“আর্তনাদ”
মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান
আর্তনাদের আওয়াজ আজ রুদ্ধ হয়ে যায়, তোমাদের দাপুটে হাসিতে।
শীর্ন দেহের বিদীর্ণ বক্ষ নির্লজভাবে উন্মুক্ত হয়ে যায়, ন্যায্য হিস্যার অভাবে।
উশকখুশকো চুলগুলো বেপরোয়া, বারংবার সামনে এসে পড়ে নিজেরই অজান্তে।
কতবার যে মুষ্টি করে ধরে বেহায়া চুলগুলোকে বেঁধেছিলুম,
কট কট শব্দে দাঁত দিয়ে কেটে আঁচল থেকে সুতা নিয়ে।
নিজের শরীর আজ নিজেরই হুকুম মানছে না, কি হয়েছে না জানি।
রোগা হয়ে গেছি তাদের চেয়ে বেশী, যারা শুনিয়েছিলেন এতদিন ধরে কেবল সান্তনার বাণী।
এমন চূর্ন ত্বকে সুগন্ধি জলের মোলায়েম মেলামেশায় ,ব্যাধিটা যেন আরো গেছে বেড়ে।
সগন্ধি আতর গোলাপের শিশি আমায় দেখে,লজ্জা পেয়ে তারা আজ ফিরে গেছে ধনকুবের ঘরে।
অন্নভোগ উভে গেছে আজ থেমে গেছে কোলাহল, টিপ টিপ করছে শুধু ধমনীগুলো।
কংকালসার হয়েও বেঁচে আছি আজ ,লুটেরা সভ্যতা থেকে ভেসে আসা কিছু বাতাসে।
অন্ন আবাদকারীরাই অন্নাভাবে আজ বিপন্ন, কোথায় যেন হারিয়ে গেছে তাদের দল।
নব্য মহাজনী প্রথায় তাল মিলাতেই তলিয়ে গেছে, সেই সরষের ঘানী আর লাঙ্গলের হাতল।
তাদের জায়গা ছিনিয়ে নিয়েছে দানবীয় যন্ত্র সমেত , সেই আতর গোলাপের লাট সাহেবেরা।
নিজের ভিটা জমি হারিয়ে হয়েছিল বর্গা চাষী ,তারপর হয়ে গেল সাহেবের গোলাম দিনমুজুর।
দয়ায় অন্ন জোটে অল্প, ক্ষুদা নিবারন বলে না ওটাকে, যখন ছ’খানা হাত পরে একখানা থালাতে।
সভ্যতার ছোবল নিরিহকে করেছে অভিশপ্ত, চেপেছে ঋণের বোঝা লাঙ্গল যে আর কাঁধে নাই,
অন্নাবাদ নহে, ঋণ করেছি ক্ষুদার জ্বালায়, আর রাত না পোহাতেই ঋণ শুধিবার পালা।
চৌচালা ঘর হয়েছে একচালা,মোটামুটি হয়েছে বেশ,ঋণও শেষ,নিরুপায়ে বিচেছি ঘরের চালা।
অন্ন চেয়ে অন্যায় হয়েছে, বস্ত্র চেয়ে বুক উন্মুক্ত হয়েছে,চৌচালা ঘর হয়েছিল এক চালা,
জ্ঞানের আলো পাইনি অস্তিত্বটুকুও নেই, সবই ছিনিয়ে নিয়েছে খসখসে মলাটের সমাজপতিরা।
শেষ বেলায় বুঝেছি আমি,প্রতিবাদি আমি, শীর্ণদেহ খানা নিয়ে জ্বালিয়ে দিও , মরনের পরে।
মরা শরীর খানা দিয়েও পারি যদি আলো জ্বালাতে, সেই জ্ঞান পাপীদের অন্ধকার সমাজে !
লেখকঃ মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান।



