কক্সবাজারে লকডাউনেই বাঁকখালী নদীতে ঢুকছে একাধিক পাথর বোঝাই ট্রলার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২০ ১১৫ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এম এ সাত্তার, কক্সবাজার:
জেলা প্রশাসনের ঘোষিত লকডাউন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন অতিবাহিত করছে কক্সবাজারের মানুষ। উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে মহামারী আকারে রূপ নেওয়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বেঁচে থেকে দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে সুস্থ জীবন যাপন করে বাকি হায়াত অতিবাহিত করা। এই অবস্থায় স্থানীয় মানুষ সরকারি নির্দেশনা মেনে সবাই ঘরমূখী হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়রা ঘরে ঢুকে গেলেও থেমে নেই বাহির জেলার লোকজন। তারা কোন না কোন পথে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত বিচরণ করছে। এমনকি কক্সবাজারে এই দূর্যোগকালীন সময়ে সাগরপথে বিভিন্ন জেলা থেকে পাথর বোঝাই ট্রলার আসা যাওয়া অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিদিন অসংখ্য পাথর বোঝাই ট্রলার এসে বাঁকখালী নদীর বিভিন্ন মোহনায় অবস্থান করে মালামাল আনলোড করছে। ট্রলারগুলি অবস্থানকালীন সময়ে শ্রমিকেরা কক্সবাজারের বিভিন্ন হাট বাজারে অবাধ বিচরণ করে আসছে।

সিলেট, নারায়নগঞ্জ সহ দেশের অন্যান্য জেলা থেকে প্রতিনিয়ত পাথর বোঝাই ট্রলার করে শ্রমিক আসার কারণে লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই অবস্থায় এলাকায় মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে বাঁকখালী নদীর চান্দের পাড়া রাবার ড্যাম এর পশ্চিমে ও, উত্তর পাশের আরো ২ পয়েন্ট, মাঝের ঘাট ব্রিজ এবং কস্তূরাঘাট এলাকায় ১৫/২০ টির মতো পাথর বোঝাই ট্রলার অবস্থান করছে। কয়েকটি থেকে টপাথর আনলোড করা হচ্ছে। ট্রলার থেকে শ্রমিকেরা নৌকা যোগে পার হয়ে ছনখোলা বাজারে গিয়ে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছে। এবং কেহ কেহ সওদা নিয়ে ট্রলারে ফিরছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কক্সবাজারে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে। ওই প্রকল্পের কাজ করার জন্য ককসবাজারের বাইরের করোনা আক্রান্ত বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্যা পাথর বোঝাই ট্রলার সাগরপথে বিনা বাধায় কক্সবাজারে ডুকে বাঁকখালী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েকদিন অবস্থান নিয়ে পাথরগুলি আনলোড করে ফিরে যাচ্ছে।এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোন নজরদারী নেই বললেই চলে। এসব ট্রলারে করে করোনা সংক্রমণ এলাকা থেকে আসা শ্রমিক চালক হেলপার থেকে স্থানিয় এলাকায় সংক্রমণ হতে পারে বলে এলাকাবাসী ধারণা করছেন।

গত ৭, এপ্রিল থেকে কক্সবাজার জেলাকে লকডাউন এর ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। এরপর থেকে কড়াকড়ি আরোপ করা হয় কক্সবাজারের পুরো এলাকা। বাড়ানো হয় বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট। এসব চেকপোষ্টে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও নিয়ন্ত্রণ করছে। পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া অন্য কোন গাড়ি ঢুকতে দিচ্ছে না পুলিশ।কিন্তু অভিযোগ উঠছে এসব পণ্যবাহী গাড়ি করে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসছে। এসব লোকগুলি এলাকায় ঢুকে পড়ছে। এতে এলাকায় মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই সময়ে স্থল পথের ন্যায় জলপথ, আকাশ পথও নিষেধাজ্ঞা জারি করার পক্ষে অনেক সচেতন মহল দাবি তুলেছেন।

পিএমখালীর বাসিন্দা সমাজকর্মী কেফায়ত উল্লাহ বলেন, মহামারী করোনা ঠেকাতে সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। তেমনি নৌপথ ও বন্ধ রাখা অতিজরুরী। মালামাল পরিবহনে কোন বিধিনিষেধ না থাকলেও সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ওই এলাকা থেকে প্রতিদিন কোন না কোনভাবে অন্যান্য জেলাতে পণ্য আনা-নেওয়া হচ্ছে। ওখান থেকে সংক্রমিত ব্যক্তির মাধ্যমে কারোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তাহলে ভয়াবহ সৃষ্টি হবে। আমি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয়তার ওপর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদ উল্লাহ মারুফ’কে এ ব্যাপারে অবহিত করা হলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কক্সবাজারে লকডাউনেই বাঁকখালী নদীতে ঢুকছে একাধিক পাথর বোঝাই ট্রলার

আপডেট সময় : ০৮:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২০

এম এ সাত্তার, কক্সবাজার:
জেলা প্রশাসনের ঘোষিত লকডাউন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন অতিবাহিত করছে কক্সবাজারের মানুষ। উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে মহামারী আকারে রূপ নেওয়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বেঁচে থেকে দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে সুস্থ জীবন যাপন করে বাকি হায়াত অতিবাহিত করা। এই অবস্থায় স্থানীয় মানুষ সরকারি নির্দেশনা মেনে সবাই ঘরমূখী হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়রা ঘরে ঢুকে গেলেও থেমে নেই বাহির জেলার লোকজন। তারা কোন না কোন পথে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত বিচরণ করছে। এমনকি কক্সবাজারে এই দূর্যোগকালীন সময়ে সাগরপথে বিভিন্ন জেলা থেকে পাথর বোঝাই ট্রলার আসা যাওয়া অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিদিন অসংখ্য পাথর বোঝাই ট্রলার এসে বাঁকখালী নদীর বিভিন্ন মোহনায় অবস্থান করে মালামাল আনলোড করছে। ট্রলারগুলি অবস্থানকালীন সময়ে শ্রমিকেরা কক্সবাজারের বিভিন্ন হাট বাজারে অবাধ বিচরণ করে আসছে।

সিলেট, নারায়নগঞ্জ সহ দেশের অন্যান্য জেলা থেকে প্রতিনিয়ত পাথর বোঝাই ট্রলার করে শ্রমিক আসার কারণে লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই অবস্থায় এলাকায় মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে বাঁকখালী নদীর চান্দের পাড়া রাবার ড্যাম এর পশ্চিমে ও, উত্তর পাশের আরো ২ পয়েন্ট, মাঝের ঘাট ব্রিজ এবং কস্তূরাঘাট এলাকায় ১৫/২০ টির মতো পাথর বোঝাই ট্রলার অবস্থান করছে। কয়েকটি থেকে টপাথর আনলোড করা হচ্ছে। ট্রলার থেকে শ্রমিকেরা নৌকা যোগে পার হয়ে ছনখোলা বাজারে গিয়ে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছে। এবং কেহ কেহ সওদা নিয়ে ট্রলারে ফিরছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কক্সবাজারে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে। ওই প্রকল্পের কাজ করার জন্য ককসবাজারের বাইরের করোনা আক্রান্ত বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্যা পাথর বোঝাই ট্রলার সাগরপথে বিনা বাধায় কক্সবাজারে ডুকে বাঁকখালী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েকদিন অবস্থান নিয়ে পাথরগুলি আনলোড করে ফিরে যাচ্ছে।এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোন নজরদারী নেই বললেই চলে। এসব ট্রলারে করে করোনা সংক্রমণ এলাকা থেকে আসা শ্রমিক চালক হেলপার থেকে স্থানিয় এলাকায় সংক্রমণ হতে পারে বলে এলাকাবাসী ধারণা করছেন।

গত ৭, এপ্রিল থেকে কক্সবাজার জেলাকে লকডাউন এর ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। এরপর থেকে কড়াকড়ি আরোপ করা হয় কক্সবাজারের পুরো এলাকা। বাড়ানো হয় বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট। এসব চেকপোষ্টে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও নিয়ন্ত্রণ করছে। পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া অন্য কোন গাড়ি ঢুকতে দিচ্ছে না পুলিশ।কিন্তু অভিযোগ উঠছে এসব পণ্যবাহী গাড়ি করে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসছে। এসব লোকগুলি এলাকায় ঢুকে পড়ছে। এতে এলাকায় মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই সময়ে স্থল পথের ন্যায় জলপথ, আকাশ পথও নিষেধাজ্ঞা জারি করার পক্ষে অনেক সচেতন মহল দাবি তুলেছেন।

পিএমখালীর বাসিন্দা সমাজকর্মী কেফায়ত উল্লাহ বলেন, মহামারী করোনা ঠেকাতে সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। তেমনি নৌপথ ও বন্ধ রাখা অতিজরুরী। মালামাল পরিবহনে কোন বিধিনিষেধ না থাকলেও সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ওই এলাকা থেকে প্রতিদিন কোন না কোনভাবে অন্যান্য জেলাতে পণ্য আনা-নেওয়া হচ্ছে। ওখান থেকে সংক্রমিত ব্যক্তির মাধ্যমে কারোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তাহলে ভয়াবহ সৃষ্টি হবে। আমি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয়তার ওপর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদ উল্লাহ মারুফ’কে এ ব্যাপারে অবহিত করা হলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে জানান তিনি।