এম এ সাত্তার, কক্সবাজার:
নিজের সন্তানদেরকে নিয়ে পিতা-মাতার অনেক স্বপ্ন থাকে। কোন অভিভাবক চাইনা তাদের সন্তান পিছিয়ে থাকুক। প্রত্যেক পিতা-মাতা চাই তাদের সন্তানেরা লেখাপড়া করে শিক্ষিত হয়ে মানুষের মত মানুষ হোক। দেশ বিদেশে অবদান রেখে নিজেদের সম্মান বাড়ুক। কিন্তু এদেশে এমন পিতাও আছে যে কিনা নিজের সন্তানদের লেখাপড়ায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
কক্সবাজার রামুতে এমন ব্যতিক্রম এক পিতার খোঁজ পাওয়া গেছে যে কিনা নিজ এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ের প্রবেশপত্র রেজিস্ট্রেশন কার্ড চিনতাই করে নিয়ে গেছেন। মেয়েটি জোয়ারিয়ানালা এইচ.এম সাঁচি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। কিন্তু মেয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করুক সেটা চাননা নিজের জন্মদাতা পিতা । তাই মেয়ের পরীক্ষা ঠেকাতে পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনতাই করেন আব্দুল জলিল (৪৫)।
এই অভিযোগে রোববার (২ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত একমাসের কারাদন্ড দিয়ে জেলে পাঠান রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা। পাশাপাশি ওই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি। সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল জলিল জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের পূর্বনোনাছড়ি গ্রামের মৃত সোলতান আহম্মদের ছেলে। পেশায় দিন মজুর।
পরীক্ষার্থী মেয়ের মা খতিজা বেগম (৩৫) জানান,
গত ৫ বছর আগে মনোমালিন্যের কারণে তাদের সম্পর্কের অবনতি হলে তালাকের মাধ্যমে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ সময় তাদের সংসারে তিন ছেলে দুই মেয়ে ছিল। এদের মধ্যে ছেলে মেয়ে ২ জন বাবার ঘরে আর বাকি তিন সন্তান তার সঙ্গে মামার বাড়িতে থাকে। তিনি জানান, তারা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও জলিল তাকে নানাভাবে উক্ত্যক্ত এবং হুমকী দিয়ে আসছিল।
শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারী) রাতে জোয়ারিয়ানালা মাদ্রাসা গেইট বাজার থেকে কেনাকাটা ও প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে ঘরে ফেরার পথে ছুরি দেখিয়ে মেয়ের প্রবেশ পত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড, জামা কাপড়, বিকাশ এজেন্ট থেকে উত্তোলন করা ২০ হাজার টাকা,মোবাইল ফোন সেট সহ সবকিছু ছিনিয়ে নেয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানানো হলে তার হস্তক্ষেপে কাপড়-চোপড় ফেরত দিলেও প্রবেশ পত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডসহ অন্যান্য জিনিষ পত্র ফেরত দেননি। পরে বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ইউএনও মহোদয়কে অবহিত করা হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তিনি বলেন, ডিভোর্স হয়ে যাওয়ায় প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে জলিল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সে চায়না তার সন্তানেরা শিক্ষিত হউক।
রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রণয় চাকমা জানান, একজন শিক্ষার্থী সারা বছর প্রস্তুতি নেওয়ার পর পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। সে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়তে পারে। একই কারণে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। এ ধরনের অপরাধ কেউ না করে সেজন্যই অভিযুক্তকে একমাসের সাজা দেওয়া হয়েছে।