বিশেষ প্রতিবেদক, আব্দুল কাইয়ুম:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক নং গেট এলাকায় ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এমন অভিযোগে সেখানে অভিযান চালিয়েছে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হকের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এতদিন তিনি চট্টগ্রাম শহরে অভিযান পরিচালনা করলেও ভর্তি পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছুটে যান।
বিষয়টি নিয়ে তিনি বিআরটিএ’র ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসও দেন। স্ট্যাটাসটি হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
”গত কয়েকদিন ধরে অভিযোগ পাচ্ছিলাম, ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চালক-হেলপাররা পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। সে প্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন শহরকেন্দ্রিক অভিযান থাকলেও আজকের অভিযান ছিলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নং গেইট এলাকায়। অভিযানে প্রমাণ পেলাম, শুধু ভাড়া বেশি নিচ্ছে তা নয়, কেউ কেউ রীতিমতো ডাকাতি করছে। শুরুতেই ১ নং গেইটের বিপরীতে অবস্থান করা বাস ও সিএনজির চালক-হেলপারদের ডেকে ভাড়া নির্ধারণ করে দিলাম এবং কঠোরভাবে হুঁশিয়ার করে দিলাম যেন অতিরিক্ত ভাড়া না নেয়।
তারা কথা দিলো, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে তারা নেবে না। পরবর্তীতে ১ নং গেইটের ভিতরে অবস্থান নিয়ে সব গাড়ি চেক করা শুরু করলাম। দেখলাম, সিএনজি, টেম্পো, বাস এমনকি বিআরটিসির বাসও সমানে পরীক্ষার্থীসহ যাত্রীদের পকেট কাটছে। এমন পরিস্থিতিতে মেজাজ ঠিক রাখাই কঠিন হয়ে যায়। তারপরও নিজেকে শান্ত রেখে যতগুলো গাড়ি চেক করা সম্ভব হয়েছে সবগুলোতে প্রত্যেকটা পয়েন্টের সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করে দিলাম।
ঢাকা থেকে আসা এক পরীক্ষার্থী ও তার অভিভাবক আগ্রাবাদ যাবে। তারা একটি সিএনজি নিলো ৯০০ টাকায়। রাগে সিএনজিওয়ালার গায়ে হাত উঠতে উঠতেও নেমে গেলো। পারি না কারও গায়ে হাত তুলতে। শোভনীয়ও নয়। তার ড্রাইভিং লাইসেন্স রেখে দিয়ে তাকে বাধ্য করলাম মিটারে যেতে। পরীক্ষার্থী ও তার অভিভাবককে বলে দিলাম তাকে আরও ৫০ টাকা বাড়িয়ে দিতে। সাথে আমার মোবাইল নাম্বারটা দিয়ে বললাম গন্তব্যে পৌঁছে আমাকে জানাতে। তারা গন্তব্যে পৌঁছার পর জানালেন, মিটারে ২৪৬ টাকা ভাড়া এসেছিলো, তারা ৩০০ টাকা দিয়েছেন। আমি চিন্তা করলাম, কত বড় অমানুষ হলে ২৪৬ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা চাইতে পারে! আরেক টেম্পোতে জিইসি মোড় পর্যন্ত যাত্রীপ্রতি নিচ্ছিলো ১০০ টাকা করে। তাকে ২৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে দিলাম। মুরাদপুরগামী প্রায় সব টেম্পোই ৫০ টাকা করে ভাড়া দাবি করছিলো। একইভাবে নিউমার্কেটগামী বাসগুলোও দেখলাম ৫০ টাকা করে ভাড়া দাবি করতে। বিআরটিসি বাস সহ সব ধরণের বাস ও যানবাহনে ভাড়া নির্ধারণ করে দিলাম। আজকের অভিযানে শত শত পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পেরে নিজেরও কিছুটা ভালো লাগছে। পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথাটা মাথায় রেখে জেল জরিমানার দিকে না গিয়ে নির্ধারিত ভাড়ায় যাতে তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে সেদিকেই নজর রেখেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে এরকম বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে জেল জরিমানা করা ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।”
উল্লেখ্য, তিনি ভর্তি পরীক্ষার প্রারম্ভে একই ফেসবুক পেজে ভর্তিচ্ছুদের সহায়তা বাস মালিকদের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন। এতে সাড়া দিয়ে চারজন বাস মালিক বিনামূল্যে ভর্তিচ্ছুদের যাতায়াতে চারটি বাস সম্পূর্ণ ফ্রী করে দেন।এবং তিনি ওই বাস মালিকদের পুরস্কৃত করারও ঘোষনা দেন।