বাঁশখালীতে অবৈধ বালু বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সদস্যরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১ ৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুহাম্মদ দিদার হোসাইন,
বাঁশখালী(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ বালু বাণিজ্য প্রতিযোগিতার পাল্লায় অবৈধ বালু ব্যবসায়ী প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সদস্যরা।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আইনের তোয়াক্কা না করেই দিন দুপুরে প্রভাব খাটিয়ে বাঁশখালীর বিভিন্ন ছড়া ও নদী থেকে প্রতিযোগিতা মুলক বালু উত্তোলন করছে বালুখেকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা। উপজেলাধীন পুকুরিয়া ইউনিয়নের বরুমচড়া ও সাধনপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বৈলগাঁও এলাকার শঙ্খনদী হতে এবং বৈলছড়ির অভ্যারখীল, চাম্বল ও পুঁইছড়িতে পাহাড়ি ছড়া থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে প্রভাবশালী অবৈধ বালু খেকো সিন্ডিকেট সদস্যরা।

ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেট সদস্যদের গ্রেফতারের জন্যে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকবার ওইসব অসাধুদের নগদ অর্থ জরিমানা করা হলেও অভিযানের কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারো বালু তোলার প্রতিযোগিতায় নামে তারা। এই বালু গুলো প্রতি গাড়ী ১৫ থেকে ১৮শ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানায় পুকুরিয়া এলাকার স্থানীয় জনসাধারণ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার এক লোক বলেন,যারা বালু উত্তোলন করে তারা প্রভাবশালী হাওয়াতে স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে কিছু সাহস পায়না।এখানে তাদের অনেক চামচা রয়েছে,কে কি বলে না বলে সব কান পেতে শুনে থাকে,পরে সব কথা তাদের কাছে গিয়ে বলে আসে,তখন ওইসব বালু বাণিজ্য সিন্ডিকেট সদস্যরা আমাদের উপর ক্ষেপে যায়।

এমনকি আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে মামলায় ঝড়ানোর হুমকিও দিয়ে থাকে,তাই তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেনা বলেও জানান তিনি। মামলা ও জরিমানা করেও থামানো যাচ্ছেনা ওইসব বালু খেকোদের।

২০ জানুয়ারি(বুধবার) সকালে উপজেলার পুকুরিয়া,পশ্চিম বৈলগাঁও ও বৈলছড়ি পাহাড়ি এলাকায় সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, শঙ্খনদীর পুকুরিয়া ও পশ্চিম বৈলগাঁও অংশে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে।

এ সময় স্থানীয়দের কাছ জানতে চাইলে তারা জানান, পশ্চিম বৈলগাঁও অংশে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নিজাম উদ্দীন নামের এক যুবক বালু উত্তোলন করছে। সে ওই এলাকার ২নং ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলামের পুত্র বলেও জানান তারা। অপরদিকে পুকুরিয়ার বরুমচড়া এলাকায় শঙ্খনদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মুজিবুর রহমান।

স্থানীয়রা জানান, মুজিবুর রহমান এলাকার একজন ইউপি সদস্য হওয়া স্বত্বেও এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলকারী রাস্তা ও বেড়িবাঁধ কেটে মাঠির নিচে পাইপ বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। বিগত কিছুদিন আগেও উপজেেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ওই ইউপি সদস্যের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেছে। শঙ্খনদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি ও বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একই ভাবে বৈলছড়ির অভ্যারখীল নামক পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একই স্থানে পর পর ৬টি অবৈধ বালু মহাল রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে এই অবৈধ বালু মহাল পরিচালনা করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন লেবাজধারী রাজনৈতিক নেতাও রয়েছে বলেও জানান তারা। এদিকে পুঁইছড়ি ইউনিয়নের নাপোড়া এলাকায় সরকারি ভাবে চিহ্নিত একটি স্থানে বালু মহাল থাকলেও ওই এলাকায় আরো বেশ কয়েকটি অবৈধ মহাল রয়েছে।যেই মহাল থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিগত দিনে কয়েকবার জরিমানা আদায় করা হলেও আইনের প্রতি বৃৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শন করে তারা আবারো অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এব্যাপারে পুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আসহাব উদ্দিন বলেন,বালু খেকোরা প্রকাশ্যে শঙ্খনদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে।ওই বালু গুলো ডেম্পারের যোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে তারা।বালু পরিবহনের ফলে গ্রামীন সড়ক গুলো ভেঙে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এমনকি বালু খেকোরা রাস্তা কেটে ড্রেজার মেশিনের পাইপ বসিয়েছে। আমি প্রশাসনের নিকট বিষয়টি অবহিত করেছি।

বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুুুহাম্মদ কফিল উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, অভ্যারখীল পাহাড়ি এলাকায় অসংখ্য অবৈধ বালু মহাল রয়েছে। এই বালু মহাল উচ্ছেদের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, সরকারী ভাবে শুধু মাত্র পু্ঁইছুড়ি ইউনিয়নের নাপোড়া এলাকার পূর্ব নাপোড়া নির্দিষ্ট একটি স্থানে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে।এর বাইরে কেউ বালু উত্তোলন করলে তা অবৈধ।

ইতিমধ্যে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ইতিমধ্যে পুকুরিয়া ও পুঁইছড়িতে বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। নতুন ভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানা গেছে।আইন অমান্যকারী বালু খেকোদের কোন অবস্থাতেই ছাড় দেয়া হবেনা। শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আবারো অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাঁশখালীতে অবৈধ বালু বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সদস্যরা

আপডেট সময় : ০৩:৫২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১

মুহাম্মদ দিদার হোসাইন,
বাঁশখালী(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ বালু বাণিজ্য প্রতিযোগিতার পাল্লায় অবৈধ বালু ব্যবসায়ী প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সদস্যরা।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আইনের তোয়াক্কা না করেই দিন দুপুরে প্রভাব খাটিয়ে বাঁশখালীর বিভিন্ন ছড়া ও নদী থেকে প্রতিযোগিতা মুলক বালু উত্তোলন করছে বালুখেকো সিন্ডিকেটের সদস্যরা। উপজেলাধীন পুকুরিয়া ইউনিয়নের বরুমচড়া ও সাধনপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বৈলগাঁও এলাকার শঙ্খনদী হতে এবং বৈলছড়ির অভ্যারখীল, চাম্বল ও পুঁইছড়িতে পাহাড়ি ছড়া থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে প্রভাবশালী অবৈধ বালু খেকো সিন্ডিকেট সদস্যরা।

ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেট সদস্যদের গ্রেফতারের জন্যে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকবার ওইসব অসাধুদের নগদ অর্থ জরিমানা করা হলেও অভিযানের কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারো বালু তোলার প্রতিযোগিতায় নামে তারা। এই বালু গুলো প্রতি গাড়ী ১৫ থেকে ১৮শ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানায় পুকুরিয়া এলাকার স্থানীয় জনসাধারণ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার এক লোক বলেন,যারা বালু উত্তোলন করে তারা প্রভাবশালী হাওয়াতে স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে কিছু সাহস পায়না।এখানে তাদের অনেক চামচা রয়েছে,কে কি বলে না বলে সব কান পেতে শুনে থাকে,পরে সব কথা তাদের কাছে গিয়ে বলে আসে,তখন ওইসব বালু বাণিজ্য সিন্ডিকেট সদস্যরা আমাদের উপর ক্ষেপে যায়।

এমনকি আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে মামলায় ঝড়ানোর হুমকিও দিয়ে থাকে,তাই তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেনা বলেও জানান তিনি। মামলা ও জরিমানা করেও থামানো যাচ্ছেনা ওইসব বালু খেকোদের।

২০ জানুয়ারি(বুধবার) সকালে উপজেলার পুকুরিয়া,পশ্চিম বৈলগাঁও ও বৈলছড়ি পাহাড়ি এলাকায় সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, শঙ্খনদীর পুকুরিয়া ও পশ্চিম বৈলগাঁও অংশে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে।

এ সময় স্থানীয়দের কাছ জানতে চাইলে তারা জানান, পশ্চিম বৈলগাঁও অংশে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নিজাম উদ্দীন নামের এক যুবক বালু উত্তোলন করছে। সে ওই এলাকার ২নং ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলামের পুত্র বলেও জানান তারা। অপরদিকে পুকুরিয়ার বরুমচড়া এলাকায় শঙ্খনদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মুজিবুর রহমান।

স্থানীয়রা জানান, মুজিবুর রহমান এলাকার একজন ইউপি সদস্য হওয়া স্বত্বেও এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলকারী রাস্তা ও বেড়িবাঁধ কেটে মাঠির নিচে পাইপ বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। বিগত কিছুদিন আগেও উপজেেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ওই ইউপি সদস্যের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেছে। শঙ্খনদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি ও বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একই ভাবে বৈলছড়ির অভ্যারখীল নামক পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একই স্থানে পর পর ৬টি অবৈধ বালু মহাল রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে এই অবৈধ বালু মহাল পরিচালনা করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন লেবাজধারী রাজনৈতিক নেতাও রয়েছে বলেও জানান তারা। এদিকে পুঁইছড়ি ইউনিয়নের নাপোড়া এলাকায় সরকারি ভাবে চিহ্নিত একটি স্থানে বালু মহাল থাকলেও ওই এলাকায় আরো বেশ কয়েকটি অবৈধ মহাল রয়েছে।যেই মহাল থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিগত দিনে কয়েকবার জরিমানা আদায় করা হলেও আইনের প্রতি বৃৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শন করে তারা আবারো অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এব্যাপারে পুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আসহাব উদ্দিন বলেন,বালু খেকোরা প্রকাশ্যে শঙ্খনদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে।ওই বালু গুলো ডেম্পারের যোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে তারা।বালু পরিবহনের ফলে গ্রামীন সড়ক গুলো ভেঙে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এমনকি বালু খেকোরা রাস্তা কেটে ড্রেজার মেশিনের পাইপ বসিয়েছে। আমি প্রশাসনের নিকট বিষয়টি অবহিত করেছি।

বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুুুহাম্মদ কফিল উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, অভ্যারখীল পাহাড়ি এলাকায় অসংখ্য অবৈধ বালু মহাল রয়েছে। এই বালু মহাল উচ্ছেদের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, সরকারী ভাবে শুধু মাত্র পু্ঁইছুড়ি ইউনিয়নের নাপোড়া এলাকার পূর্ব নাপোড়া নির্দিষ্ট একটি স্থানে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে।এর বাইরে কেউ বালু উত্তোলন করলে তা অবৈধ।

ইতিমধ্যে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ইতিমধ্যে পুকুরিয়া ও পুঁইছড়িতে বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। নতুন ভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানা গেছে।আইন অমান্যকারী বালু খেকোদের কোন অবস্থাতেই ছাড় দেয়া হবেনা। শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আবারো অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।