কক্সবাজার সংবাদদাতা:
কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে চাঁদা না পেয়ে হুমায়ুন কবির নামে এক যুবককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৪/৭/২০) সন্ধ্যায় মাগরিব নামাজ চালাকালীন সময়ে মাছুয়াখালী বাজার মসজিদের সামনে ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়। আহত হুমায়ূন কবির ধাউনখালী এলাকার মৃত মাওলানা কবির আহমদের পুত্র।
এ ঘটনায় একই ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকার মৃত কবির আহাম্মদের পুত্র চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের গডফাদার ও শেল্টারদাতা অবৈধ অস্ত্রধারী আব্দুল মালেক ও তার ভাই করিম উল্লাহ, মাছুয়াখালী এলাকার মৃত শফিউল আলমের পুত্র ত্রাস আবু তাহের, সাইফুল, শেখাউল, মতি, আজহার, ওসমানসহ অন্যান্য ৩/৪ জনকে এজাহার নামীয় আসামি করে সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
জানা যায়, একটি সক্রিয় সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক এলাকার নিরহ সহজ-সরল মানুষকে জোর যুলুম করে আসছে। এলাকায় অবস্থান করা ও পথেঘাটে আসা যাওয়ার সুবাদে উক্ত চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের কার্যকলাপ দেখেশুনে আহত হুমায়ুন প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন।এ ব্যাপারে তাদের কয়েকজন সদস্যকে বাধা-নিষেধ করে আসছিল হুমায়ুন। তার কারণে চাঁদাবাজদের অবৈধ ইনকাম এর উপর কিছুটা ভাটা পড়ে এবং হুমায়ুন নেতৃত্বে এলাকার মানুষ উত্তর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠছিল। এরই ফলশ্রুতিতে মারমুখী হয়ে উল্টো হুমায়ুনের কাছে চাঁদা দাবি করে,এ ব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছিল সন্ত্রাসীরা। একদিকে প্রতিপক্ষ অন্যদিকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রায় সময় জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাকে ফলো করে আসছিল সন্ত্রাসীরা।
সর্বশেষ স্থানীয় বাজারে হুমায়ুন অবস্থান করার খবর নিশ্চিত হয়ে পুর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করে ওৎপেতে থাকেন সন্ত্রাসীরা। হুমায়ুন কবির তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে মাছুয়াখালী বাজারের মসজিদের সামনে পৌঁছিলে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা মালেক ও তাহের বাহিনী তার উপর অবৈধ অস্ত্র, লোহার রড, রামদা, হাতুড়ি, লাঠি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে মোটরসাইকেল, মানিব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে বেধড়ক মারধর ও রক্তাক্ত কাটা জখম করেন। এ সময় হুমায়ূন বাঁচার জন্য গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলেও বাজার ও মসজিদে শত শত লোক জড়ো হয়ে ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেও এলাকার ওই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। সন্ত্রাসীরা হুমায়ূনকে গুরুতর আহত করে মৃত ভেবে ফেলে চলে গেলে কয়েকজন লোক ঘটনাস্থল তাকে থেকে খুঁড়িয়ে নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত হুমায়ূন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সাথে জড়িতরা পিএমখালীর চিহিৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ তারা এলাকায় একের পর এক নানান সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন কাউকে না কাউকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি করে আসছে। বিচার সালিশের নামে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা জামানত গ্রহণ করে আত্মসাৎ করছে। তারা এলাকার ত্রাস সন্ত্রাসীদের গডফাদার মালেকসহ অভিযুক্ত সবাইকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।