Home সর্বশেষ সংবাদ এক্সক্লুসিভ একটি সড়কের নীরব কান্না ও বহু মানুষের দুর্ভোগ

একটি সড়কের নীরব কান্না ও বহু মানুষের দুর্ভোগ

একটি সড়কের নীরব কান্না ও বহু মানুষের দুর্ভোগ

এম এ সাত্তার,
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীস্থ ছনখোলা সংযোগ সড়ক (খুরুস্কুল কুলিয়াপাড়া হইয়ে কক্সবাজার)। পিএমখালী ইউনিয়নের ১,ও ২ নং ওয়ার্ড ও খুরুশকুল ইউনিয়নের একাংশের মানুষের যোগাযোগের সুবিধার কথা চিন্তা করে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে পিএমখালীর বর্তমান চেয়ারম্যান মাস্টার আব্দুর রহিমের প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে নির্মাণে এ সংযোগ সড়কটি মানুষের চলাচল উপযোগী করে তোলা হয় ক্রমান্বয়ে। কক্সবাজার টাউনের লাগোয়া ইউনিয়ন হওয়া সত্ত্বেও ২/৩ টি ইউনিয়ন বাঁকখালী নদীর কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় ৩০ হাজারের অধিক মানুষ যুগ যুগ ধরে নানান দুর্ভোগের মধ্যে ককবাজার টাউনে যাওয়া আসা করতে হতো।

প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের কষ্ট লাঘবে চরম দুর্দিনে তৎকালীন চেয়ারম্যান মাস্টার আব্দুর রহিম অত্র এলাকার মানুষের জন্য দূত হিসাবে এসেছিলেন।আর তিনি এ সংযোগ রাস্তা তৈরির রূপরেখা তৈরি করে ব্যক্তি মালিকানাধীন ধানী জমির উপর দিয়েই রাস্তাটি নির্মাণ করে দেয়ার পর থেকে উক্ত এলাকার মানুষকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

সৌভাগ্যক্রমে এই সংযোগ সড়ক চালু হওয়ার পর থেকে কয়েক যুগ ধরে চলতে থাকা মানুষের দুর্ভোগ কমে আসে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য রাস্তাটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।অতপর বছর বছরে বাড়তে থাকে এ রাস্তার পরিধি।

এরপর থেকে এই সংযোগ সড়কটি সংস্কারের জন্য এলাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ধর্না দিতে হয়। তার পাশাপাশি এলাকার মানুষকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।

এর ফলশ্রুতিতে বিগত বছরের শেষ দিকে প্রথম ধাপে ঘাটকুলিয়া পাড়া হইতে ছনখোলা খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তার পিচ ঢালাইয়ের টেন্ডার হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আসাদ এন্টারপ্রাইজ এ রাস্তা নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেলে চলিত বছরের শুরুতেই নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

জানা গেছে, প্রতিদিন শতশত মানুষের চলাচলের রাস্তায় বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না রেখে ২ টি স্থানে কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। ছনখোলা বাজারের পশ্চিমে রমজানের দোকানের সামনে ১টি ও অন্যটি আলহুদা জামে মসজিদ নামক স্থানে। কালভার্ট নির্মাণের জন্য খুঁড়াখুঁড়ির পর থেকে অনির্দিষ্টভাবে এ রাস্তা ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়।

অত্র এলাকার মানুষের অনেকদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়ার পথে সাময়িক অসুবিধা হলেও বৃহৎস্বার্থে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ও স্কুল, কলেজ , মাদ্রাসা পড়ুয়ারা এ দুর্ভোগের বিষয়ে
কোন অভিযোগ না তুলে কক্সবাজার টাউনসহ অন্যান্য এলাকায় যাওয়া আসা করে প্রয়োজনীয় কাজ সমাধান করে আসছে।

ছনখোলা এলাকার একাধিক মানুষ অভিযোগ করে জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের চলাচলের রাস্তায় বিকল্প অন্য কোন রাস্তার ব্যবস্থা না করে ব্যস্ততম রাস্তাটি কেটে খুঁড়ে ব্লক করে রেখে উক্ত ঠিকাদার কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু করে নামমাত্র কাজ করে ৬/৭ মাস পর্যন্ত উধাও হয়ে গেছে। সম্প্রতি তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ দুর্ভোগ তাদের আর সহ্য হচ্ছে না। এসময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ করে অনেকে বলেন তাদের রাস্তা আগে যেভাবে ছিল তা কাঁচা হলেও ভাল ছিল, রাস্তা পাকা করার নামে দীর্ঘদিনের প্রহসন তারা মেনে নেবে না। তাই তারা দ্রুত গতিতে কাজ করে রাস্তা চলাচল উপযোগী করে দেওয়ার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাছে দাবি জানান।

ছনখোলা বাজারের এক সওদাগর জানায়, ৬/৭ মাস আগে ছোট্ট দুটি পুল বা কালভার্ট নির্মাণের জন্য শতশত মানুষের চলাচলের রাস্তাটি কাটাছেঁড়া করে প্রথমে ২/১ মাস ফেলে রাখেন। এরপর সিসি ঢালাইয়ের কাজ করে প্রায় ৪ মাস পর্যন্ত অলস ফেলে রেখে উধাও হয়ে যান এই ঠিকাদার। এই অবস্থায় এই এলাকার ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার হাজার হাজার পথচারীর দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

এলাকার মানুষের অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন দেখা গেছে, ছনখোলা বাজারের পশ্চিমে কিছুদূর গিয়ে রমজানের দোকানের সামনে একটি ছোট্ট কালভার্টের সিসি ঢালাই শেষে সাইট ওয়াল দেখা গেছে। চলাচলের কোন বিকল্প রাস্তা দেখা যায়নি। যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। কালভার্টের পাশে নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এর কোন লোকজন পাওয়া যায়নি। এর একটু পশ্চিমে মসজিদের সামনে আর একটি কালভার্টের কাজ অসমাপ্ত দেখা গেছে এবং এ কালভার্টের উপরে ঢালাই দেওয়ার জন্য রড বেঁধে রাখতে দেখা যায়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, এ রাস্তা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছে। যেভাবে এই ছোট্র কালভার্ট ২টি করতে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে তারা।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৭ মাস আগে বিকল্প কোন রাস্তার ব্যবস্থা না করে এ রাস্তার যানচলাচল বন্ধ করে দুটি ছোট্ট কালভার্ট তৈরিতে নামে মাত্র ২/১ একদিন কাজ করে চলে যায়। এ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে না পেরে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা কালভার্টের কাজসহ দ্রুত সময়ে শেষ করে সিডিউল অনুযায়ী রাস্তার কাজ শেষ করার জন্য দাবি জানান।

এ বিষয়ে ছনখোলা ১ নং ওয়ার্ডের কৃষকলীগের সভাপতি মোস্তাক আহমদ জানান, পিএমখালী
ইউনিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হচ্ছে ছনখোলা সড়কটি। ঠিকাদারের উচিত ছিল চলমান রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণের জন্য খুঁড়ার আগে পথচারীদের চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরী করে দেয়া। কিন্তু তা না করেই রাস্তায় খাল কেটে দিয়ে ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে হাওয়া হয়ে যাওয়ার ফলে পথচারীদের জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

এ রাস্তা নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার আসাদ এন্টারপ্রাইজ এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে প্রতিবাদ করা শুরু করেছে ভুক্তভোগীরা। মোহাম্মদ আলম নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী স্ট্যাটাসে লিখেন
(হুবহু): কক্সবাজার শহরের একদম সন্নিকটে একটি গ্রাম ছনখোলা। স্বল্প সময়ে অল্প খরছে আসার একমাত্র যে রাস্তাটি ছনখোলার জনগনের টাকায় বার বার সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে জনগন কোনমতে চলাচল করে আসছিল,সেই রাস্তায় ০২টি অতি ছোট্ট কালবার্ট নতুন করার কথা বলে ভেঙ্গে ফেলে আজ প্রায় ৪ মাস সমস্ত কার্যক্রম বন্দ করে জনগনকে যে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে,এই কার্যক্রম অতি তাড়াতাড়ি শেষ করার তাগিদ দেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।।

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আসাদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী আসাদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে মানুষ হেঁটে হেঁটে যাবে বলে জানান সে। এরপর প্রতিবেদক এলাকার মানুষের কষ্ট হচ্ছে, হালকা যানবাহনে যেন চলাচল করতে পারে তাই অন্তত ছোট্ট কালভার্ট ২টির ছাদ করে দেয়ার অনুরোধ করলে ঠিকাদার আসাদ প্রতিবেদকের সাথে দম্ভোত্তি করে আপনি দেন বলে ফোন কেটে দেয়।

এ বিষয়ে অবহিত করা হলে সদর উপজেলার প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন,
কালভার্ট সহ রাস্তার কাজ ২/১ দিনের মধ্যে শুরু হবে। এ ব্যাপারে ঠিকাদারের সাথে কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here