Home সর্বশেষ সংবাদ এক্সক্লুসিভ বাংলাবাজার-কক্সবাজারগামী সিএনজি”তে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অব্যাহত

বাংলাবাজার-কক্সবাজারগামী সিএনজি”তে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অব্যাহত

বাংলাবাজার-কক্সবাজারগামী সিএনজি”তে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অব্যাহত
চট্টগ্রাম ট্রিবিউন

এম এ সাত্তার, কক্সবাজারঃ
বাংলাবাজার টু কক্সবাজারগামী সিএনজি”তে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হরিয়ানি অব্যাহত রয়েছে। এ সড়কে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে গণযাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশা। যাত্রীদের অভিযোগ বাংলাবাজার সিএনজি সমিতির নেতাদের পরোক্ষ নির্দেশে অঘোষিত ভাবে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে বাংলাবাজার সিএনজি সমিতি (রেজিঃ ১৪৯১) সংশ্লিষ্ট চালকেরা। এ সড়কে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশা সহ অন্যান্য গাড়ির মাথাপিছু ভাড়া নির্ধারণ করা থাকলেও তা মানছেনা বাংলাবাজার সিএনজি সমিতি সংশ্লিষ্ট চালকেরা। এ রোডের সিএনজি চালকেরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন।

এ রোডে চলাচলকারি চালকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান এ রুটে হয়রানির শিকার হওয়া যাত্রীরা।

এ ব্যাপারে বাংলাবাজার সিএনজি সমিতির সভাপতি আনছারুল হকের কাছে জানতে চেয়ে তার মুঠোফোনে ফোন করলে সে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে বলেন, সমিতির সাথে ভাড়ার কোন সম্পর্ক নাই। ভাড়া ১ টাকা থেকে ১০০ টাকা নিলেও যাত্রীরা দরদাম করে যাচ্ছে। এখানে তার কিছু যায় আসে না। যারা ভাড়া বেশি নিচ্ছে তাদেরকে মেরে গাড়িসহ থানায় দিয়ে দেন। আমরা তাদেরকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনবো।
ভাড়া নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও কেন আপনার সমিতি সংশ্লিষ্ট চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়ার নামে যাত্রী হরিয়ানি করছে? এমন প্রশ্ন করা হলে সভাপতি কোনো সদুত্তর না দিয়ে বাজারঘাটা সিএনজি সমিতির হেডঅফিসে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে বলে মোবাইলের লাইন কেটে দেন।

২৩ ডিসেম্বর (সোমবার) সকালে বাংলাবাজার সিএনজি ষ্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ৮/১০ টি সিএনজি অটোরিকশা একটির পিছনে একটি দাঁড়িয়ে আছে। কক্সবাজারগামী যাত্রীরা এক একজন স্টেশনে দাঁড়ানো সিএনজি গুলোর দরজায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। কোন যাত্রী স্টেশনে দাঁড়ানো সিএনজিতে উঠার জন্য গাড়ির পাশে গেলেই ড্রাইভারেরা ইশারা ইঙ্গিতে হাতের তিনটি আঙুল দেখাচ্ছে। মানে জনপ্রতি ভাড়া ৩০ টাকা।
আর কেহ রিজার্ভ ভাড়ায় যাওয়ার বাহানা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। যাদের বেশি তারা তারা সিএনজি চালকদের কথামতো মাথা নাড়িয়ে চলে আসতেছে। আর কেউ দাঁড়িয়ে রয়েছে। কেহ চালকদের সাথে দরদামে তর্কে জড়িয়ে রয়েছে। অনেক যাত্রীদেরকে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অন্যদিকে কক্সবাজারগামী যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে না পেরে হিমশিম খাচ্ছেন উক্ত স্টেশনে কর্মরত লাইনম্যান। এ ব্যাপারে লাইনম্যান আবদুল শুক্কুর বাংলাবাজার স্টেশনে
যাত্রীদের নানান হয়রানি ও দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, যাত্রীরা খুব বেশি কষ্ট পাচ্ছে। যা বলার মত নয়। এর একটা সুরাহা করা দরকার। ইচ্ছেমতো ভাড়া নিয়ে কোন স্টেশন চলতে পারে না। চালকেরা যাত্রী সাধারণকে অহেতুক হয়রানি করছে। এর সমাধানের ব্যাপারে এ পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসতেও দেখেনি বলে জানান তিনি।

এলাকারর সচেতন মহলের পক্ষে সমাজকর্মী মোঃ কেফায়েত উল্লাহ বলেন, সিএনজি অটোরিকশা অন্যতম গণপরিবহনের ভূমিকা পালন করে। অনেক দিন থেকেই অটোরিকশার নৈরাজ্য চলছে। কিন্তু পুলিশের ভুমিকা দুর্বল হওয়ার কারণে নৈরাজ্য বন্ধ হচ্ছে না।বিআরটিএর তৎপরতা নেই বললেই চলে। সিএনজি অটোরিকশার নৈরাজ্য দূর করতে হলে পুলিশ ও বিআরটিএকে জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।

রাস্তায় সিএনজি অটোরকিশার অনিয়মের ব্যাপারে কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের টিআই কামরুজ্জামান বলেন, বাংলাবাজার সিএনজি স্টেশন রামু থানা ও হাইওয়ে পুলিশের আওতাভুক্ত। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা তার নেই। তাই উক্ত স্টেশন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানান।

উল্লেখ্য যে এ ব্যাপারে গত ১৬ ডিসেম্বর দৈনিক আপন কন্ঠ পত্রিকায় “বাংলাবাজার টু কসবাজার রোডে সিএনজি চালকদের নৈরাজ্য” শিরোনামে সরেজমিন সংবাদ প্রকাশিত হলেও তার সমাধানে কেউ এগিয়ে আসেনি। যার কারণে আরো অতি উৎসাহী হয়ে দিনের পর দিন দেশের আইন আদালতের প্রতি অবজ্ঞা পূর্বক বেপরোয়াভাবে সিএনজি অটোরিকশা চালকেরা কারো কথায় কর্ণপাত না করে যাত্রীদেরকে বিভিন্ন অজুহাতে জিম্মি করে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে যাচ্ছে বাংলাবাজার সিএনজি সমিতি সংশ্লিষ্ট চালকেরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here