল। পেলে সেখানে খেলা খেলে বীরে পরিণত হয়েছিলেন এবং গৃহ যুদ্ধও শান্ত হয়েছিল বলে ইতিহাসে লেখা রয়েছে।
এই সব ইতিহাস ভুলে এখন আমাদের সাকিব আল হাসান নয়া বীরে রুপান্তর হয়েছে এই গ্রহে। ধরণীর সকল মিডিয়া ও ক্যামেরা ❝সাকিব ও জ্যাক❞ এর দিকে। দুইজন পৃথিবীর দুই প্রান্ত থেকে নোবেল পেয়েছেন তাও একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে। বিষয়টা হলো বাংলাদেশ নামক দেশের ❝আইভরি কোস্ট ও নাইজেরিয়া❞ এর মতোই গৃহ যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যেখানে সরকারি দল এক দিকে এবং ছাত্র সমাজ ও সাধারণ মানুষ একদিকে। দেশে উত্তপ্ত রমরমা মারামারি ও যুদ্ধ। জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। মানুষের হাহাকার পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে হচ্ছে কী! প্রতিদিন মানুষ মরছে, পুলিশ মরছে, ছাত্র মরছে ও দেশে আগুন জ্বলছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন কেউ থামাতে পারছে না। সার্ক, ওআইসি, ন্যাটো ও প্রতিবেশী সব দেশ তাঁরাও বিফল। কোন মতেই থামছে না যুদ্ধ। সাকিব আল হাসান অস্ট্রেলিয়ায় ম্যাচ শেষ করে সকল জাতীয় দলের খেলোয়াড় নিয়ে বসলেন।
অস্ট্রেলিয়া থেকে আসার আগেই দ্রগবার মতো বক্তব্য পেশ করলেন সহপাঠী ও দেশের জনগণের উদ্দেশ্য। দেশের মানুষ তাকে সম্মান জানালো। পরের দিন বিমানবন্দর থেকে সোজা আন্দোলনরত মিছিলের সামনে। ঢাকা শহীদ মিনার কিংবা শাহবাগে স্পিকার হাতে নিয়ে কথা বলতে শুরু করলেন। সবাইকে আশ্বাস দিলেন তিনি সবাইকে নিয়ে বসবেন। সরকারকে বুঝাবেন। যেই কথা সেই কাজ। সাকিব আল হাসান সরকারের সাথে বসে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনলেন। দূর্নীতি, একচেটিয়া কথা ও জনগণের শত্রু মন্ত্রী ও এমপিদের সরকার প্রধান নিজেই বহিষ্কার করলেন। পরে সুন্দর সুললিত নির্বাচন হবে বলে নতুন কমিটি গঠন হলো। শিক্ষার্থী ও জনগণের অনুরোধে সাকিবও রাজপথে এসে গেল এবং নির্বাচন করার জন্য তাঁকে পিড়াপিড়ি করলো জনগণ। সে খুশি মনে আসলো দেশকে গড়ে তুলতে সাথে টগবগে তরুণরা। নির্বাচন শুর হলো। সাকিব সহ দেশের তরুণ ও সৎ স্বপ্নের লোকেরা নির্বাচিত হলো। সরকার যে গঠন করবে করুক সমস্যা নেই। হা-হা-হা! দাঁড়ান! আপনারা নিশ্চয় আমাকে গালি দিচ্ছেন! কোন লেভেলের নেশা করছি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন! কখন থেকে পাগল তা নিয়ে হুংকার দিচ্ছেন! ইতিহাসতো এমন হতে পারতো ভাই। কিন্তু না ইতিহাস হলো মরিচীকার!
ইতিহাস হলো স্বার্থ, ক্ষমতা, টাকা, লোভ ও লালসার। ইতিহাস হলো বিনা ভোটে এমপি মন্ত্রী হওয়ার। ইতিহাস হলো খেলা চলাকালে অন্য দেশ থেকে বিমানে উড়ে এসে পরিচিত রাজনৈতিক দলের টিকিট নেওয়ার। ইতিহাস হলো লজ্জার। ইতিহাস হলো ভোট চুরের সহোদর ও সহযোগিতা করার। ইতিহাস হলো দেশের ১৮ কোটি মানুষের মন থেকে চলে যাওয়ার। ইতিহাস হলো নায়ক থেকে ভিলেন হওয়ার। ইতিহাস হলো ভক্তের হৃদয় থেকে পৃথিবীর দূরত্বের সমান একান্ন কোটি কিলোমিটার দূরে যাওয়ার। ইতিহাস হলো ভক্তের থুথু খাওয়ার। ইতিহাস হলো এতো ভক্তকে দুই টাকার মূল্য না দিয়ে অসম্মান জানানোর। ইতিহাস হলো সবচেয়ে বিখ্যাত থেকে সবচেয়ে নিম্ন ঘৃণিত ব্যাক্তি হওয়ার। ইতিহাস হলো দূর্নীতিবাজ ভদ্রলোকের সাথী হওয়ার। ইতিহাস হলো হাজার লক্ষ কোটি পাচারকারীদের সাথে উঠা বসার। সাকিব মেধাবী সবাই জানে। সে ক্রিকেট মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মিয়েছে সবাই জানে। সাকিবকে সাকিব বানিয়েছে বাংলাদেশের মানুষরা। বাংলার ১৮ কোটি মানুষ তাকে নিয়ে লাফালাফি করেছে বহু বছর। মানুষ তাকে পরিবারে সদস্য বানিয়ে রেখেছিল। ২০১২ সালের পাকিস্তানের বিপক্ষে ❝এশিয়া কাপ❞ ফাইনাল হারার পরে মানুষ কান্না করছে সাকিবের সেই চেহারা দেখে।
দুই বছর নিষিদ্ধ হওয়ার পরে মানুষ আন্দোলনে নেমেছিল। কলকাতা খেলতে গেলে একজন সাকিবের জন্য পুরো বাংলা বসে থাকতো। কখন বল করবে কখন হাতে ব্যাট নিবে? বিশ্বের যে কোনো জায়গায় খেলতে গেলে বাংলাদেশের মানুষরা খেলা না দেখলে অন্তত স্কোর দেখার জন্য টিভির সামনে বসেছিল এবং গুগল গেটেছিল। সাকিব সাকিব বলে গলা ফাটিয়েছিল স্টেডিয়ামে। স্টেডিয়ামে ঢুকার আগে মুখে সাকিবের নাম লিখে নিত। কপালে লাল সবুজের পতাকা বেঁধে নিত। অনলাইন ও টিভিতে সাকিবের খবরাখবর দেখতো ও জানার চেষ্টা করতো। অথচ সেই নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি হয়েছে। আচ্ছা! সাকিব জানে না ২০১৪ সালের নির্বাচন কেমন হয়েছিল? সাকিব জানে না ২০১৮ সালে নির্বাচিত কিভাবে হয়েছিল মাশরাফি? ২০১৪, ২০১৮ শেষ ও ২০২৪ তাঁর সময়কার নির্বাচন কেমন হলো? সাকিব কী ছোট বাচ্চা? তিনি জানেন না কত মানুষ গুম হয়েছে? তিনি জানেন না কত মায়ের বুক খালি হয়েছল? তিনি জানেন না কত ছেলে-মেয়ে বাবা হারিয়েছে? তিনি জানেন না কত কোটি কোটি ডলার দূর্নীতি হয়েছে? তিনি জানেন না এমপি ও মন্ত্রীরা কিভাবে চলাফেরা করছে?
এতো শত কোটি টাকার মালিক সাকিব তাঁকে কেনো এমপি ও মন্ত্রী হতে হবে? এতো সম্মানের পাত্র পৃথিবী জুড়ে তাঁকে কেনো নৌকা নিয়ে আসতে হবে? ৩৬ বছর বয়সে কেনো আওয়ামী লীগ থেকে এসে তাকে জনসেবা করতে হবে? সে কী অপেক্ষা করতে পারলো না? সে কী অবুজ নিজে বুঝার ক্ষমতা নেই? যিনি বাপের নাম ভুল দিয়ে শেয়ারবাজার থেকে টাকা তুলে আশা করি তিনি অবুজ নয়। তাঁর বিরুদ্ধে আরো বহু অভিযোগ ছিল আগে। সে বিষয়ে অন্য একদিন বলবো। তিনি বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার তাই মানুষ তাঁর পক্ষ হয়ে আগে কথা বলছিল। তিনি ১৪,০০০ রান ও ৭০০+ উইকেটের মালিক। পৃথিবীতে এমন খেলোয়াড় দুইটা নেই। কিন্তু বর্তমান বাঙালি তাকে শূন্য মাইনাস ও মূল্য দেই না। বিন্দু পরিমাণ সম্মান করে না। অবশ্যই তার দরকারও নেই। কারণ, তাকে সবাই নির্লজ্জ বলে অবিহিত করে। জনাব ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের মতো বিশাল রাজনীতিবিদ তাকে নৈতিকতা নেই বলে। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তাকে নির্লজ্জ বলে। অথচ এক সময় তাকে সবাই হিরো মনে করতো। আমি আর একটা কথা বলি শুনুন।
সাবেক সরকারের উপর মোটামুটি বিরক্ত ও ক্ষোভ ছিল জনগণের। ভালো কথা! আপনারা জানেন যখন মাশরাফির মতো ক্যাপটেন ও সাকিবের মত অলরাউন্ডার জিনিয়াস এসে নৌকা নিয়ে সরকারের সাথে হাত মেলায় তখন মানুষ আরো বেশি ফায়ার হয়েছিল। আরো অজস্র ক্ষোভ জমিয়েছিল। আরে ভাই আপনার কিসের অভাব? আপনারা কেন এমপি মন্ত্রী হবেন? দেশের ক্রিকেট বোর্ড সামলানো যাইতো না? আচ্ছা জনগণের সেবা করবেন ভালো কথা! আপনারা দেখেন নাই কতগুলো হত্যাকান্ড হয়েছিল দেশে সেই ২০০৯ এর পর থেকে। কেমন ভোট হয়েছিল দেশে ১৪, ১৮ সালে। আপনারাতো দল ছাড়াও নির্বাচন করতে পারতেন। তবুও ১০০% এমপি হতেন। মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান পাইতেন। মানুষ বাহবা দিত। কাছে যাইতো ও পাশে থাকতো। জীবন দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করতো। এখন কী হলো? শুনুন! দেশ পঙ্গু ও ধ্বংসের পিছনে সমস্ত আওয়ামী লীগের যত হাত তারচেয়ে বেশি হাত এই দুই জনের মাশরাফি ও সাকিবের। এই দু’জনের জন্য বেশি ক্ষতি হয়েছে। কিভাবে আমি বলি।
বিশ্ব মিডিয়া ও বিশ্ব কর্মকর্তারা যখন নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে আসে বা পর্যবেক্ষণে আসে তখন দেখে মাশরাফি ও সাকিব নির্বাচন করছে। তখন মিডিয়া ও তাঁরা বুঝতে পারে নির্বাচন ভালো ও সঠিক হবে। না হয় এতো বড় সেলিব্রিটি ও খেলোয়াড় নির্বাচন করতো না। ২০১৮ সালে মাশরাফিকে দেখে বহির বিশ্বের মিডিয়া সুন্দর সুন্দর আর্টিকেল প্রকাশ করছিল। বিশ্ব জেনেছিল ভালো মানুষরাও নির্বাচন করতেছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড় পর্যন্ত নির্বাচনে আসছে। বাকি রাজনৈতিক দল না আসলেও সমস্যা নাই। ঠিক ২০২৪ সালে এসে সাকিবের জন্যও তা হলো। সবার মতে মোটামুটি মাশরাফি না হলেও সাকিবকে চিনে না এমন মিডিয়া বিশ্বে খুব কমই রয়েছে। তাঁদের জন্যই বিশ্ব মিডিয়ায় কোনো হইহট্টগোল প্রকাশ করে নাই নির্বাচন নিয়ে। যেহেতু নির্বাচনে মাশরাফি ও সাকিবের মতো মানুষ রয়েছে। তাহলে তাদের দু’জনের জন্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত নয় কী? তাঁরা আমাদের দেশকে পিছনে নিয়ে যায় নাই? তাদের এতো শত কোটি টাকা থাকার পরেও একটা ভোট চুর সরকারের সাথে কেন নির্বাচন করবে? মিডিয়ার গলা টিপে ধরা সরকারের সাথে কেনো বসবে? গুম, খুন, হত্যা, বাকস্বাধীনতা হরনকারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসকারী, সাগর চুরির মতো দূর্নীতিবাজ এবং মিথ্যা বলার উপন্যাসিক দলের সাথে কেনো নির্বাচন করবে বা হাত মিলাবে? তাঁরা আমাদের বীর ও নায়ক ছিল না? তাহলে আজ তাঁদের নামে হত্যা মামলা কেন? দোষ কার আমার, আপনার, সরকারের নাকি তাঁদের?
ওমর ফারুক
তরুণ কলাম লেখক
ইংরেজি বিভাগ, সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম।



