রোহিঙ্গা যুবকের আকস্মিক মৃত্যুতে ক্যাম্পে আতংক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ ১২১ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া:
উখিয়ার কুতুপালং নিবন্ধিত পুরাতন শরণার্থী ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা যুবকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তার মৃত্যৃতে কুতুপালং পুরাতন নিবন্ধিত ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। যদিও যুবকটির শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছিল কিনা তা রোহিঙ্গারা নিশ্চিত করতে পারেনি।

রোহিঙ্গা যুবক ওমর ফারুক মুশফিকের অকাল মৃত্যুতে ক্যাম্পের রোহিঙ্গা ও স্হানীয় তার সহপাঠীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। তার অকাল প্রয়াণে তার সূহৃদ মহল শোক গভীর শোক প্রকাশ করছেন। ঐ রোহিঙ্গা যুবকের ঘর সংলগ্ন ও আশপাশের রোহিঙ্গারা তার আকস্মিক মৃত্যুতে আতঙ্কগ্রস্হ বলে জানিয়েছেন।

সুস্থ-সবল এবং কোনো ধরণের রোগই ছিলো না। রাত ৮টার দিকে হালকা জ্বর অনুভব করায় বন্ধুদের আড্ডা থেকে বাড়ি চলে যায়। রাতে খাবার খেয়ে ঘুমাতে গেলে জ্বর একটু বাড়ে। সে কথা মা-বাবা ও এক বন্ধুকে জানায় ঘুমানোর আগে। কিন্তু ‘হালকা’ জ্বরই যে ছিলো মৃত্যুর ইঙ্গিত তা টের পাননি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া যুবক ওমর ফারুক মুশফিক। তাই রাতে যে কোনো সময় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সম্ভাবনাময়ী এই যুবক। সকালে ঘুম থেকে না উঠায় ডাকতে গেলে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মারা যাওয়া ওমর ফারুক মুশফিকের বন্ধু রুবেল হোসেন মিরাজ এই তথ্য জানান।

মৃত্যু বরণ করা ওমর ফারুক মুশফিক কুতুপালং পুরাতন রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের জি ব্লকের সামসুল আলমের ছেলে। সে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ১১ তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন বলে জানা গেছে।পরিবারের বরাত দিয়ে রুবেল হোসেন মিরাজ বলেন, ওমর ফারুক মুশফিকের তেমন কোনো রোগ-ব্যাধি ছিলো না। ছিলো সুস্থ ও স্বাভাবিক। মৃত যুবক ২০১৭ সালে ব্যাপক আকারে রোহিঙ্গা আগমনের সময় বেশ কিছুদিন বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্সের’ দোভাষীর কাজ করেছিল বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুর সংবাদে শোকের পাশাপাশি অনান্য রোহিঙ্গাদের মাঝে করোনা আতংক বিরাজ করছে বলে রোহিঙ্গারা জানিয়েছে। ২০১৭ সালে ব্যাপক আকারে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা আগমনের সময় বেশ কিছুদিন ঐ রোহিঙ্গা যুবক বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্সে’ ইন্টারপ্রেটার হিসেবে কাজ করেছিল বলে জানা গেছে।

কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প ব্যবস্হাপনা কমিটির সভাপতি হাফেজ জালাল আহাম্মদ বলেন, শুক্রবার (২৯ মে) সকালে সীমিত পরিসরে জানাযা শেষে ক্যাম্পের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। করোনা মহামারীর এ সময়ে আকস্মিক জ্বরে এ যুবকের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের রোহিঙ্গাদের মাঝে স্বভাবতই একটু আতংক দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রোহিঙ্গা যুবকের আকস্মিক মৃত্যুতে ক্যাম্পে আতংক

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া:
উখিয়ার কুতুপালং নিবন্ধিত পুরাতন শরণার্থী ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা যুবকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তার মৃত্যৃতে কুতুপালং পুরাতন নিবন্ধিত ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। যদিও যুবকটির শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছিল কিনা তা রোহিঙ্গারা নিশ্চিত করতে পারেনি।

রোহিঙ্গা যুবক ওমর ফারুক মুশফিকের অকাল মৃত্যুতে ক্যাম্পের রোহিঙ্গা ও স্হানীয় তার সহপাঠীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। তার অকাল প্রয়াণে তার সূহৃদ মহল শোক গভীর শোক প্রকাশ করছেন। ঐ রোহিঙ্গা যুবকের ঘর সংলগ্ন ও আশপাশের রোহিঙ্গারা তার আকস্মিক মৃত্যুতে আতঙ্কগ্রস্হ বলে জানিয়েছেন।

সুস্থ-সবল এবং কোনো ধরণের রোগই ছিলো না। রাত ৮টার দিকে হালকা জ্বর অনুভব করায় বন্ধুদের আড্ডা থেকে বাড়ি চলে যায়। রাতে খাবার খেয়ে ঘুমাতে গেলে জ্বর একটু বাড়ে। সে কথা মা-বাবা ও এক বন্ধুকে জানায় ঘুমানোর আগে। কিন্তু ‘হালকা’ জ্বরই যে ছিলো মৃত্যুর ইঙ্গিত তা টের পাননি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া যুবক ওমর ফারুক মুশফিক। তাই রাতে যে কোনো সময় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সম্ভাবনাময়ী এই যুবক। সকালে ঘুম থেকে না উঠায় ডাকতে গেলে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মারা যাওয়া ওমর ফারুক মুশফিকের বন্ধু রুবেল হোসেন মিরাজ এই তথ্য জানান।

মৃত্যু বরণ করা ওমর ফারুক মুশফিক কুতুপালং পুরাতন রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের জি ব্লকের সামসুল আলমের ছেলে। সে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ১১ তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন বলে জানা গেছে।পরিবারের বরাত দিয়ে রুবেল হোসেন মিরাজ বলেন, ওমর ফারুক মুশফিকের তেমন কোনো রোগ-ব্যাধি ছিলো না। ছিলো সুস্থ ও স্বাভাবিক। মৃত যুবক ২০১৭ সালে ব্যাপক আকারে রোহিঙ্গা আগমনের সময় বেশ কিছুদিন বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্সের’ দোভাষীর কাজ করেছিল বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুর সংবাদে শোকের পাশাপাশি অনান্য রোহিঙ্গাদের মাঝে করোনা আতংক বিরাজ করছে বলে রোহিঙ্গারা জানিয়েছে। ২০১৭ সালে ব্যাপক আকারে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা আগমনের সময় বেশ কিছুদিন ঐ রোহিঙ্গা যুবক বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্সে’ ইন্টারপ্রেটার হিসেবে কাজ করেছিল বলে জানা গেছে।

কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প ব্যবস্হাপনা কমিটির সভাপতি হাফেজ জালাল আহাম্মদ বলেন, শুক্রবার (২৯ মে) সকালে সীমিত পরিসরে জানাযা শেষে ক্যাম্পের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। করোনা মহামারীর এ সময়ে আকস্মিক জ্বরে এ যুবকের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের রোহিঙ্গাদের মাঝে স্বভাবতই একটু আতংক দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান।