মুহাম্মদ দিদার হোসাইন,বাঁশখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাঁদপুর বেলগাঁও চা বাগান সড়কের বেহাল দশা।বিভিন্ন জটিলতার কারণেই সড়কটির সংস্কার কাজ না করেই মাঝপথে ফেলে যায় ঠিকাদার। বাঁশখালী উপজেলার চাঁনপুরের বেলগাঁও এলাকার চা বাগানটি পুরো দেশ জুড়েই পরিচিত।
প্রতিবছর এই চা বাগান থেকে সরকারি রাজস্বে জমা হয় বড় অংকের ভ্যাট ও রাজস্ব। কিন্তু এই চা বাগানে যাতায়াতের সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক হওয়ার দরুণ দেশের বিভিন্ন স্থানে চা পাতা রপ্তানি ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে দেখতে আসা দর্শনার্থীদের যাতায়াতে কিরূপ প্রভাব। ফলে লোকসানের শিকার হচ্ছে চা বাগান মালিক কতৃপক্ষ। বাগান থেকে পাতা রপ্তানি ও চা বাগান দেখতে আসা পর্যটকদেরও ভোগান্তি কম নয়। এদিকে জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় চা বাগান সড়কটির ১ কিলোমিটার কার্পেটিং করার জন্য উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে টেন্ডার আহবান করা হলে ওই কাজটির দায়িত্ব পায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলমগীর ষ্টোর। ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি কাজটি শুরু হয় ডিবিএম করে কাজ করা থেকে নানা কারণে বিরত থাকে এবং ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ঠিকাদার কাজটি কেলেন্ডার করে বলে উপজেলা প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়। এই সড়কটির সংস্কার কাজ চালিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা উত্তোলন করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।এই ব্যাপারে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক সোলাইমান বাদশা বলেন,চা বাগান সংযোগ সড়কটি কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে, তাই কাজ স্যারেন্ডার করেছি এবং উত্তোলনকৃত টাকা থেকে ৯ লাখ টাকা পুনরায় জমা দিয়েছি। এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ভূইঁয়া জানান, চাঁদপুর বেলগাঁও চা বাগানের সড়কটি প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার হবে। এরই মধ্যে ১ কিলোমিটার কার্পেটিং করার জন্য ৬৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ সাপেক্ষে কাজটি পায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলমগীর ষ্টোর। ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়।
ম্যাগাডাম করার পর নানা সমস্যার কারণে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে কাজ স্যারেন্ডার করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এরপর থেকে কাজটি বন্ধ রয়েছে।এখন আবারো কাজটি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সড়কের দু’পাশে প্রতিরক্ষা দেয়াল ও কয়েকটি কালভার্ট করতে হবে। স্থানীয় জমি মালিকগণ জায়গা না দেয়ার ফলে কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। জনগুরুত্ব বিবেচনায় অচিরেই চাঁদপুর বেলগাঁও চা বাগানের সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ করা হবে এ প্রত্যাশা স্থানীয় জনগণ ও চা বাগান কর্তৃপক্ষের।
চাঁদপুর বেলগাঁও চা বাগানে কর্মরত ৭ শতাধিক শ্রমিক ছাড়াও অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা নানা দায়িত্বে থেকে অনেক খেটে খাওয়া জীবিকাও নির্বাহ করছেন। দেশের র্অথনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি এই চা বাগানটি চট্টগ্রামবাসীর জন্য বিনোদন স্পটও। চা বাগান দেখতে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্নস্থান থেকে শত শত মানুষ আসেন। এই বাগানের ক্লোন চা দেশব্যাপী জনপ্রিয়তাসহ, প্রসিদ্ধতা ও খ্যাতি লাভ করেন।