নিজস্ব প্রতিনিধি।
অবিলম্বে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর দেশব্যাপি জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানববন্ধনের অংশ হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
(৩) জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম শহরের প্রবেশদ্বার মইজ্জারটেক চত্বরে মানববন্ধন এই কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটি।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখা সভাপতি মাওলানা মুজাহিদ ছগির আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা রুহুল্লাহ তালুকদারের সঞ্চালনায় মানববন্ধন অংশ নেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সহযোগি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মুজাহিদ ছগির আহমদ চৌধুরী বলেন,দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে এবং একটা সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাটা যৌক্তিক ছিল।
মাঝখানে কওমী মাদরাসা ৮ মাস মত খোলা ছিল।কিন্তু কোন শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত হয়নি।গত এপ্রিল মাস থেকে ফের কওমী মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই) এর ডাকে আজ আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।
তিনি আরও বলেন,শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষক- শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে এর বিকল্প ছিলনা।শিক্ষার্থীরা মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে।অনলাইন ক্লাসের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে হয়েছে স্মার্টফোন। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অশ্লীল ভিডিও,পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেইমসে আসক্ত হয়ে পড়েছে।শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে অনতিবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিন।
পাসপোর্ট থেকে ইসরাইল ব্যতিত শব্দটি বাদ দেওয়ায় সরকারের কড়া সমালোচনা করে মাওলানা ছগির আহমদ চৌধুরী বলেন,ইসরাইল এমন কোন পরাশক্তি হয়ে যায়নি যার কারণে তাদের কেয়ার করতে হবে। তাদেরকে গুরুত্ব দেওয়ার কোন মানে হয়না।তাদের সাথে বাংলাদেশের কোন বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই।সরকারের প্রতি বিনয়ের সাথে আহবান জানাচ্ছি, ফের ইসরাইল ব্যতিত শব্দটি সংযোজন করুন।অন্যথায় এই সরকার ইসরাইল কে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে ধরে নেবে।সংসদে ইসরাইলি বর্বরতার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করুন।
হাফেজ মাওলানা রুহুল্লাহ তালুকদার বলেন,গার্মেন্টস খোলা,লঞ্চ,ট্রেন, গণপরিবহণ সব খোলা কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ।সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে জাতিকে মূর্খ বানানোর পায়তারা করছে কিনা ভেবে দেখা উচিত।গার্মেন্টেস প্রায় ৫৮ লাখ কর্মী কাজ করে।তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই নেই।কিন্তু করোনার অজুহাতে সরকার ১৫ মাস ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রেখেছে।বিশ্বের কোন দেশে এত দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়নি।আর কোন নাটক নয়,শীঘ্রই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিন।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন,মাওলানা সাঈফুদ্দীন দৌলতপুরী,মাওলানা আতাউল্লাহ ইসলামাবাদী,মাওলানা আনোয়ার,মাওলানা হাবিব উল্লাহ,মাওলানা ফরিদ,মাওলানা হিফজুর রহমান,মাওলানা আব্দুল্লাহ ইয়াকুব, মাওলানা হাফেজ আরিফ উদ্দিন,নুর আহমেদ সিদ্দিকী,মুহাম্মাদ নেজাম উদ্দিন তালুকদার, মুহাম্মদ নোমান,পুলিশ কর্মকর্তা জনাব জাফর আহমদ প্রমুখ।
পরে মুনাজাতের মধ্যদিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।