উপকূলীয় অঞ্চলবাসীদের স্বজন হারানোর সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল আজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২১ ৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুহাম্মদ দিদার হোসাইন,
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলীয় অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের স্বজন হারানোদের হৃদয় কাঁপানোর স্মরণীয় দিনটিই হলো ভয়াল সেই ১৯৯১ সনের ২৯ এপ্রিল।

এদিনে ১৯৯১ সনের প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার বেগে বয়ে আসা ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়েছিল পুরো উপকূলীয় অঞ্চল।

জলোচ্ছাসে প্রায় ১০/১২ ফুট উচ্চতায় প্লাবিত হয়ে সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়েছিল বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল গুলো। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার লোক প্রাণ হারান। তাছাড়া প্রায় ১ কোটি মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে ঠাই নিয়েছিল লাখ লাখ নারী পুরুষ। স্বর্বস্ব হারিয়ে হাজার হাজার কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল লাখ লাখ পরিবার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়, চট্টগ্রামের বাঁশখালী,আনোয়ারার,সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের চকরিয়া, মহেশখালী কুতুবদিয়া উপজেলার ও ভোলা, হাতিয়ার মানুষ।প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ এই ঘূর্ণিঝড়ের ৩০ বছর অতিবাহিত হলেও বৃহত্তর চট্টগ্রামের উপকূলবাসী এখনো অরক্ষিত অবস্থায় জীবন যাপন করছে।সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল উপকূলবাসীর বেদনার দিন হিসেবে সবার কাছে পরিচিত এই দিনটি।
স্বজন হারানোর শোকে পাথর হয়েছিল লাখ লাখ মানুষের অন্তর। কাঁদতেও ভুলে গিয়েছিলেন তাঁরা।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মহামারী করোনা ভাইরাস সংকট। প্রতি বছর এ দিনটি পালন উপলক্ষে বৃহত্তম চট্টগ্রামে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন থাকলেও এবারে কোনো কিছুই থাকছে না। স্বজনহারা মানুষগুলো বাড়িতে ফাতিহা আর দোয়া ছাড়া কিছু করতে পারছে না।

পরিস্থিতির কারণে স্বজনহারা মানুষগুলো বাড়িতে ফাতিহা ও দোয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারছেনা।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি। শিশু সহ নারী পুরুষ প্রাণ হারান। লাখ লাখ গবাদি পশু ও ঘর ঘর বাড়ি সহ হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়েছিল। ভয়াবহ সেই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বাঁশখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের গণ্ডামারা, সরল, ছনুয়া, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, শেখেরখীল, এলাকায় গুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছিল।

বর্তমানে উপকূলীয় এলাকায় ১১৮টি স্কুল কমিউনিটি সেন্টার (আশ্রয় কেন্দ্র)’র মধ্যে ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্র নদী গর্ভে বিলীন ও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এসব এলাকার লোকজন বলেন, এখনো সেই দিনের শোকের ছায়া কাটেনি আমাদের মন থেকে। বর্তমানেও উপকূলীয় এলাকার অনেক বেঁড়িবাধ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।যার ফলে অমাবস্যা পূর্ণীমার জোরের সময় ও বর্ষার মৌসুমে খোলা চোখে রাত পোহাতে হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের একটাই দাবি, বাঁশখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের অরক্ষিত বেঁড়িবাধ গুলো দ্রুত সংস্কার করে তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উপকূলীয় অঞ্চলবাসীদের স্বজন হারানোর সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল আজ

আপডেট সময় : ১১:০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২১

মুহাম্মদ দিদার হোসাইন,
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলীয় অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের স্বজন হারানোদের হৃদয় কাঁপানোর স্মরণীয় দিনটিই হলো ভয়াল সেই ১৯৯১ সনের ২৯ এপ্রিল।

এদিনে ১৯৯১ সনের প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার বেগে বয়ে আসা ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়েছিল পুরো উপকূলীয় অঞ্চল।

জলোচ্ছাসে প্রায় ১০/১২ ফুট উচ্চতায় প্লাবিত হয়ে সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়েছিল বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল গুলো। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার লোক প্রাণ হারান। তাছাড়া প্রায় ১ কোটি মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে ঠাই নিয়েছিল লাখ লাখ নারী পুরুষ। স্বর্বস্ব হারিয়ে হাজার হাজার কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল লাখ লাখ পরিবার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়, চট্টগ্রামের বাঁশখালী,আনোয়ারার,সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের চকরিয়া, মহেশখালী কুতুবদিয়া উপজেলার ও ভোলা, হাতিয়ার মানুষ।প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ এই ঘূর্ণিঝড়ের ৩০ বছর অতিবাহিত হলেও বৃহত্তর চট্টগ্রামের উপকূলবাসী এখনো অরক্ষিত অবস্থায় জীবন যাপন করছে।সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল উপকূলবাসীর বেদনার দিন হিসেবে সবার কাছে পরিচিত এই দিনটি।
স্বজন হারানোর শোকে পাথর হয়েছিল লাখ লাখ মানুষের অন্তর। কাঁদতেও ভুলে গিয়েছিলেন তাঁরা।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মহামারী করোনা ভাইরাস সংকট। প্রতি বছর এ দিনটি পালন উপলক্ষে বৃহত্তম চট্টগ্রামে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন থাকলেও এবারে কোনো কিছুই থাকছে না। স্বজনহারা মানুষগুলো বাড়িতে ফাতিহা আর দোয়া ছাড়া কিছু করতে পারছে না।

পরিস্থিতির কারণে স্বজনহারা মানুষগুলো বাড়িতে ফাতিহা ও দোয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারছেনা।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি। শিশু সহ নারী পুরুষ প্রাণ হারান। লাখ লাখ গবাদি পশু ও ঘর ঘর বাড়ি সহ হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়েছিল। ভয়াবহ সেই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বাঁশখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের গণ্ডামারা, সরল, ছনুয়া, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, শেখেরখীল, এলাকায় গুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছিল।

বর্তমানে উপকূলীয় এলাকায় ১১৮টি স্কুল কমিউনিটি সেন্টার (আশ্রয় কেন্দ্র)’র মধ্যে ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্র নদী গর্ভে বিলীন ও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এসব এলাকার লোকজন বলেন, এখনো সেই দিনের শোকের ছায়া কাটেনি আমাদের মন থেকে। বর্তমানেও উপকূলীয় এলাকার অনেক বেঁড়িবাধ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।যার ফলে অমাবস্যা পূর্ণীমার জোরের সময় ও বর্ষার মৌসুমে খোলা চোখে রাত পোহাতে হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের একটাই দাবি, বাঁশখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের অরক্ষিত বেঁড়িবাধ গুলো দ্রুত সংস্কার করে তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।