প্রিয় সাংবাদিক বৃন্দ,
আস্সালামু আলাইকুম/শুভ সকাল। আজ ১৩ ই সেপ্টেম্বর’১৯ ইং তারিখ রোজ শুক্রবার সংগঠনে গঠনতন্ত্র, কেন্দ্রীয় কার্যালয় এর শুভ উদ্বোধন উপরক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে পার্বত্য অধিকার ফোরাম কর্তৃক পার্বত্য অধিকার ফোরাম এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সহ সাংগঠনিক রাজনৈতি অবস্থান জাতির নিকট তুলে ধরা হয়। সকাল ১০.৩০ ঘটিকায় খাগড়াছড়িস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলন শেষে গঠনতন্ত্র ও কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয একটি স্বার্থনৈষী মহল পার্বত্য অধিকার ফোরামের অগ্রযাত্রা রুখতে আমাদের পথ চলার ০৪ বছরে এসেও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সম্পাদক সহ নেতাকর্মীদের কে জড়িয়ে মিথ্যা মনগড়া অপবাদ দিচ্ছেন। পার্বত্য অধিকার ফোরাম কে বানাচ্ছেন কখনো বর্তমান এমপি বাবু কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরার সংগঠন, কখনো সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভূইয়ার সংগঠন, কখনো পার্বত্য নিউজের সম্পাদক মেহেদী পলাশের সংগঠন, কখনো পার্বত্য অধিকার ফোরাম কে চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা বিভিন্ন মিথ্যা-বানোয়াট মামলা সাজিয়ে পার্বত্য অধিকার ফোরামের নেতাকর্মীদের কে রাজনীতি থেকে সড়ানোর গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে পার্বত্য অধিকার ফোরামের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সহ সংগঠনের গঠনতন্ত্রের সারাংশ তুলে ধরা হয়।
গঠনতন্ত্রে রয়েছে পার্বত্য অধিকার ফোরামের সৃষ্টির পেক্ষাপট ও প্রাথমিক ঘোষনা এবং ৩৩ টি ধারা, ৭৮ টি উপধারা, প্রস্তাবিত ০৫ টি সহযোগী অঙ্গ সংগঠন, ০৫ জন উপদেষ্টা, ৩৩ জন কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের ছবি প্রকাশ করা হয়।
পার্বত্য অধিকার ফোরামের পূর্নাঙ্গ গঠনতন্ত্র টি হচ্ছে সংগঠন পরিচালনার একমাত্র চালিকা শক্তি। পার্বত্য অধিকার ফোরামের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সহ কয়েকটি ধারা উপধারা আংশিক তুলে ধরা হেেলা। পার্বত্য অধিকার ফোরাম হলো সম্পূর্নরুপে অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শে পরিচারিত একটি সংগঠন, যার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ই হলো পাহাড়ে বসবাস কারী ১৩-১৫ টি জনগোষ্ঠি সহ পিছিয়ে পড়া বাঙালি জনগোষ্ঠির মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ জনমত হিসাবে কাজ করা।
পার্বত্য অধিকার ফোরাম ম্ুিক্তযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতা , গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপোষ করবে না। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সর্বদা সম্মান প্রদর্শন করবো। এই সংগঠন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনসংখ্যানুপাতে শিক্ষাক্ষেত্রে ভর্তি ও ব্যবসা বানিজ্যে সমান সুযোগ প্রদান ও চাকুরী ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রদানের দাবী প্রতিষ্ঠায় আইনগত লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্দোলন কর্মসূচি পরিচালনা করবে। এই সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যস্থানে সকল মানুষের জীবন জীবিকার প্রতি হুমকি স্বরুপ কোন কার্যক্রম ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেনা। একই সাথে যে সকল উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন ও গোষ্টি কর্তৃক দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবন জীবিকায় বাধা প্রদান করবে সেগুলোরও জোর প্রতিবাদ জানাবে। নি¤েœ নি¤েœর মৌলিক ০৬ দফা ই হবে পার্বত্য অধিকার ফোরামের আন্দোলনের মূল দফা:-
১. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭’ র অসাংবিধানিক, বিতর্কিত ধারা সমূহ সংশোধন করে জেলা পরিষদ সহ চুক্তির আওতাভূক্ত প্রতিষ্ঠান গুলোতে বাঙালি জনগণের প্রতিনিধিদের সমান ভাবে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
২. দীঘিনালার বাবুছড়া-সোনামিয়া টিলার ৮১২ টি পরিবার সহ গুচ্ছগ্রামে বন্দি ৩৮ হাজার ১৫৬ টি বাঙালি পরিবারের জন্য বরাদ্ধকৃত বসত ভিটা ও চাষের জমি সহ মোট ৫ একর জায়গায় যথাযথ ভাবে পূর্নবহাল ও পূনর্বাসন করতে হবে।
ক) সেই সাথে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দ্বারা (১৯৭৫-১৯৯৬)পর্যন্ত সংগঠিত মানবতা বিরোধী গনহত্যা গুলোর ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের বিচার করতে হবে।
৩. পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পাহাড়ি বাঙালি সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে কমিটি গঠন করে ভূমি জরিপের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. যাচাই বাচাই ব্যতিত নতুন করে কোন উপজাতি/ভিনদেশী পরিবার কে পূনর্বাসন করা যাবেনা।
৫. বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ভ‚মি ক্রয়-বিক্রয় ও বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টি কে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে আনতে নি¤েœাক্ত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
ক) পর্যাপ্ত অবকাঠামো সহ তিন পার্বত্য জেলায় একটি করে বিশ^বিদ্যালয় কলেজ স্থাপন করতে হবে।
খ) প্রতিটি উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন একটি করে বাঙালি ছাত্র ও ছাত্রী নিবাস নির্মাণ করতে হবে।
গ) তিন পার্বত্য জেলায় জন সংখ্যানুপাতে শিক্ষা ক্ষেত্রে ভর্তি ও কর্মক্ষেত্রে সমভাবে নিয়োগ প্রদান করতে হবে।
ঘ) সকল বিশ^বিদ্যালয় সহ উচ্চ শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে উপজাতীয়দের ন্যায় সমান সংখ্যক “অনগ্রসর বাঙালি কোটা” চালু করতে হবে।
উপরোক্ত আন্দোলন কর্মসূচি পরিচালনার জন্য পার্বত্য অধিকার ফোরামের অর্থনৈতিক তহবিল নি¤েœাক্ত খাত হতে সংগৃহিত হয়।
১. সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন ফি
২. সদস্যের মাসিক চাঁদা,
৩. সংগঠনের বিভিন্ন প্রকাশনা বিক্রয় হতে প্রাপ্ত অর্থ
৪. শুভাকাঙ্খিদের প্রদত্ত অনুদান।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও মাটিরাঙা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান , সাংবাদিদের প্রশ্নের জবাব দেন কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব মাঈন উদ্দীন। কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ সভাপতি আহম্মেদ রেদোয়ান ,
আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা এস এম হেলাল, কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সাহাজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুগ্ন সম্পাদক মোক্তাদির হোসেন, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রবিউল হোসেন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ইখতিয়ার ইমন, কেন্দ্রীয় সহ দপ্তর সম্পাদক ইউনুছ বাঙালি, কেন্দ্রীয় সন্বয়ক আহম্মেদ আলী, চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক মাসুদ রানা সহ প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সকল সদস্য।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগীত করার জন্য নেতাকর্মী ও প্রশাসন সহ সকলের প্রতি