রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

“ঈদ ও আমাদের সংস্কৃতি” মুহাম্মাদ বোরহান উদ্দীন

আপডেট:

প্রিয় দেশবাসী আসসালামু আলাইকুম, প্রথমেই আপনাদেরকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক। একমাস সিয়াম সাধনার পরে আল্লাহ পাক আমাদের দয়া করে ভালোবেসে এই ঈদের খুশি উপহার দিয়েছেন। এই খুশি ছড়িয়ে পড়ুক পৃথিবীর সব প্রান্তে।

প্রত্যেক জাতির নিজেদের বিশেষ বিশেষ কিছু উৎসব আছে। এসব উৎসব বা পর্ব ঐসব জাতির পরিচয় বহন করে। কোনো কোনো জাতি নিছক আনন্দ পাওয়ার জন্য উৎসব পালন করে, কেউবা স্বার্থগত বা ঐতিহ্যগত পরিচয় পাওয়ার জন্য উৎসব পালন করে। ইসলামী সংস্কৃতির অনন্য উৎসব ঈদ। এটি চিরাচরিত কোনো পর্ব নয়। দুনিয়ার অনন্য জাতির পর্ব বা উৎসব থেকে তা সম্পূর্ণ আলাদা। এই উৎসব না কোনো গোষ্ঠীগত স্বাতন্ত্র্য প্রকাশ করার জন্য পালন করা হয়, না কোন ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে পালন করা হয়। বরং এটি মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত হিসেবে পালিত হয় এই উৎসব।
এই উৎসবের সূচনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এর একটি হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়,“ হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সা. মদিনায় এসে দেখলেন, মদিনাবাসীরা নিদির্ষ্ট দু’টি দিনে খেলাধুলার মাধ্যমে আনন্দ-উৎসব করছে। রাসূল সা. তাদের কাছে জানতে চাইলেন, এ দু’টি দিনের তাৎপর্য কী? তারা বলল, জাহেলি যুগে আমরা এ দিনগুলোতে খেলাধুলা করতাম। তাই এখনও করছি। রাসূল সা. বললেন, এ দু’দিনের চেয়েও উত্তম দু’টি দিন আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেছেন। একটি ঈদুল আজহা ও অন্যটি ঈদুল ফিতরের দিন।” (আবু দাঊদ।)
ঈদ উৎসব শুরু হয় মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণার মধ্য দিয়ে। আর তা সালাতুল ঈদ সম্পন্ন না হওয়া পযর্ন্ত ঘোষিত হতে থাকে।”ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সা. বলেন- ‘যে ব্যক্তি ঈদের চাঁদ দেখবে তার উচিৎ পরের দিন ঈদগাহে উপস্থিত না হওয়া পযর্ন্ত যেন তাকবির পড়ে।” হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা তোমাদের ঈদগুলোকে তাকবির দ্বারা সুসজ্জিত করো”। তাকবির অর্থ হচ্ছে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা।তাকবিরের ভাষা হচ্ছেঃ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অর্থ হচ্ছে – আল্লাহ শ্রেষ্ঠ আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই।আল্লাহ শ্রেষ্ঠ আল্লাহ শ্রেষ্ঠ আল্লাহর জন্যই সকল প্রংশসা। ঈদ কারো একার নয়, ছোট বড়, ধনী- দরিদ্র সবার জন্যই ঈদ। অভাবী মানুষেরাও যাতে ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে এ জন্য ফিতরা দেয়াকে ধনীদের জন্য ওয়াজিব করা হয়েছে।তা ছাড়া সাধ্য অনুযায়ী সবারই উচিত নতুন পোশাক, ভালো খাবার দিয়ে গরীবের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করা।ঈদের দিনের চেয়ে উত্তম কোনো উৎসবের দিন নেই। ঈদ-ই শিখায় “মানুষ মানুষের জন্য। “। একটি কবিতার ছন্দে আমি এভাবে বলি-
“ঈদ মানে স্বপ্নের বাস্তবায়ন,
ঈদ মানে সম্পর্কের দৃঢ় বাঁধন ;
ঈদ বয়ে আনে ভালোবাসা –
ঈদ মানে বাঁচার নতুন আশা।”

বিজ্ঞাপন

ইসলামের প্রতিটি বিধানের তাৎপর্য রয়েছে। আল্লাহ পাক তার বান্দাদের প্রশিক্ষণ ও মঙ্গলের জন্য বিভিন্ন বিধান চালু করেছেন। ঈদও আমাদেরকে অনুপম শিক্ষা প্রদান করে। আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি ঈদ আমাদেরকে পাপমুক্ত করে এবং একটি সুন্দর জীবন দান করে। সমাজের মানুষের মধ্যে ঈদ একটি পবিত্র সম্পর্ক গড়ে তুলে,দেয় ঐক্য ও সংহতির শিক্ষা, পারস্পরিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যেমে মানুষে মানুষে সহমর্মিতা প্রকাশের একটি মাধ্যম হলো ঈদ। আমরা যেন আল্লাহ পাকের দেওয়া এ উপহার ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য অনুধাবন করে এই উৎসব থেকে ফায়দা লাভ করতে সমর্থ হই- এই কামনায় করছি।আবারো আপনাদের জানাই ঈদের সালাম ও শুভেচ্ছা এবং ঈদ মোবারক।

লেখকঃ শিক্ষার্থী।
বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত