Home সর্বশেষ সংবাদ এক্সক্লুসিভ গণ্ডামারায় মহিলা মেম্বারের স্বামীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ!

গণ্ডামারায় মহিলা মেম্বারের স্বামীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ!

গণ্ডামারায় মহিলা মেম্বারের স্বামীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ!

দিদার হোসাইন,বাঁশখালী(চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নের ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার শামীমুল জান্নাতের স্বামী আব্দুর রহমান বিরুদ্ধে ৩ নং ওয়ার্ড এলাকায় সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১৬ ফেব্রুয়ারী(বুধবার)সকালে সরেজমিনে তদন্তকালে দেখা যায়,গণ্ডামারা ইউপির সংরক্ষিত মহিলা মেম্বারের স্বামী আব্দুর রহমান ৩ নং ওয়ার্ড এলাকার সিকদার বাড়ী হয়ে মৌলানা রমজান আলী (রহঃ) সড়কের চলমান সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।সড়কটির চলমান সংস্কার কাজে যথেষ্ট অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে রহমান এর বিরুদ্ধে।

সংস্কারাধীন সড়কের দু’পাশে সড়ক ঘেষে মাটি খনন করে ওই মাটি দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছে সংস্কার কাজ,কিন্তু সড়ক ঘেষে মাটি খনন করায় সৃষ্ট বড় বড় গর্তের ফলে বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টি শুরু হতেই সড়কটি গর্তে বিলীন হয়ে যাবে মর্মে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়,সড়ক ঘেষে মাটি খনন করে নেয়া বড় বড় গর্তের দৃশ্য।

মহিলা মেম্বার শামীমুল জন্নাতের স্বামী আব্দুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,বৃষ্টিতে সড়ক বিলীন হয়ে গেলে আমি ধরে রাখতে পারবনা।এর আগে আরো কয়েকবার ওই সড়কটির সংস্কার কাজ করেছে তাও বিলীন হয়ে গেছে,এখনো যদি বিলীন হয়ে যায় তাতে আমার করার কিছুই নেই বলে জবাব দেন রহমান।

কিন্তু সড়কটি সংস্কারের জন্যে বাজেট কত? তা জানতে চাইলে তিনি বলেন,কোন বাজেট নেই, এগুলো কর্মসূচির কাজ,কাজের শ্রমিকদের উপর নির্ভর করে টাকা আসবে।নির্দিষ্ট কোন বাজেট নেই,কিন্তু বাজেট না থাকলে সড়ক সংস্কার হয় কিভাবে?এমন প্রশ্ন স্থানীয় সচেতন মহলের।

তাছাড়া বিগত কয়েক মাস পূর্বে গণ্ডামারা বাজার থেকে রুহুল আমিন তালুকদার বাড়ী হয়ে বেড়িবাঁধ সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের রিফিয়ারিং কাজের জন্যে বড় বাজেট পেয়েছিল রহমান,এতেও দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।এব্যাপারে জানতে চাইলে রহমান বলেন,ওই রিফিয়ারিং কাজের জন্যে সরকারি কোন বাজেট ছিলোন,যারা বলছে তারা মিথ্যে বলছে।

এভাবেই সব অনিয়ম ও দূর্নীতিকে গলাবজিতেই ধামাচাপা দিয়ে যাচ্ছে রহমান।রিফিয়ারিং কাজে অনিয়ম ও দূর্নীতি করে পার পেয়ে যাওয়ার ফলে স্থানীয়দের অভিযোগের কোন তোয়াক্কাই করছে না রহমান।নতুন কোন অনিয়ম দূর্নীতি করতেও দ্বিধা করছে না রহমান।

কিন্তু গণ্ডামারা বাজার সড়কের রিফিয়ারিং কাজের বরাদ্দ কোথাক থেকে ছিলো? তা জানতে চাইলে আব্দুর রহমান চট্টগ্রাম ট্রিবিউনকে বলেন,ওই বাজেটটি কোন সরকারি বাজেট ছিলোনা, বাজেটটি এস আলম গ্রুপের।কত টাকা বাজেট ছিলো?জানতে চাইলে রহমান বলেন,৭০ লাখ টাকার বাজেট ছিলো,কত টাকার কাজ করেছিলেন?প্রশ্ন করা হলে রহমান বলেন, এগুলোত অনেক পুরানো কথা,আমি বাজেট পরিমাণ কাজ করেছিলাম,এখন কে কি বলে না বলে সেটা আমার দেখার বিষয় নয় বললেন রহমান।স্থানীয়দের অভিযোগকে কোন পাত্তাই দিচ্ছে না রহমান।

এসময় রহমান আরো বলেন,সিকদার বাড়ি সংলগ্ন সড়কের কাজ করতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখীন হয়েছি আমি।কিন্তু কে বাঁধা দিয়েছে? জানতে চাইলে রহমান বলেন,সড়কটির দু’পাশের জমি মালিক মহসিন ও মানিক সহ অনেকেই মাটি নিতে বাঁধা করছে।

জমি মালিক মহসিন সিকদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,আমি কোন বাঁধা দিই নাই, এমনকি অন্য কোন মালিক পক্ষ বাঁধা দিতেও আমি দেখিনাই।সড়কটি যেহেতু সব মানুষের প্রয়োজন সেহেতু জমি মালিকরা বাঁধা করার প্রশ্নই আসে না।সড়কটি যথাযথ সংস্কার করা হউক এই দাবি আমারও বললেন মহসিন।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ ছিলো আব্দুর রহমান গণ্ডামারা বাজার থেকে রুহুল আমিন তালুকদার বাড়ী হয়ে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত জনবহুল চলাচল সড়কটি রিফিয়ারিং কাজের জন্যে এস আলম গ্রুপের কাছ থেকে ৯০ লাখ টাকার বরাদ্দ পেয়েছিল,কিন্তু সব মিলে ১০ লাখ টাকার কাজও করেননি রহমান,দুই নাম্বার ইট ব্যবহার করেই সামন্য কিছু রিফিয়ারিং কাজ করেই বাকী সব টাকা আত্মসাৎ করেছে রহমান এমন অভিযোগ সচেতন মহলের।

গণ্ডামারা ইউপির ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল জব্বার এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কর্মসূচির কাজের জন্যে নির্দিষ্ট বরাদ্দ আছে,না হয় আমরা কর্মসূচির কাজ কিভাবে করছি।কেউ বরাদ্দ নেই বললে সেটা হবে ডাহামিথ্যে কথা,এভাবে দু’পাশে ঘেঁষে গর্ত সৃষ্টি করলে সড়কটি টিকবে কিনা? জব্বার বলেন,আপনি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করেন।হয়তো সংস্কারে কাজের দায়িত্বে পাওয়া ব্যাক্তি টাকা আত্মসাৎ করার পরিকল্পনা নিয়ে দূর থেকে মাটি খনন না করে সড়কটি ঘেঁষে গর্ত করে মাটি নিয়ে কাজ করেছে।

এসময় জব্বার আরো বলেন, ইতিপূর্বে গণ্ডামারা বাজার থেকে রুহুল আমিন তালুকদার বাড়ী হয়ে বেড়িবাঁধ সংযোগ সড়কটি সংস্কার কাজেও রহমান অনিয়ম ও দূর্নীতি করেছে রহমান।

তিনি আরো জানান, গণ্ডামারা বাজার সড়কটি জনবহুল চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক,ওই সড়কটি রিফিয়ারিং কাজের জন্যে ইতিপূর্বে এস আলম গ্রুপের দেয়া ৯০ লাখ টাকার বরাদ্দ থেকে ১০ লাখ টাকার কাজও করেননি রহমান।সব টাকা আত্মসাৎ করেছে রহমান এমন অভিযোগ ইউপি সদস্যের।
জব্বার মেম্বার দেয়া বক্তব্যের স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগের সাথে অনেটাই মিল পাওয়া গেছে।

এব্যাপারে ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল হাকীম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সিকদার বাড়ী সংযোগ সড়কটি সংস্কার কাজ মূলত কর্মসূচির বাজেট থেকে করছে, ১,২, ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার শামীমুল জন্নাতের স্বামী আব্দুর রহমান সংড়কটির সংস্কার কাজের দায়িত্ব পেয়েছে বলেও জানান নুরুল হাকীম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here