রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

চট্টগ্রামের বিহারি কলোনিতে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা; নিরব প্রশাসন!

আপডেট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম নগরীর নিউ শহীদ লেইন (বিহারি কলোনী) এলাকায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চলছে মাদকের রমরমা ব্যাবসা।

রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছে মাদকের সাম্রাজ্য।এই মাদক কারবারির মূল হোতা মনির ওরফে বাইট্টা মনির।

বিজ্ঞাপন

আনুমানিক ২০ বার এর অধিক পুলিশ ও রেব এর হাতে মাদক নিয়ে ধরা পড়লেও জামিনে বের হয়ে আবার যুক্ত হয় এই মাদক ব্যাবসায়। মনির ওরফে বাইট্টা মনির চট্টগ্রামের শীর্ষ মাদক মাফিয়াদের একজন। তার প্রধান সহযোগী তারই আপন ভাই মহিনউদ্দীন ওরফে বাইট্টা মহিন।

সে কয়েকবার মাদক সহ রেব এর হাতে ধরা পড়লেও জামিনে বের হয়ে আবার শুরু করে মাদক ব্যাবসা।
মনিরের সমস্ত মাদকের কারবারী নিয়ন্ত্রণ করে তার ভাই মহিনউদ্দীন ওরফে বাইট্টা মহিন।তাদের মাদক দ্রব্য সরবরাহের কাজে তদারকি করে তাদেরই আরেক সহযোগী রকি। বিরিয়ানি ব্যাবসার আড়ালে মাদক ব্যাবসা করে বলে জানান এলাকাবাসী।
মাদক কারবারি ছাড়াও নিউ শহীদ লেইন ও লাল দোকান এলাকায় চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের মহড়া সহ সমস্ত অপকর্ম চলে বাইট্টা মহিনের নেতৃত্বে।

বিজ্ঞাপন

তার এসব কাজে সহযোগীতা করে শাহীন,কামাল,বাবলু,রকি সহ আরো অসংখ্য অপরাধী। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন— “দিনের আলোতেও প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়।পুলিশ জানে, প্রশাসন জানে-কিন্তু কিছুই করছে না।

ওই এলাকায় বাইট্টা মহিনের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার ও সুযোগ পায় না বলে জানান এলাকাবাসী।
কেউ তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করে এবং তার ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেওয়ার ও হুমকি দেয় বাইট্টা মহিন।

এই পর্যন্ত নিউ শহীদ লেইন এলাকায় প্রতিবেদন সংগ্রহ করতে গিয়ে অসংখ্য সাংবাদিক হেনস্তার স্বীকার হয় বাইট্টা মহিনের হাতে।

মনির-মহিন মাদক ব্যাবসা করে গড়ে তুলেছে সম্পদের বিশাল পাহাড়। সীতাকুণ্ড জলিল এলাকায় প্রায় ১ কোটি টাকা মুল্যের ৫ টির ও বেশি প্লট, আলীশান বাড়ী, গরুর ফার্ম, আজম নগর এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকান,ভাড়া-ঘর,বিহারী কলোনিতে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ ভাড়া-ঘর সহ কয়েকটি প্রাইভেট গাড়ি এবং স্থাবর-অস্হাবর আরো অনেক সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

নগরীর কয়েকটি থানায় হত্যা,অস্ত্র,মাদক মামলা সহ প্রায় ১৫ টির উপরে মামলা আছে এই দুই শীর্ষ মাদক কারবারির নামে। এত এত অপরাধ করে ও তারা চলাফেরা করছে প্রশাসনের নাকের ডগায়।
এসব যেনো দেখার কেউ নেই। তাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারক দিয়ে ও ফল মেলেনি বলে জানান এলাকার সুশীল সমাজ।

এলাকাবাসী ও তরুণ প্রজন্মের দাবী: মাদক সম্রাট মনির ও মহিনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।যেসব রাজনৈতিক নেতারা এই চক্রকে মদদ দিচ্ছে,তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।তাদের ব্যাবসায় সাহায্যকারী প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।আকবরশাহ থানার শহীদ লেইন,বিহারী কলোনি ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে সমস্ত মাদক চক্র ধ্বংস করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত