বহিষ্কার ২ চিকিৎসক, হটলাইনে কক্সবাজার উখিয়া আইসোলেশন সেন্টার কর্তৃপক্ষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০ ৯৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এম এ সাত্তার, কক্সবাজার:
উখিয়ার এসএআরআই আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টারে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ডা. নাজিয়া নাজি, ডা. সাজুকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের হেলথ এন্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাইজেরিয়ান নাগরিক পেট্রেশিয়া এফে আজকিয়ে গণমাধ্যমকে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রোগীদের প্রতি চরম অসদাচরণ, দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও গাফেলতির বিষয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় দু’জন চিকিৎসককে চাকুরি থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এছাড়া কয়েকজনের কাছ থেকে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। পেট্রেশিয়া এফে আজকিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের ১১০১, ১৪ তম ষ্ট্রীট, এন ডাব্লিউ স্যুট ওয়াশিংটন ডিসিস্থ সদর দপ্তরের অনুমতি সাপেক্ষে চিকিৎসকদ্বয়ের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা ৯ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রোগীকে গৃহীত ব্যবস্থার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল উখিয়ায় স্থাপিত এসএআরআই আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টারটি সার্বিক পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানদন্ড বজায় রেখে আরও গোছালো, চমৎকার ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা কৌশল তৈরি করছেন বলেও জানান তিনি। সুত্র মতে, প্রতিষ্ঠানটির আরও কিছু অযোগ্য ও অপ্রয়োজনীয় লোককে অপসারণ করা হবে।

রোগীদের সেবায় আনা হবে, মান ও গুণগত পরিবর্তন। পেট্রেশিয়া এফে আজকিয়ে বলেন, গুটিকয়েক অযোগ্য মানুষের জন্য বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জনকারি রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের সামগ্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় না। তবে তিনি মনে করছেন, নতুন একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে একটু সমন্বয়হীনতা থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটা ক্রমান্বয়ে কাটিয়ে উঠা হচ্ছে। জাতিসংঘের অংগ প্রতিষ্ঠান ইউএনএইচসিআর চলমান করোনাভাইরাস সংকটে তাদের মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসাবে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে মাত্র ৪০ দিনে এই হাসপাতালটি নির্মাণ করেছে।

গত ২৭ মে থেকে সেখানে কোভিড-১৯ রোগী ভর্তি দেয়া শুরু হয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক এনজিও রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল উখিয়ার এই আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টারটির পরিচালনা করার দায়িত্ব পায়। ৩৪ টি আলাদা বিভাগে বিভক্ত করে আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টারটি পরিচালনা করা হয়। করোনা ‘পজেটিভ’ হয়ে এখানে গত ২৮ জুন পরিবারের ৭ সদস্যসহ ভর্তি হন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী। সেখানে দেখতে পান, বিভিন্ন বিভাগে চরম অনিয়ম ও সমন্বয়হীনতা। এর প্রতিবাদে ৪ জুন সন্ধ্যায় নিজ সিটেই অনশন শুরু করে দেন তিনি। পরে দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা পর ৬ জুন বেলা ১ টার দিকে রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের হেলথ এন্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রাম ম্যানেজার পেট্রেশিয়া এফে আজকিয়ে স্বশরীরে গিয়ে পানি পান করিয়ে আবু সিদ্দিক ওসমানীর অনশন ভাঙ্গিয়েছেন।

তার আগে চরম অব্যবস্থাপনা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়া, ভুল ওষুধ দিয়ে ফাইল গায়েব করা, মেডিকেল যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা ও রোগীদের প্রতি দুর্ব্যবহারের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এতবড় একটি প্রতিষ্ঠানে ডায়াবেটিক মাপার কোন গ্লোকোমিটার নেই।

ব্রেকফাস্টে পানির মতো টলটলে ডাল ও ত্রিপলের মতো মোটা, রোগীদের খাওয়ার অযোগ্য রুটি সরবরাহ দেওয়া হতো। ৭ জুলাই সকাল হতে তা পরিবর্তন করে উন্নতমানের রুটি, ডাল ও অন্যান্য আইটেম রোগীদের দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তন হয় খাবার ম্যানু। ৭ জুলাই থেকে সকল খাদ্য তৈরিতে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে যে উন্নয়ন কাজসমুহ অসম্পূর্ণ ছিলো, তা সম্পন্ন করতে জোরেশোরে নামানো হয়েছে, পর্যাপ্ত শ্রমিক। ওয়াশ ও বাথরুমগুলো আগের চেয়ে অনেক পরিচ্ছন্ন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বহিষ্কার ২ চিকিৎসক, হটলাইনে কক্সবাজার উখিয়া আইসোলেশন সেন্টার কর্তৃপক্ষ

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০

এম এ সাত্তার, কক্সবাজার:
উখিয়ার এসএআরআই আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টারে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ডা. নাজিয়া নাজি, ডা. সাজুকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের হেলথ এন্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাইজেরিয়ান নাগরিক পেট্রেশিয়া এফে আজকিয়ে গণমাধ্যমকে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রোগীদের প্রতি চরম অসদাচরণ, দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও গাফেলতির বিষয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় দু’জন চিকিৎসককে চাকুরি থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এছাড়া কয়েকজনের কাছ থেকে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। পেট্রেশিয়া এফে আজকিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের ১১০১, ১৪ তম ষ্ট্রীট, এন ডাব্লিউ স্যুট ওয়াশিংটন ডিসিস্থ সদর দপ্তরের অনুমতি সাপেক্ষে চিকিৎসকদ্বয়ের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা ৯ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রোগীকে গৃহীত ব্যবস্থার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল উখিয়ায় স্থাপিত এসএআরআই আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টারটি সার্বিক পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানদন্ড বজায় রেখে আরও গোছালো, চমৎকার ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা কৌশল তৈরি করছেন বলেও জানান তিনি। সুত্র মতে, প্রতিষ্ঠানটির আরও কিছু অযোগ্য ও অপ্রয়োজনীয় লোককে অপসারণ করা হবে।

রোগীদের সেবায় আনা হবে, মান ও গুণগত পরিবর্তন। পেট্রেশিয়া এফে আজকিয়ে বলেন, গুটিকয়েক অযোগ্য মানুষের জন্য বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জনকারি রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের সামগ্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় না। তবে তিনি মনে করছেন, নতুন একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে একটু সমন্বয়হীনতা থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটা ক্রমান্বয়ে কাটিয়ে উঠা হচ্ছে। জাতিসংঘের অংগ প্রতিষ্ঠান ইউএনএইচসিআর চলমান করোনাভাইরাস সংকটে তাদের মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসাবে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে মাত্র ৪০ দিনে এই হাসপাতালটি নির্মাণ করেছে।

গত ২৭ মে থেকে সেখানে কোভিড-১৯ রোগী ভর্তি দেয়া শুরু হয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক এনজিও রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল উখিয়ার এই আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টারটির পরিচালনা করার দায়িত্ব পায়। ৩৪ টি আলাদা বিভাগে বিভক্ত করে আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টারটি পরিচালনা করা হয়। করোনা ‘পজেটিভ’ হয়ে এখানে গত ২৮ জুন পরিবারের ৭ সদস্যসহ ভর্তি হন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী। সেখানে দেখতে পান, বিভিন্ন বিভাগে চরম অনিয়ম ও সমন্বয়হীনতা। এর প্রতিবাদে ৪ জুন সন্ধ্যায় নিজ সিটেই অনশন শুরু করে দেন তিনি। পরে দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা পর ৬ জুন বেলা ১ টার দিকে রিলিফ ইন্টারন্যাশনালের হেলথ এন্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রাম ম্যানেজার পেট্রেশিয়া এফে আজকিয়ে স্বশরীরে গিয়ে পানি পান করিয়ে আবু সিদ্দিক ওসমানীর অনশন ভাঙ্গিয়েছেন।

তার আগে চরম অব্যবস্থাপনা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়া, ভুল ওষুধ দিয়ে ফাইল গায়েব করা, মেডিকেল যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা ও রোগীদের প্রতি দুর্ব্যবহারের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এতবড় একটি প্রতিষ্ঠানে ডায়াবেটিক মাপার কোন গ্লোকোমিটার নেই।

ব্রেকফাস্টে পানির মতো টলটলে ডাল ও ত্রিপলের মতো মোটা, রোগীদের খাওয়ার অযোগ্য রুটি সরবরাহ দেওয়া হতো। ৭ জুলাই সকাল হতে তা পরিবর্তন করে উন্নতমানের রুটি, ডাল ও অন্যান্য আইটেম রোগীদের দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তন হয় খাবার ম্যানু। ৭ জুলাই থেকে সকল খাদ্য তৈরিতে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে যে উন্নয়ন কাজসমুহ অসম্পূর্ণ ছিলো, তা সম্পন্ন করতে জোরেশোরে নামানো হয়েছে, পর্যাপ্ত শ্রমিক। ওয়াশ ও বাথরুমগুলো আগের চেয়ে অনেক পরিচ্ছন্ন।