আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম মহানগরঃ
চট্টগ্রাম নগরীতে রেলওয়ের উচ্ছেদকে ঘিরে রেল শ্রমিক লীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীর মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। শ্রমিক লীগের সিরাজপন্হী এক নেতার বৈধ সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে দিলেও রেল শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় ১নং কার্যকরী সভাপতি শেখ লোকমান হোসেনের মেয়ের ৩০টি অবৈধ স্থাপনা থেকে যায় অক্ষত। ফলে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
২০ নভেম্বর (বুধবার) রেলওয়ে ভূসম্পত্তি কর্মকর্তাদের সিডিউল অনুযায়ী দু’দিনব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান চলে নগরীর পাহাড়তলী রেল কলোনি, ইঞ্জিনিয়ার কলোনিসহ অনান্য এলাকায়। অভিযানে রেল শ্রমিক লীগ সিরাজপন্হী সাইয়েদ খোকনের পাহাড়তলী ইঞ্জিনিয়ারিং কলোনির বাসার সীমানা প্রাচীর অজ্ঞাত কারণে ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
৬ ও ৭ নভেম্বর (বুধ, বৃহস্পতিবার) আমবাগান এলাকায় দু’দিন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারকে গৃহহীন করা হলেও আমবাগান মসজিদের রাস্তার বিপরীত শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শেখ লোকমান হোসেনের মেয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল আইন কর্মকর্তা (আদালত পরিদর্শক গ্রেড-১) জিনিয়া নাসরিনের এ/২২ আমবাগান বাসাটির ভেতরে প্রায় ৩০টি অবৈধ স্থাপনা ছুঁয়েও দেখেনি রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ।
অভিযোগ উঠেছে, নেতার মেয়ে বলেই রেলওয়ের আইনের তোয়াক্কা না করে, তার নামে বরাদ্দ করা হয় বাংলো! রেলওয়ের একজন আইন কর্মকর্তা হয়ে বেআইনিভাবে বাংলো বরাদ্দ পাওয়া, ভেতরে থাকা এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা, এগুলো কি রেল শ্রমিকলীগের প্রভাবশালী নেতার মেয়ে হওয়ার কারণে?
এ বিষয়ে জিনিয়া নাসরিন বলেন, ‘বাসাটি আমি ২০১৫ সালে বরাদ্দ পাই। আবেদনের কারণে রেল বরাদ্দ দিয়েছে, আমি তো জোর করে নেইনি।’
অবৈধ স্থাপনার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এগুলো আমার আগে যিনি ছিলেন তার সময়ে করা।
এ বিষয়ে পাহাড়তলী বিভাগীয় প্রকৌশলী (২) আব্দুল হানিফের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিরাজ অনুসারী নেতা সাইয়িদ হোসেনের বাসা রাস্তার পাশে হওয়ায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। একই নিয়মে আমবাগানে শ্রমিক লীগ নেতা লোকমান হোসেনের মেয়ের বাসাও সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। কিন্তু সাইয়িদ হোসেনের বাসার সীমানা প্রাচীর অবৈধ অভিযোগে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হলেও রেল নেতার মেয়ের সীমানা প্রাচীর ও অবৈধ বসতঘর থেকে যায় অক্ষত। পক্ষপাতিত্ব এই উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে সদোত্তর নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও।
এ বিষয়ে সাইয়িদ হোসেন খোকন বলেন, ‘আমার বাসার চারপাশে দেয়া সীমানা প্রাচীর ও নিম্ন আয়ের মানুষের অসংখ্য স্থাপনা অবৈধ অজুহাত ভেঙে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অথচ নেতার মেয়ে বলে ভাঙা হয়নি তার অবৈধ স্থাপনা।’ স্বজনপ্রীতির এ উচ্ছেদ বন্ধ করার অনুরোধ জানান তিনি।
জানা যায়, রেলের উচ্ছেদ ইতিমধ্যে নানা কারণে বির্তকিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করাসহ নানা অভিযোগের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড। সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা/পূর্ব ইশরাত রেজার কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তে উচ্ছেদে ৮ শিশুর শিক্ষাজীবন নষ্ট হওয়ার বিষয়টি। স্বজনপ্রীতির অভিযোগে ৭ নভেম্বর আমবাগানে উচ্ছেদ কর্মীদের ওপর হামলায় মারাত্মক আহত হন ৩ জন।
রেলওয়ে ডিভিশনাল অফিসার (পূর্ব) বোরহান উদ্দিন স্বীকার করেন রেল শ্রমিকলীগ নেতার মেয়ের বাসা বরাদ্দটি নিয়মবহির্ভূত। যেহেতু এই বাসা বরাদ্দ ৩-৪ বছর আগে পেয়েছে তাই তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন। তবে অনান্য বিষয়ে অভিযোগগুলোর দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।