আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম মহানগর:
চট্টগ্রাম নগরের সেগুনবাগান এলাকায় বাধা উপেক্ষা করে রেলের ১৩ গন্ডা জায়গা উদ্ধার
নগরীর খুলশী থানার সেগুনবাগান এলাকায় স্থানীয়দের বাধা উপেক্ষা করে ২৬ শতক জায়গা উদ্ধার করেছে রেল। গতকাল বুধবার রেলওয়ের ক্যারেজ ও ওয়াগন কারখানার সামনে ৩০টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে উদ্ধার করা হয় রেলের ১৩ গন্ডা জমি। তবে এ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করতে বেগ পেতে হয় অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেগুনবাগান এলাকার বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্যারেজ ও ওয়াগন কারখানার সামনে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হাজির হয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন শতাধিক পুলিশ, র্যাব ও রেলেওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যরা। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর আগেই স্কেটেভেটর আটকে দেয় বিক্ষুব্দ জনতা। স্কেটেভেটর সামনে শুয়ে পড়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে উচ্ছেদ বন্ধে বিক্ষোভ করেন তারা। একপর্যায়ে বাধা উপেক্ষা করে দুপুর ১টার দিকে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা।
ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযান সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয়রা বাধা দেয়। পরে বাধা উপেক্ষা করে দুপুর ১টার দিকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ২২টি সেমিপাকা ও ৮টি টিনশেডসহ সর্বমোট ৩০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এতে দখলে থাকা ২৬ শতক জায়গা উদ্ধার হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৭ অক্টোবর এলাকায় মাইকিং করে উচ্ছেদ করার কথা জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোন ধরনের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে সকালে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে রেলওয়ে।
একপর্যায়ে স্থানীয়দের বাধা উপেক্ষা করে উচ্ছেদ চালায় রেলওয়ে। এসময় রেলওয়ের এ উচ্ছেদ কার্যক্রম এখানে আবারো শুরু করা হলে কাফনের কাপড় নিয়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন স্থানীয়রা। উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. আনসার আলী, র্যাপিড একশান ব্যাটেলিয়ান (র্যাব), রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও পুলিশের প্রায় শতাধিক সদস্য।