মাসুদা আকতার,বিশেষ প্রতিনিধি:
শেখ রাসেল এ্যাভিয়ারি এন্ড ইকো পার্কটি চট্টগ্রামের নিশ্চিন্তা পুর,হোসনাবান, রাঙ্গুনিয়ার আড়াই কিলোমিটার সবুজ পাহাড়ের ওপর অবস্হিত।চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কোদালা বন বিটের হোসনাবাদ ইউনিয়নের নিশ্চিন্তাপুর রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের কোদালা বনবিট এলাকায় এই পার্কটি রয়েছে।
এই পার্কটি উদ্বোধন করা করেন মাণণীয় প্রধানমন্ত্রী। ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে এটির উদ্বোধন করেন, যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১০ সালের ৭ আগস্ট।
উদ্বোধনের পর পরই বিনোদন পিয়াসীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শেখ রাসেল এভিয়ারী ও ইকোপার্কটি ২১০ হেক্টর বেষ্টিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ নিয়ন্ত্রণাধীন রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জে অবস্থিত। এলাকাটি চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার পূর্ব দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়কের পাশে চন্দ্রঘোনা শহর, কর্ণফুলি কাগজকল এবং কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত। এখানে প্রচুর সংখ্যক পর্যটক সারা বছর এ এলাকায় ভ্রমণ করতে আসেন।
এক সময় এ পাহাড়ী এলাকাটি প্রাকৃতিক ও মূল্যবান লতা-গুল্ম, গাছ-গাছালী, ঔষধি বৃক্ষ, পশু-পাখি সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু কালের আবর্তে এসব সম্পদ অনেকটা হারিয়ে গেছে এবং কিছু সম্পদ বিপন্ন এবং হুমকির মুখে পড়েছে। তাই, এলাকাটিকে রক্ষা করতেই শেখ রাসেল এভিয়ারী ও ইকোপার্ক স্থাপন করা হয়।
পার্কে এক ধরনের বিশেষ নেট দিয়ে পুরো ৫’শ ২০ একর পাহাড়ি ভূমির অনেক উঁচুতে উপরিভাগ ঘিরে দেয়া হয়। ভেতরে গড়ে তোলা হয় শত শত প্রজাতির পাখিদের অভয়ারণ্য। আর এতেই পক্ষীকুল ফিরে পায় নিরাপদ আবাসস্থল। পাশাপাশি ক্যাবল কার তো আছেই।
শেখ রাসেল এ্যাভিয়ারি এন্ড ইকো পার্কে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র পাখিশালা। এই পক্ষিশালায় যোগ হয়েছে দেশী প্রজাতির পাখির পাশাপাশি আফ্রিকার পলিক্যান, ইলেকট্রাস প্যারট, সোয়ান, রিং ন্যাক, মেকাউ, টার্কি ।পার্কের অভ্যন্তরে সড়ক, লেক, রিটার্নিং ওয়াল, গেস্ট হাউজ, ফুট ব্রীজ, গুহা, পাখি, ময়ূর ও হরিণসহ বিভিন্ন দেশি বিদেশী পক্ষিকুল বিচরণের খাঁচা, এ্যামিউজমেন্ট, গোলঘর, দোলনা, স্লিপিং রয়েছে। আম, জাম, বহেরা, ডুমুর, জামরুল, আমলকি, হরিতকি, চাপালিশ, সোনালু ডাকিজাম তেতুলসহ প্রায় অর্ধশত প্রজাতির দেশীয় ও বনজ জাতের ফলের চারা রোপনের মাধ্যমে পাখীখাদ্য উৎপাদনে সমৃদ্ধ করা হয়েছে পক্ষীশালাকে।
পার্কের ভিতর টা সবুজ শ্যামল প্রকৃতিতে ঘেরা যা দেখলে মন জুড়িয়ে যায় দর্শনার্থীদের।বৃক্ষাচ্ছাদিত সবুজ এই পাহাড়ি বন-বাদারে শত শত পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে। পাখিদের কলতানে মুখরিত হয় সবুজ বন।পাখিদের অভয়ারণ্যের পাশাপাশি ভ্রমণ বিলাসিদের বিনোদনের জন্যে উন্মুক্ত এই পার্ক। বনে জঙ্গলে এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফিয়ে বেড়াতে দেখা যায় শতশত বানর।
আড়াই কিলোমিটার ক্যাবল কারে কৃত্রিম লেকের উপর ঘুরে বেড়ানো যাবে। পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানো যা বিনোদন প্রেমিদের দিবে আনন্দ। চারিদিকে সবুজ ঘন গাছপালা।যেটিতে রয়েছে দেশের প্রথম ও দীর্ঘতম ক্যাবল কার। যাতে রয়েছে বিশ্বমানের ১২টি ক্যাবলকার।এই ক্যাবল কারে চরে পাহাড়ের ওপর থেকে নিচের দৃশ্য দেখা যাবে।প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য এই পার্ক।