চট্টগ্রাম ট্রিবিউন রিপোর্ট:
২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের আজ বেহাল দশা। সেশন জটের কবলে পড়া এই শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের এ নিয়ে বর্তমানে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত আজ অবধি মোট ৮ টি ব্যাচ কিন্তু এখনো পর্যন্ত মাত্র ১টি ব্যাচ যথাক্রমে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছে ও ১টি ব্যাচ অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে পরে আছে। তাছাড়া এই ইন্সটিটিউটে রয়েছে শিক্ষক স্বল্পতা। বর্তমানে আরও ৬ টি ব্যাচ ইন্সটিটিউটের শিক্ষকদের অবহেলা এবং করোনা মহামারির কারণে হামাগুড়ি দিচ্ছে। এক একটি ব্যাচ এক ইয়ারের কোর্সে দুই থেকে আড়াই বছর পার করছে। কিন্তু এই নিয়ে শিক্ষকদের নেই কোন মাথা ব্যথা।
জানা গেছে, করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হতে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে ১৫ জিবি করে ডাটা সবার মোবাইলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে , এ সুবাদে অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট, ইন্সটিটিউটে শিক্ষার্থীরা সবাই যথারীতি ক্লাস করছে। কিন্তু এই দিকে শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের কোন খবর নেই। সপ্তাহে একাধিক ক্লাস হওয়ার কথা থাকলে তাতে কোন সাড়া নেই। ২ বছর পার হয়ে গেলেও অনেকগুলো কোর্স এখনো শুরুও করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন,৪৩ তম বিসিএস এর সার্কুলার চলে যাচ্ছে কিন্তু দুর্ভাগ্যের কারণে আমরা আই.ই.আরের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারছি না। অনেকের বয়স ৩০ এর কাছাকাছি, আবার অনেকের অবস্থা অনার্স-মাস্টার্স শেষ করতে করতে ৩০ হয়ে যাবে। এই রকম চললে এইসব শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা নিয়ে সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী ও কর্তৃপক্ষের কোন চিন্তন আছে বলে আদৌ মনে হয় না।এমন পরিস্থিতিতে বড় হতাশার মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। আবার কারো রেজাল্ট, কারো বা ভাইভা এইসব নিয়ে চিন্তা আর হতাশায় দিন পার করছে অনেক শিক্ষার্থীরা। আমরা অবিলম্বে শিক্ষকদের কাছে এইসব জট থেকে মুক্তি পেতে এবং আমাদের ভবিষ্যতের কথা একটু চিন্তা করে শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপ হবার আগে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।