Home কলাম ‘অর্থ যখন সবকিছুর অনুঘটক ‘

‘অর্থ যখন সবকিছুর অনুঘটক ‘

‘অর্থ যখন সবকিছুর অনুঘটক’

সাঈদী আলম,
অর্থহীন জীবন জীবনই নয়। অর্থ মানুষের জীবনে বড়ই প্রভাব রাখে। এই অর্থবীনে কিইবা না ঘটে এই ধরাতে?। এ জগৎ সংসারে অর্থ ছাড়া কোন মূল্য মনে হয় থাকেনা। অর্থ মানে যেটা সাধারণত বুঝায় টাকা পয়সা। এটা ছাড়া জগৎ সংসার অচল।এই অর্থ কামাতে যেয়ে কত অনর্থ ঘটায় তা কিন্তু বলার অপেক্ষা রাখে না। অর্থের আরেকটা রুপক মানে সুখ।যার অর্থ আছে তাকে সুখি মানুষও বলে থাকে । একটু খানি সুখের জন্যে মানুষ কিনা করে,কত রিস্কে মোকাবেলা করে। শুধু জীবনকে অর্থময় করে তুলতে বেঁচে নেয় অর্থহীন কত কর্ম, কত কঠিন পথ। আমার মনে হয় জীবনে যদি অর্থের প্রয়োজন ফুরিয়ে যেত তাহলে এতো অনর্থ কখনো ঘটতো না। অর্থের প্রয়োজন আছে বলে মানুষ এতো কিছু করে। একজন চোর সেও কিন্তু অর্থের মূল্য বুঝে, এইজন্যে চুরি করে জীবনকে অর্থময় বা স্বাভাবিক করতে চায়। সমাজে উঁচু শ্রেণি নিচু শ্রেণির উপর অত্যাচার চালায়, বা ধন সম্পদ কেড়ে নিতে চায় এই অর্থকে কেন্দ্র করে। একটি দেশ অন্য একটি দেশের উপর প্রভাব কাটায় অর্থশক্তি নিয়ে। হুমকি ধামকি দেয় এই অর্থের জন্যে। আধুনিক বস্তুবাদি সভ্যতা এই অর্থকে প্রধান চালিকা শক্তি মনে করে। আজকে আমাদেরকে এমন এক পর্যায়ে দাঁড় করানো হয়েছে। পড়াশুনা নাই থাক সমস্যা নেই। তার জন্যে চেয়ারটা বরাদ্দ যদি তার অর্থ থাকে। প্রভাব প্রতিপত্তি সবকিছু বিবেচনা করা হয় টাকাকে কেন্দ্র করে। এটা যেন সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু সূর্যের মত। এই অর্থ মানুষকে এমন লোভি করে তুলে সে এই অর্থ কামাই করবার জন্যে তার কাছে ন্যায়, অন্যায়, নীতিবোধ, হালাল, হারাম কিছু আসে যায় না। প্রয়োজন মৃত্যু আলিঙ্গন করবে তবুও পিছপা হবে না। এটা সুরা তাকাসুরেও আল্লাহপাক বলেছেন, বনি অাদমের পেট কবর ছাড়া কিছুতেই ভরবে না। তাকে যদি সাতটা স্বর্ণের পাহাড়ও দেয়া হয় তারপরেও তার চাহিদা শেষ আরো একটা চাই। এরকম চাই চাই করতে দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে। মানুষ লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে সামনে যত কিছু আসুক না কেন সে পাড়ি দিতে চায়। সমাজে তার অবস্হান মজবুত করবার জন্যে অর্থকে সিঁড়ি হিসেবে ধরা হয়। সমাজে ভালো মন্দের কলকাঠি নাড়ে এই অর্থ। অদম্য কিছু মানুষের গল্প যখন কান পেতে শুনি তখন অর্থকে মনে হয় সফলতা বা ব্যর্থতার কল কব্জা হিসেবে কাজ করেছে। কবি মোশাররফ হোসেন বলেছেন,”জন্মে টাকা, জীবনে টাকা, জন্মান্তেও টাকা, সবখানে টাকার খেলা ” বেশির ভাগ সত্য। আজকের কলুষিত সমাজ ভালো মন্দের সার্টিফিকেট নির্ণায়ক হয় টাকাই। একটা চারিত্রিক সনদ নিতে যান ওখানে টাকা লাগে, আপনার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভালো মন্দের সার্টিফিকেট দিচ্ছে। একজন ফকিরের কথায় আসি আপনি তাকে যতই ভালো কথা বলেন সে শুনতে চাবে না যদি তাকে অর্থ না দেন। হয়তো আপনার এটাও মনে হতে পারে ( চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী) টাকা দিয়ে একটু মন্দ কথাও বলেন, সে শুনবে। তখন মনে হবে ( ধর্মের কল বাতাসে নড়ে)। সরকারি বেসরকারি সেবামুলক ও দাতব্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলোতে বিনামুল্য সেবা দেয়ার কথা বলা হলেও। অনেক ক্ষেত্রে দেখাযায় হাতে কিছু মাইনে না দিলে আপনার প্রাপ্যটাও আপনার হয় না। নীতি নৈতিকতাবোধ যেখানে নির্বাসনে সেখানে অর্থই মুল নিয়ন্ত্রক। আজ আপনার কাছে অন্য কোন যোগ্যতা না থাকলেও সমস্যা নাই। অর্থ থাকা মানে আপনি বিশেষ কিছু যোগ্যতা আপনার হয়েছে বলে ধরা হয়। মানুষ যখন টাকার গোলাম ‘জি হুজুরই’ তার আসল বচন। বাকি সব বাকির খাতায়। এতো উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি সমাজে রাষ্ট্রে সবখানে তার নামডাক হঠাৎ তার পতন, শুনে চোখ চানাবটা হয়ে যায়, বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয় যে, এরকম ব্যক্তি এরকম আর্থিক কেলেঙ্কারি জড়িত হতে পারে?। বিশাল ইমারত,গগনচুম্বি অট্টালিকা, অগণিত স্হাবর অস্হাবর সমপত্তি কিন্তু শেষ বয়সে দেখা গেছে না খেয়ে চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে। এই অর্থ কার জন্যে? সরকারি বড় কর্মকর্তা বেতনের চেয়ে বহুগুণে কালো টাকার পাহাড় করেছে,দিনশেষে আশ্রয় হয় বৃদ্ধাশ্রমে। হায়রে টাকা! তুই কি মা বাপ চিনস না। সকল ধরণের অপকর্মের মুলে থাকে অর্থ।অনেক শিক্ষার্থী কলম ছেড়ে অস্ত্র তুলে নিয়েছে এই অর্থের কারণে, অর্থ যখন তার প্রধান সম্বল নীতির কথা বইয়ে থাক। অবিচার অনাচারের যার নিচে আশ্রয় গ্রহণ করে তা হলো টাকা। অসভ্য সমাজের কথা বলছেন তার অনুসারি কিন্তু কম না, একটা কথা আছে মানুষ যার খেতে পায়,সে তার গুণগায়। দু ভাই ছগিরুদ্দীন, কলিমুদ্দীন। ছগিরুদ্দীনের পিছনে লোকজন গিজগিজ করে, তেলেসমাতি করার লোকজনের অভাব হয় না। কলিমুদ্দীনের সহায় সম্বল নেই কোনো রকম দিনাতিপাত করে দেখার যেন কেউ নেই। পার্থক্য হলো অর্থ। ব্যক্তি পরিচয়ের পিছনে অর্থের কম প্রয়োজন নেই।ব্যক্তিকে ফোকাসিং করবার জন্যে সর্বত্র টাকার সুড়সুড়ি। সামাজিক কিছু বিষয় চিত্রায়িত করে বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সামাজিক সালিশ, বিচারও তার; যার আছে অর্থ।

চৌধুরি,সিকদার,জমিদার,তালুকদার,পাঠান বংশের হলে অপরাধ করলে ধামাচাপা দেয়ার লোকের অভাব হয় না। কারণ তার পিছনে অর্থ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। গরীব আলী পানে চুন কষলেই অপরাধ। আরেকটা চিত্রের কথায় আসি সমাজে মানুষের মনমানসিকতা নিয়ে, দু জন লোক পরপর হেঁটে যাচ্ছে প্রথমজন শিক্ষিত লোক হলে সালাম কিংবা শুভেচ্ছা পেল না। দ্বিতীয় জন হলো শিক্ষিত না হলেও অর্থের কোন জুরি নেই সে অনায়াসে সালাম বা শুভেচ্ছা পায়। দুনিয়াতে এরকম চিত্র ভূরি ভূরি। তবে সবখানে অর্থ নেগেটিভ সেন্সে কাজ করে তা কিন্তু নয়।অর্থ অনেকসময় পজেটিভ হিসেবে কাজ করে। আজকে নিত্য নতুন এতো কিছুর সমারোহ অর্থই কিন্ত প্রধান। সভ্যজাতি গঠনে অর্থ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে চলেছে। সামাজিক ন্যায় ও সাম্যতার বিধান প্রতিষ্ঠা করতে যেয়ে অর্থ ও কর্মপ্রচেষ্ঠার অবদান অতুলনীয়। সবশেষে একটা উদাহরণে ইতি টানি চিজার যদি ডাক্তারের হাতে থাকে রোগ নিরাময়ের জন্যে কাজ করে। যদি ডাকাতের হাতে থাকে মানুষ খুন করা বা ডাকাতি করার জন্যে ব্যবহার করে। এটা আমাদের মনে রাখতে হবে অর্থ প্রধান চালিকাশক্তি হলেও; এটা যেন চুড়ান্ত লক্ষ্য না হয়। কামনা থাকবে সবার মাঝে নীতিবোধ জাগ্রত হোক।

লেখকঃ শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here