Home আমার চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম জেলা আদালতে মিথ্যা মামলা ও চেয়ারে ঘুমিয়ে কানংগোর রিপোর্টে বিব্রত জমি মালিক!

আদালতে মিথ্যা মামলা ও চেয়ারে ঘুমিয়ে কানংগোর রিপোর্টে বিব্রত জমি মালিক!

আদালতে মিথ্যা মামলা ও চেয়ারে ঘুমিয়ে কানংগোর রিপোর্টে বিব্রত জমি মালিক!

মুহাম্মদ দিদার হোসাইন,
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জায়গার মালিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে হয়রানি ও সরেজমিনে তদন্ত না করেই অফিসে বসেই কানংগোর প্রতিবেদন(রিপোর্ট)কোর্টে প্রেরণের অভিযোগ উঠেছে।

গত মঙ্গলবার উপজেলাধীন সরল ইউপিস্থ জালিয়াঘাটার ভাদালিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের কানংগোখিল এলাকার মৃত্যু আব্দুল কাদেরের পুত্র মুহাম্মদ আবুল কাশেম ঘটনার বিষয়টি প্রতিবেদককে অবিহিত করে বলেন,আমরা দুই ভাই,আবুল কাশেম ও মোহাম্মদ হাসান খরিদা সুত্রে বি.এস ৯৭৯ নং খতিয়ানের ২৯১২ নং বি.এস দাগের দুইটি কবলা মূলে ৩ গণ্ডা ৩ কড়া জমির মালিক হইয়া দুজনেই শান্তিপূর্ণ ভাবে দীর্ঘদিন ধরেই ভোগদখলে আছি। তৎমধ্যে মোহাম্মদ হাসান এর প্রাপ্য অংশের আরো অতিরিক্ত অংশ জবর দখলসহ দুইটি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করিয়া ভোগ দখলে থাকা সত্বেও আমার প্রাপ্য অংশে দোকান নির্মাণ কাজ করিলে ওই নির্মাণ কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করার জন্যে উদ্যোশ্য প্রণোদিত ভাবে আমার ভাই মোহাম্মদ হাসান এর পালক পুত্র মাহমুদুল ইসলাম তার দুই নাবালক ছেলের জায়গাতে জোর পূর্বক দোকান নির্মাণ করিতেছি মর্মে মিথ্যা অভিযোগে আদালতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২১ ইং তারিখে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (দক্ষিণ) চট্টগ্রাম (বাঁশখালী) মিছ ৩৫৩/২১ ইং মামলা দায়ের করে।

বাঁশখালী ভুমি অফিস থেকে আমাদের কাছে কোন ধরনের নটিশ প্রদান করা হয়নি এমনকি অফিস থেকে সরেজমিনে কেউ কোন ধরনের তদন্ত করতেও আসেনি।কিন্তু বিগত কয়েকদিন থেকে মামলার বাদী মাহমুদুল ইসলাম এলাকার কয়েকজন মানুষের সামনে মামলাটি তার পক্ষে বাঁশখালী ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কানংগো নাকি তার পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছে। এমন খবর শুনে খুবই হতাশ হয়ে পড়েছে জমি মালিক আবুল কাশেম।

তিনি আরো বলেন, মামলার বিষয়ে কানংগো কিংবা অন্য কেউ ভুমি অফিস থেকে সরেজমিনে তদন্ত করতে আসেনি কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট কিভাবে দিয়েছে কানংগো? একজন সরকারি অফিসের কর্মকর্তা (কানংগো) তিনি কোন প্রকার তদন্ত ছাড়াই এই রিপোর্ট প্রদান করা সত্যিই দুঃখজনক বললেন আবুল কাশেম।এই রিপোর্ট সম্পূর্ণ মিথ্যা ও তদন্ত বিহীন, তাই জমি মালিক আবুল কাশেম এই প্রতিবেদনের পূণরায় তদন্তের দাবিও।

ভূমি অফিস কতৃপক্ষ কোন তদন্তে আসেনি এবং আমাদেরকে একটাবারও অবহিত করেননি।তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন লোকদের কাছে ঘটনাটি শুনতে পেয়ে পরে কোর্ট থেকে তদন্ত রিপোর্টটি আমরা নিয়ে দেখি যে ভূমি অফিসের কানংগো কোন ধরনের তদন্ত না করেই বাদীর জায়গাতে আমাদের দুইটি পিলার স্থাপন করেছি বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। মূলত আমাদের জায়গাতেই আমরা দোকান নির্মাণ করিতেছি, কিন্তু কানংগো মমং মগ কোন ধরনের তদন্ত না করেই হয়তো টাকার বিনিময়ে বাদীর পক্ষে রিপোর্ট দিয়েছে।

কানংগো’র সরেজমিনে তদন্ত বিহীন এমন প্রতিবেদনে জায়গার মুল মালিক আবুল কাশেম সহ তার পরিবারের সদস্যরা বিব্রত হয়ে পড়েছে। তাঁরা এধরনের তদন্ত বিহীন প্রতিবেদনটি পুণরায় সরেজমিনে তদন্ত দাবিও জানান ভূক্তভোগি পরিবারের সদস্যরা।

পরিদর্শনকালে স্থানীয়রা জানান,অভিযুক্ত জায়গা আবুল কাশেম ও তার ভাই মোহাম্মদ হাসান খরিদা সুত্রে মালিক হইয়া উভয়জন ভোগদখলে আছে।মোহাম্মদ হাসান এর প্রাপ্ত অংশের কিছু জমি তিনি নিজেই স্থানীয় একজনকে বিক্রি করেছেন, বাকি অংশে তাহার পালক পুত্র মাহমুদুল ইসলাম দোকান নির্মাণ করিয়া বর্তমানেও ভোগদখলে আছে বলেও জানান তারা।এই ব্যাপারে ভুক্তভোগী আবুল কাশেম এর পুত্র হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার পিতা আবুল কাশেমের প্রাপ্ত অংশে দোকান নির্মাণ করার জন্যে হারুন বাজারের (বাজার কমিটির সভাপতি) মাহফুজুর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম (আবু),বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলে জানা যায় যে,জায়গার মালিক আবুল কাশেম ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোক্ত করে মাহমুদুল ইসলাম আদালতে যে মামলাটি করেছে তা বিবাদীদের হয়রানির জন্যে করেছে। কারণ জায়গাটি পরিমাপ করে আমরা স্থানীয় গণ্যমান্যরা দোকান নির্মাণের জন্যে খুঁটি নির্ধারন করে দিয়েছি। সেই অনুযায়ী তারা দোকান নির্মাণ কাজ করছেন।

এরই মধ্যে মোহাম্মদ হাসান এর পালক পুত্র মাহমুদুল ইসলাম তার দুই নাবালক ছেলের জায়গাতে দোকান নির্মাণ করিতেছে মর্মে আদালতে মিথ্যা অভিযোগ করে নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়ের করে কাজ বন্ধ করে দেয়ার যে পায়তারা করছে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক বলেও জানান স্থানীয়রা।মাহমুদুল ইসলাম হঠাৎ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কেন তার নাবালক ছেলের জায়গাতে বিবাদীরা জোরপূর্বক দোকান নির্মাণ করিতেছে মর্মে মিথ্যা অভিযোগে আদালতে যেই মামলা দায়ের করেছে তা নিয়ে এলাকায় মানুষের মূখে মূখে এক ধরনের আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় ও হারুনবাজারস্থ কয়়েক ব্যবসায়ী বলেন, এই জায়গার মুুল মালিক ওই এলাকার মৃত্যু আব্দুল কাদের এর দুই পুত্র মুহাম্মদ হাসান ও আবুল কাশেম। ভোগদখলেও স্থিত আছেন তারা।এরই মধ্যে মুহাম্মদ হাসান এর পালক পুত্র মাহমুদুল ইসলাম তার দুই নাবালক ছেলের জায়গা বলে দাবি করতেছে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও গায়ের জোরে করছে বলেও জানান তারা। তাঁরা বলেন, প্রকৃত পক্ষে অভিযুক্ত জায়গার মালিক বিবাদী আবুল কাশেম‌। কিন্তু মামলার বাদী দুই নাবালকদের পিতা মাহমুদুল ইসলাম (ইয়াবা মনতাইজ্যা)’র কেউ মূখ খোলছেনা বলেও জানান তারা।

বিবাদী শহিদুল ইসলাম বলেন,আমার পিতা আবুল কাশেম ও আমার বড় আব্বা মোহাম্মদ হাছান যৌথভাবে জায়গাটি খরিদ করেন,,সেই মতে শান্তি পূর্ণ ভাবে আমাদের এবং আমার বড় আব্বা ভোগ দখলে নিয়োজিত আছি।

বর্তমানে আমার বড় আব্বা তাহার প্রাপ্যাংশের এক/দেড় কড়া জমি অপরজনের নিকট বিক্রি করে দিয়ে বাকী অংশটি তার পালক পুত্র মাহমুদুল ইসলাম এর দুই নাবালক ছেলের বরাবর দানপত্র করে দিলে পালক পুত্র মাহমুদুুল ইসলাম আরো। প্রায় এক/দেড় কড়়া জায়গা অতিরিক্ত জবরদখল করে রেখেছে। যেটা স্থানীয় গণ্যমান্য মানুষের পরিমাপকালে সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে বলেও জানান শহিদুল। অতিরিক্ত দখল থাকা সত্ত্বেও আমাদের দখলীয় দোকান ভিটায় নিজস্ব অর্থায়নে দোকান নির্মাণ কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগে করছে। মুলত উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আমাদের হয়রানি করার মানসে আদালতে মিথ্যা অভিযোগে আমাদের বিরুদ্ধে এই মামলা করেছে বলে দাবি আবুল কাশেম।

ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মমং মগ (কানংগো)’র অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানি থেকে কবে মুক্তি পাবে? গণ্ডামারা, বড়ঘোনা, শিলকূপ,চাম্বল,শেখেরখীল ও সরলসহ বাঁশখালীর নিরীহ মানুষ। গণ্ডামারা, বড়ঘোনা,শিলকূপ,সরল এলাকার জাহাঙ্গীর আলম, ইউনুস মিয়া,জিকির আহমদ,নুর জাহান,হাসিনা বেগম,ফরিদ আহমেদ, কামাল হোসেন সহ ভূক্তভোগিরা গত বুধবার ভূমি অফিসের সামনে ফাইল হাত নিয়ে বলেন, বাঁশখালী ভুমি অফিসের হয়রানি ও ভোগান্তি থেকে মানুষ রেহাই পাবে কবে? একজনের জমি টাকার বিনিময়ে অন্যজনের নামে জমা ভাগ(নামজারি) খতিয়ান সৃজন করা এবং জমি মালিক পক্ষ নিজের নামে জমি নামজারি খতিয়ান করতে গেলে দালাল খপ্পরে পড়ে হাবুডুবু খাওয়া ও মোটা অংকের টাকা প্রদান সহ নানান হয়রানি থেকে ওভাই সাংবাদিক আঁরা মুক্তি পাইয়্যূমনা?এমন প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রতিবেদক।

রবিবার বাঁশখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিস জলদিতে গেলে দেখা যায়, সরকারী ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ পদের একটি চেয়ারে বসে দায়িত্বের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি পোষণ করে নিশ্চিন্তাই আরামে ঘুম পারাচ্ছে মমং মগ (কানংগো) মহাশয়। তার এমন আরামদায়ক ঘুমের মধ্যে একটু ডিস্টার্ব করে অভিযোগকারী আবুল কাশেম এর মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে দৈনিক সকালের সময় পত্রিকা প্রতিনিধিকে তিনি বলেন, এটা রিপোর্ট পাঠাই দিছি। তদন্ত ছাড়া নাকি তদন্ত করে পাঠাইছেন তা জানতে চাইলে প্রাথমিক তিনি তদন্ত করেছেন বললেও পরে একবার বলছেন যে লকডাউন কালে অফিসের নিয়ম অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে, আবার বলেন মামলার বিবাদীরা যদি প্রতিবেদনটির বিরুদ্ধে নারাজি দেন তাহলে সেটা পুনরায় অফিসে চলে আসবে তখন এটা ঠিক করে দেয়া হবে বলেও জানান মমং মগ।কতৃপক্ষের নিকট এখন ভূক্তভোগীদের একটাই দাবি (কানংগো)’র এই দূর্নীতি ও অনিয়মের শেখ কোথায়?
এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাজহারুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এধরনের অনিয়মের বিষয়ে ভূক্তভোগীদের কেউ লিখিত অভিযোগ করলে অভিযোক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যেই মামলাটির তদন্ত রিপোর্ট পাঠাই দিয়েছে সেটা পুনরায় তদন্তের জন্যে পাঠালে তিনি সেই রিপোর্টে কোন অনিয়ম হলে তা তদন্তের মাধ্যমে ঠিক করা হবে বলেও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here