মুহাম্মদ দিদার হোসাইন, বাঁশখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুইঁছড়ি ইউনিয়নের আরবশাহ্ ঘোনার স্লুইসগেইটটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলায় সংস্কারহীন হয়ে পড়ে থাকায় বর্ষার মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই, পূর্ণিমা ও আমাবষ্যার জোয়ারে বাঁধভেঙে পানি বন্দি হয়ে পড়ে ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ।উক্ত স্লুইসগেইটটি সংস্কার না হওয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গাফেলতিকে কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।এটি বাঁশখালী উপজেলার সীমান্তবর্তী পুঁইছড়ি ইউনিয়নের আরবশাহ্ ঘোনায় অবস্থিত। ছনুয়া খাল সংলগ্ন পুইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়ির সাথে পার্শ্ববর্তী পেকুয়া উপজেলার আরবশাহ বাজারের সংযোগ স্লুইসগেইটটি এখন বিকল প্রায়ই। ১৯৮২ সালে নির্মিত আরবশাহ্ ঘোনা নাশি (স্লুইসগেইট) অকেজো হয়ে পড়ায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে। স্লুইসগেইট সংযোগ বেড়ীবাঁধটিও ভেঙে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।এই পরিস্থিতিতে শংকায় জীবন পার করছে দক্ষিণ ও পশ্চিম পুইঁছড়ির প্রায় ১৮ হাজার বসতঘরের বাসিন্দা।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাঁশখালী-পেকুয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী পুইঁছড়ি-টৈটং ইউনিয়ন সংযোগ ছড়ায় পানি চলাচলের জন্য যে কালবার্ট (নাশি) আছে তা কয়েক বছর ধরে সংস্কার বিহীন পড়ে থাকায় স্বাভাবিকভাবে পানি চলাচল করতে অক্ষম হওয়ায় বৃষ্টির মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানিতে দক্ষিণ পুইঁছড়ির ডাকাতিয়া ঘোনা, পন্ডিতকাটা ও সিকদার পাড়ার লোকজন পানি বন্ধি থাকে। এতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে নেমে আসে স্থবিরতা। ক্ষেতের ফসলি জমি তলিয়ে যায় পানিতে। প্রতিবছর ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষক ও ক্ষেইত্যেলাসহ খেটে খাওয়া মানুষের আরবশাহ্ ঘোনা স্লুইস গেইট দ্রুত সংস্কার করা না হলে বর্ষামৌসুমে তলিয়ে যাবে পূঁইছড়ির পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চল এমনটাই তাদের আশংকা।
৪ অক্টোবর(রবিবার)দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আরবশাহ ঘোনা স্লুইস গেইটটি প্রায়ই অকেজো হয়ে পড়েছে।এটির উভয় পাশের বেড়ীবাঁধটি ধীরে ধীরে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়াতে প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জোয়ারের স্রোতে যে কোন সময় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করার আশংকা রয়েছে।ওই স্লুইসগেইট ও সংলগ্ন বেড়ীবাঁধ মেরামত করা না হলে পশ্চিম পুঁইছড়ির সাথে পার্শ্ববর্তী পেকুয়া উপজেলার আরবশাহ্ বাজারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। পুঁইছড়ির নির্মাঞ্চল তলিয়ে যাবে। এতে মাছের ঘোনা, চাষের ফসলি জমি সহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা রয়েছে।
স্থানীয় মুহাম্মমদ এশফাকুর রহমান,আজিজুল হক সওদাগর, আবু তাহের, বাবুল চৌধুরীর সাথে কথা বলে জানা যায়, স্লুইস গেইট না থাকার কারণে গেলো বর্ষামৌসুমে সপ্তাহ জুড়ে টানাবৃষ্টির ফলে পেকুয়া-বাঁশখালীর সীমান্তবর্তী পুঁইছড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ পুইঁছড়ীর ৩নম্বর ওয়ার্ডের ডাকাতিয়া ঘোনা, পন্ডিতকাটা ও সিকদার পাড়ার প্রায় ২ হাজারের অধিক জনসংখ্যার ৫শতাধিক বসতঘর পানিবন্ধি হয়ে পড়েছিল।
পুইছড়ি ইউনিয়নের স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুহাম্মদ কামাল দৈনিক সকালের সময় প্রতিনিধিকে জানান,সীমান্তবর্তী সংযোগ কালবার্ট হওয়ার কারণে কেউ কালবার্টের সঠিক সংস্কারের জন্যে এগিয়ে না আসায় জোয়ারের সময় পানি ঢুকে আর পাহাড়ী ঢলে পানি নিঃস্কাশনে বাঁধার ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়। এতে দূর্ভোগ পোহাতে হয় ওই এলাকার জনসাধারণকে।
এ নিয়ে বেশ কয়েকবার (পাউবো)র কতৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও তাদের কোন ধরনের ছাড়া মিলছেনা, তাই স্থানীয়রা ওই স্লুইসগেইটটি সংস্কারহীন হয়ে পড়ে স্বাভাবিক পানি চলাচলে বিঘ্ন ঘটা এবং উভয় পাশের সংলগ্ন বেড়ীবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম গাফেলতি।সংসস্কারের কোন আশার আলোই দেখছেনা ওই এলাকার বাসিন্দারা। সরকারের কাছে পুঁইছড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি দ্রুত স্লুইসগেইট ও দু’পাশের সংলগ্ন বেড়ীবাঁধ সংস্কার করা। এই ব্যাপারে ওই এলাকার রোটারিয়ান মুবিনুল হক মুবিন সকালের সময় প্রতিনিধিকে জানান, স্লুইস গেইট সংলগ্ন বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে গেছে। যে কোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশংকা দেখে আমি নিজের অর্থায়নে বাঁধ নির্মাণে সহায়তা করি। সোমবার শ্রমিক দিয়ে বড় কোন দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে মাটিভরাটের ব্যবস্থা করি।
তিনি আরো বলেন,আমি অস্থায়ীভাবে সাপোর্ট দিয়েছি মাত্র। স্লুইসগেইট নির্মাণ ও বাঁধ সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকবার (পাউবো)কে অবহিত করলে তারা দ্রুত সংস্কার করবে বলে আশ্বস্থ করেন।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রকাশন চাকমা জানান,বাঁশখালীর উপকূলীয় পুঁইছড়ি আরবশাহ্ ঘোনা স্লুইসগেইট অকেজো হয়ে পড়া এবং সংলগ্ন বেড়ীবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার বিষয়ে অবগত হয়েছি। তাৎক্ষণিক কোন বরাদ্দ না থাকায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছেনা। স্লুইস গেইট নির্মাণ ও বাঁধ সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই সংস্কার করা হবে বলেও জানান তিনি।