মুহাম্মদ দিদার হোসাইন,
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরলইউনিয়নে লবণ উৎপাদনকারী উপকূলীয় বহুমুখী সমবায় সমিতির উদ্যোগে লবণের ন্যায্য মূল্য ও লবণ চাষীদের সহায়তা প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) সরল ইউনিয়নের অনাবাদি পড়ে থাকা লবণ মাঠে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন লবণ উৎপাদনকারী উপকূলীয় বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি সালাউদ্দীন কাদের মানিক।
এ সময় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, লবন চাষী নুরুল কাদের, ইসমাইল মেম্বার, বজল আহমদ, রাশেদ, মনির উদ্দীন, কবির আহমদ, নবী হোছন, নাছির, মনির আহমদ, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. ইদ্রিছ, মো. আবদু ছবুর, মো. আবু তালেক ও মো. জসিম উদ্দীন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, লবণ চাষীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের উন্নয়ন কল্পে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে লবণ উৎপাদন করেন। কিন্তু সেই পরিশ্রমের সুফল লবণ চাষীরা পাননা লবণ উৎপাদনকারীরা। লবণের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চাষীরা লবণ চাষ করতে অনিহা প্রকাশ তাঁরা। বিগত দু’য়েক বছর পূর্বে প্রতি কানি (৪০ শতক) যে লবণ মাঠ বাৎসরিক ২৫-৩০ হাজার টাকায় লাগিয়ত হিসেবে জমি মালিকরা পেতো তা বর্তমানে ৫-৬ হাজার টাকায় লাগিয়ত হয়। প্রতিমণ লবণ তোলা এবং ধোলাই খরচ বাবদ ১৫০-১৮০ টাকা খরচ হলেও চাষীদের প্রতিমণ লবণের মূল্য পায় ৮০-১৩০ টাকা। বাঁশখালীর সরলে প্রায় আড়াই হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়ে থাকে। লবণের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় বর্তমানে প্রায় জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে। তাছাড়া লবণ চাষীরা সরকারী সুযোগ সুবিধা (সহায়তা) পাচ্ছেন না বলেও জানান তারা।
একদিক দিয়ে লবণ সরকারি সহায়তা বঞ্চিত অন্য দিকে উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্যও না পাওয়ার ফলে লবণ চাষীরা দিনদিনই উৎপানে আগ্রহ হারাচ্ছে। তাই উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য ও সুবিধা বঞ্চিত চাষীদের সরকারি তরফ থেকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করে লবণ উৎপাদন মূখি করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান মানববন্ধনকারীরা।
নীচে মানববন্ধনের ছবি: