মুহাম্মদ জুয়েল, বোয়ালখালী:
বাংলা প্রবাদে আছে— ‘বসতে দিলে খাইতে চায়, খাইতে দিলে শুতে চায়।’ এমন অবস্থায় পরিণত হয়েছে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বভাব। নির্ধারিত ক্যাম্পে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ক্যাম্প থেকে পালিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তেমনি কেউ চাকরির সন্ধানে, কেউ দালালের প্রলোভনে, কেউ আবার ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজনের আহ্বানে বোয়ালখালীতে পালিয়ে এসেছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কম মজুরীতে রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে লেবু বাগানের কাজসহ বিভিন্ন কাজ করাচ্ছে অনেকে। আর এজন্য অনেকে হয়েছেন মামলার শিকার।
জানা যায়, বোয়ালখালীতে গত তিনমাসে আটক হয়েছে শতাধিক রোহিঙ্গা।
স্থানীয় নুরুল ইসলাম বলছেন, রোহিঙ্গারা কিভাবে ক্যাম্প থেকে পালাচ্ছে তা না দেখে মিথ্যা মামলা দিয়ে লেবু বিক্রেতা সহ অনেককে হয়রানি করছে প্রশাসন। প্রশাসনের উচিত ছিল তদন্ত করে মামলা দেওয়া।
লেবুর আড়তদার জামাল কোম্পানি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লেবু ব্যবসার সাথে জড়িত। তাই জানা আছে আমাদের বোয়ালখালীতে অনেকদিন ধরে রোহিঙ্গা বসবাস করে আসছে। তারা পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করে। তাদের দিয়ে যেকাজ করা যায় তা স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে সম্ভব না।
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বিষয়ে প্রশাসনকে কেন অবগত করেনি এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহমুদুল করিম বলেন, রোহিঙ্গারা আজ কিংবা কয়েকদিন ধরে এখানে অবস্থান করছে না। তারা ১৯৮৭ সাল থেকে এ কড়লডেঙ্গা লেবু বাগানে বিভিন্ন সময় কাজ করতে আসে এবং চলে যায়।
এ বিষয়ে কড়লডেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হামিদুল হক মান্নান বলেন, ‘রোহিঙ্গা শুধু আমাদের ইউনিয়নে নয়, দেশের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গা রাখা বিষয়ে কোনো রকম অনুমতি না দিলেও লেবু বাগানে কাজ করানোর জন্য কয়েকজন নিয়ে আসে অনেকে। তবে এই অবৈধ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো সহযোগিতা চায় অবশ্যই করা হবে।’
তবে দেশের মধ্যে পর্যাপ্ত শ্রমিক পেলে অবৈধ রোহিঙ্গাদের কাজ না দেওয়ার কথা বললেও বোয়ালখালী-পটিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা মৌলভীবাজারে রোহিঙ্গার বড় একটি অংশ রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এদিকে মৌলভীবাজারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে অবগত নয় বললেও তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মুঠোফোনে জানান পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক রহমান।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম জানান, বোয়ালখালীতে রোহিঙ্গাসহ যেকোনো দেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যদি কেউ নিরাপরাধ হয়ে থাকে তাদেরকে তদন্ত পূর্বক মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।’



