মোহাম্মদ জিপন উদ্দিন, ফটিকছড়ি:
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনা ভাইরাসে থমকে গেছে পুরো বিশ্ব। সে সাথে বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। মহামারী এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে চট্টগ্রাম ফটিকছড়িতে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যেগ। এ ভাইরাসকে কেন্দ্র করে প্রচলিত আইন যেন কেউ অমান্য করতে না পারে তার জন্য দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিন সদ্য বিদেশ ফেরত ও অসাধু ব্যবসায়ীদেরকে প্রায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দিনব্যাপী মোবাইল কোর্টে অভিযান চালিয়ে ফটিকছড়ি লেলাং ইউনিয়নের তিন সদ্য ফেরত প্রবাসীকে বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনের আদেশ অমান্য করে হাট-বাজার সহ বাইরে ইচ্ছামতো ঘোরাঘুরি করার কারণে দন্ডবিধি ১৮৬০ এর (২৬৯ ধারায়) তিনজনকে মোট ৩০০০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়া অসাধু ব্যবসায়ী কর্তৃক উচ্চ মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রির অপরাধে নাজিরহাট বাজারে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন দোকানে ভোক্তা অধিকার আইনে ১৫৫০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। কতিপয় ব্যবসায়ীরা হলেন,’শাহাবুদ্দিন দুলাল, পিতা -মৃত -শফিউল আলম, সাং-নাজিরহাট।(ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪১ ধারায়) জরিমানা – ৪০,০০০ টাকা, কাজী মোঃজানে আলম, পিতা-মৃত লতু মিয়া, সাং-নাজিরহাট। (ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪০ ধারায়) জরিমানা-৫,০০০ টাকা। এম.কামাল পিতা-মৃত-জাকের হোসেন, সাং-বীর আফজরের বাড়ী,লেলাং।(প্যানেল কোর্ট আইন১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায়) জরিমানা -১০,০০০ টাকা। মোঃএরশাদুল আলম চৌঃ পিতা-মৃত-নুরুল আলম চৌঃ, সাং-নাজিরহাট।(ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪০ ধারায়) জরিমানা -২০,০০০ টাকা। ভজন কান্তি শীল, পিতা -মৃত-রবীন্দ্র কুমার শীল।সাং-নাজিরহাট।(ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪০ ধারায়) জরিমানা -২০,০০০ টাকা। রাম চন্দ্র নাথ পিতা-গোপী নাথ, সাং-নাথ পাড়া,শাহনগর।(প্যানেল কোর্ট আইন ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায়) জরিমানা -১০,০০০ টাকা। রাম চন্দ্র নাথ, পিতা-গোপী নাথ, সাং-নাথ পাড়া,শাহনগর।(প্যানেল কোর্ট আইন ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায়) জরিমানা -১০,০০০ টাকা। অন্জয় শীল, পিতা-মৃত-মধুসূদন শীল, সাং-বণিক পাড়া, রায়পুর। (প্যানেল কোর্ট আইন ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায়) জরিমানা -১০,০০০ টাকা।
উক্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মোঃ সায়েদুল আরেফিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জানে আলম, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযানে ফটিকছড়ি থানার এসআই মান্নান এবং সংগীয় ফোর্স মোবাইল কোর্টকে সহযোগিতা করে।
অভিযান শেষে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সঠিক মূল্য রাখার জন্য সতর্ক করা হয় এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সায়েদুল আরেফিন।
তিনি বলেন, ‘সবাইকে নিয়ম মেনে বিদেশ থেকে আসার ১৪ দিন ঘরে থাকার জন্য পুনরায় অনুরোধ করছি অন্যথায় জেল জরিমানাসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একজনের জন্য কখনোই ফটিকছড়িবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেয়া যাবে না। সকলকে সরকারের আদেশ মেনে চলা এবং সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
অভিযান শেষে নাজিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করা হয়। করোনা মোকাবেলায় হাসপাতালের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে কিনা তা যাচাই করে দেখেন।