ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ নগর জীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০ ৯৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আব্দুল করিম, চট্টগ্রামঃ
কবি জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায় দেখিয়েছিলেন কীভাবে নগর সভ্যতা ধুলায় পরিণত হয়; কিন্তু টিকে থাকে গ্রামীণ প্রাকৃতিক জীবন। তবে নাগরিক সভ্যতা ধুলার আস্তরণে ঢেকে যেতে যে হাজার হাজার বছরে প্রাণচাঞ্চল্যহীনতা লাগে, সেটাও বলেছেন তিনি। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি, দেশের বিভিন্ন নগরী এখন জীবন্ত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নগরবাসী ধুলায় নাজেহাল হচ্ছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার বিভিন্ন প্রকল্পের কারণে বাতাসে ধুলার দৌরাত্ম্য বেড়েছে। বস্তুত কাছাকাছি চিত্র ঢাকা মহানগরীরও। প্রায় বছরভর কোনো কোনো ‘উন্নয়ন’ কাজ চলমান থাকায় এবং কাজ শেষে খানাখন্দক ঠিকমতো মেরামত না করায় বছরভরই উড়তে থাকে ধূলি। শুকনো আবহাওয়ার কারণে শীতকালে তা প্রকট হয়ে ওঠে।এদিকে, চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ, ওয়াসার রাস্তা কাটা ও সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় না থাকায় বায়ু দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে যাতায়াতে ভোগান্তির পাশাপাশি নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ নগরবাসীর।

বন্দরনগরীর বেশির ভাগ সড়কে চলছে ওয়াসার সংস্কার কাজ। তবে নির্মাণকাজের সময় সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার পক্ষ থেকে সড়কগুলোতে পানি না ছিটানোর কারণে ধুলা বালুতে বিপর্যস্ত নগরবাসী। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রাস্তায় চলাচল করা সাধারণ পথচারীদের চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে।এতে শ্বাসজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের। বায়ু দূষণ নিরসনে সেবা সংস্থার গুলোর দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নগরবাসী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন নগরবাসী। বর্ষায় খানাখন্দের কষ্ট শেষে শীতে পোহাতে হচ্ছে ধুলাবালির অসহনীয় যন্ত্রণা। পড়েছেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

পরিবেশ আইন ১৯৯৫ ও বিধিমালা ১৯৯৭ অনুযায়ী, কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে অবস্থানগত ও বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরের (মহানগর) পরিচালক মো. আজাদুর রহমান মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরুর আগে পরিবেশ অধিদফতর থেকে ছাড়পত্র নেয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত ওয়াসা কোনোটির ছাড়পত্র নেয়নি।চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ওয়াসা সবসময় চেষ্টা করে পাইপলাইন স্থাপনসহ যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে যাতে জনভোগান্তি কম হয়। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র না নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ডিপিপিও অনুমোদন হয় না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ নগর জীবন

আপডেট সময় : ০১:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০

আব্দুল করিম, চট্টগ্রামঃ
কবি জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায় দেখিয়েছিলেন কীভাবে নগর সভ্যতা ধুলায় পরিণত হয়; কিন্তু টিকে থাকে গ্রামীণ প্রাকৃতিক জীবন। তবে নাগরিক সভ্যতা ধুলার আস্তরণে ঢেকে যেতে যে হাজার হাজার বছরে প্রাণচাঞ্চল্যহীনতা লাগে, সেটাও বলেছেন তিনি। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি, দেশের বিভিন্ন নগরী এখন জীবন্ত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নগরবাসী ধুলায় নাজেহাল হচ্ছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার বিভিন্ন প্রকল্পের কারণে বাতাসে ধুলার দৌরাত্ম্য বেড়েছে। বস্তুত কাছাকাছি চিত্র ঢাকা মহানগরীরও। প্রায় বছরভর কোনো কোনো ‘উন্নয়ন’ কাজ চলমান থাকায় এবং কাজ শেষে খানাখন্দক ঠিকমতো মেরামত না করায় বছরভরই উড়তে থাকে ধূলি। শুকনো আবহাওয়ার কারণে শীতকালে তা প্রকট হয়ে ওঠে।এদিকে, চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ, ওয়াসার রাস্তা কাটা ও সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় না থাকায় বায়ু দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এতে যাতায়াতে ভোগান্তির পাশাপাশি নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ নগরবাসীর।

বন্দরনগরীর বেশির ভাগ সড়কে চলছে ওয়াসার সংস্কার কাজ। তবে নির্মাণকাজের সময় সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার পক্ষ থেকে সড়কগুলোতে পানি না ছিটানোর কারণে ধুলা বালুতে বিপর্যস্ত নগরবাসী। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রাস্তায় চলাচল করা সাধারণ পথচারীদের চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে।এতে শ্বাসজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের। বায়ু দূষণ নিরসনে সেবা সংস্থার গুলোর দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নগরবাসী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন নগরবাসী। বর্ষায় খানাখন্দের কষ্ট শেষে শীতে পোহাতে হচ্ছে ধুলাবালির অসহনীয় যন্ত্রণা। পড়েছেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

পরিবেশ আইন ১৯৯৫ ও বিধিমালা ১৯৯৭ অনুযায়ী, কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে অবস্থানগত ও বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরের (মহানগর) পরিচালক মো. আজাদুর রহমান মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরুর আগে পরিবেশ অধিদফতর থেকে ছাড়পত্র নেয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত ওয়াসা কোনোটির ছাড়পত্র নেয়নি।চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ওয়াসা সবসময় চেষ্টা করে পাইপলাইন স্থাপনসহ যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে যাতে জনভোগান্তি কম হয়। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র না নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ডিপিপিও অনুমোদন হয় না।