Home সর্বশেষ সংবাদ এক্সক্লুসিভ করোনার রেড জোনে রেল কতৃপক্ষের ভুতুড়ে অভিযান

করোনার রেড জোনে রেল কতৃপক্ষের ভুতুড়ে অভিযান

করোনার রেড জোনে রেল কতৃপক্ষের ভুতুড়ে অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক,
করোনার ভয়াল থাবায় পৃথিবী জুড়ে চলছে মানবসভ্যতা নিধনের আগ্রাসন। স্মরণকালের ভয়াবহ এই মহামারীর ছোবল পড়েছে বাংলাদেশও।

বাংলাদেশে এই মহামারীর সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয় গুলো যখন দীর্ঘ ৪ মাসেরও অধিক সময় দেশের মানুষের সেবা দিতে ব্যাস্ত, তখনই চট্টগ্রাম রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল কতৃপক্ষ এক নাটকীয় ভুতুড়ে অভিযানে নেমেছে!

গত বছরের ৫, ই নভেম্বর থেকে রেল মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রেলওয়ের দখল করা জায়গা উদ্ধার অভিযানে নামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কতৃপক্ষ।

রেলওয়ের বেদখল হয়ে যাওয়া কিছু জায়গা উদ্ধার ও করে রেলওয়ে কতৃপক্ষ। কিন্তু রেলওয়ে কতৃপক্ষের এই অভিযানের অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে।

এই উচ্ছেদ অভিযানে চলে দূর্নীতির আশ্রয়।
উচ্ছেদ অভিযানে দলীয় প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির কারনে বিতর্কের মুখে পড়েন তৎকালীন রেলওয়ে ভু সম্পত্তি কর্মকর্তা ইশরাত রেজা।

এবং রেল কতৃপক্ষের কাণ্ডজ্ঞানহীন এই উচ্ছেদ অভিযানের অনিয়ম ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবন নষ্ট হওয়ার বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর রেলওয়ের ভু সম্পত্তি কর্মকর্তা ইশরাত রেজাকে বদলির আদেশ দেয় রেলওয়ের উর্ধতন কতৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় রেলওয়ের বহু অরক্ষিত জায়গায় বিভিন্ন প্রভাবশালী লোকজন রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সরকারি নিয়মনীতি বাহিরে লিজ না নিয়ে দোকান মার্কেট ও আবাসন ব্যাবস্থা গড়ে তুলেছে।

রেলওয়ের বেদখল হওয়া এসব জায়গা উদ্ধার না করে শ্রমিকদের বসবাসরত এলাকার বারা অভিযানের নামে হয়রানির শিকার হচ্ছেন রেলওেয়ের নিম্ন শ্রেনীর শ্রমীকরা।

বেদখল হওয়া সেসব জায়গার দিকে নজর না দিয়ে কর্মচারীদের বসবাসরত এলাকায় বারবার চলে লোক দেখানো অভিযানের নামে নাটকীয় অভিযান!

রেলওয়ের শ্রমিকদের বসবাস করা বাসার আশেপাশের এসব খালি জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জীবিকার তাগিদে ছুটে আসা নিম্ন আয়ের মানুষ।

রেলওয়ে কতৃপক্ষের এই অভিযানটি বছরের শেষের দিকে হওয়ায় বস্তি উচ্ছেদের কারনে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের বহু কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী বাৎসরিক পরিক্ষায় অংশ নিতে পারেনি!

যা নিশ্চিত করেছেন ১৩, নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডে অবস্থিত প্রাথমিক ও উচ্ছ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা।

এরই মধ্যে দেশে মহামারীর এই সংকটে সরকারি ভাবে করোনার রেড জোন এলাকা হিসাবে চিন্থিত হয় চট্টগ্রাম রেলওয়ের এলাকার ১৩, নং পাহাড়তলী ওয়ার্ড।

সরকারি কোন নির্দেশনা বা মন্ত্রণালয়ের আদেশ ছাড়া এসব এলাকায় বসবাসরত রেল শ্রমিকদের বাসার সামনে ৫/৭ ফিটের মধ্যে ৩ ফুট পরপর লোহার পিলার স্থাপন করে তার কাটার বেড়া দিতে কাজ শুরু করেছে রেলওয়ে কতৃপক্ষ।

রেল কতৃপক্ষের এই নাটকীয় কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে পড়েছেন এলাকার বসবাসরত রেলওয়ের কর্মরত শ্রমিকরা।

রেলওয়ে কতৃপক্ষের এই কর্মকাণ্ডে রেল শ্রমিকদের শিশু বাচ্চারা দূর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশংকায় শ্রমিকরা রেলওয়ে কতৃপক্ষের পূর্বাঞ্চলের প্রধান কর্মকর্তা জি,এম, ডিআরএম, ও ডিইএন সহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে তাদের থাকার বাসস্থানের সামনে অমানবিক এই কার্যক্রম বন্ধের জন্য স্মারকলিপি দেন।

আমবাগান রেলওয়ে এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমীক এই প্রতিবেদকের কাছে বলেন, আমরা তো রেলওয়ের বিশাল জায়গা দখল করে রাখিনি তারপরও কতৃপক্ষ আমাদের বাসস্থানের সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আমরা তো চিড়িয়াখানার জীবে রুপান্তর হবো!

কতৃপক্ষের এই ধরনের কর্মকাণ্ডে আমাদের চলাচল যেমন বিঘ্নিত হবে তেমন ভয় কাজ করছে ৩ ফুট অন্তর লোহার পিলার ও তারকাঁটার বেড়ায় আমাদের শিশু বাচ্চারা দূর্ঘটনার শিকার হবে।

রেলওয়ের এসব কর্মচারীরা বলেন, রেলওয়ে কতৃপক্ষের এই ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য আমরা কতৃপক্ষকে স্মারকলিপি দিয়েছি।
রেল কতৃপক্ষের এইসব অযাচিত কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এবং রেল মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলকে এই ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধের যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের মত সরকারি চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের প্রতি মানবিক হওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here