Home সর্বশেষ সংবাদ এক্সক্লুসিভ বিপ্লব উদ্যান ইস্যুতে আদালতকে তোয়াক্কাই করেন না চসিক

বিপ্লব উদ্যান ইস্যুতে আদালতকে তোয়াক্কাই করেন না চসিক

বিপ্লব উদ্যান ইস্যুতে আদালতকে তোয়াক্কাই করেন না চসিক

নিজস্ব সংবাদদাতা,
চট্টগ্রামের ষোলশহর বিপ্লব উদ্যান নিয়ে সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির ও বর্তমান প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। সাবেক মেয়র নাসির বলছেন দৃস্টিনন্দন এই সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প জনগণের স্বার্থে করা হয়েছিল কর্পোরেশনের কোন বিনিয়োগ ছাড়া। প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের ব্যয় হ্রাসের চিন্তাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমান প্রশাসক সুজন এ পার্কের আর্থিক ও বাণিজ্যিক মুল্যের কথা সামনে এনে উচ্ছেদ অভিযান চলমান রাখার ঘোষনা দিয়েছেন।

এই অবস্থায় চট্টগ্রামের ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে সিটি কর্পোরেশনের ‘বেআইনি’ উচ্ছেদ কাজে কেন অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না— এটি জানতে চেয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনসহ ৬ প্রতিপক্ষকে ৫ দিনের সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্টসের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের করা আবেদনের শুনানি শেষে চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেনের আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।

নোটিশ পাবার পরপর ক্ষুব্ধ চসিক প্রশাসন বিপ্লব উদ্যান ভাঙ্গার কাজ শুরু করেছেন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলেই আদালতের দেওয়া এই শোকজ নোটিশ চসিকে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আদালতের নোটিশের উত্তর না দিয়ে বিপ্লব উদ্দ্যান ভাঙ্গার কাজ শুরু করে আদালতকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছেন চসিক প্রশাসক সুজন – এমন মন্তব্য সমালোচকদের।

স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিপ্লব উদ্যানের ফুড কোর্টের কারনে পার্শ্ববর্তী ফিনলে স্কয়ারের ফুডকোর্টের বেচাকেনা কমে যায়। যার কারনে তড়িঘড়ি করে বিপ্লব উদ্যানে জমে উঠা ফুডকোর্ট সরানোর পক্ষে কাজ করছে শক্তিশালী একটি মহল।

জানা যায়, মামলায় ১ নম্বর প্রতিপক্ষ হিসেবে নাম রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের। ২ নম্বরেও প্রশাসক হিসেবে আছেন সুজন। এছাড়া প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. মোজাম্মেল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম এবং প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমেদকে এই মামলায় প্রতিপক্ষ করা হয়েছে।

চুক্তির শর্তভঙ্গের অভিযোগ এনে নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকার বিপ্লব উদ্যানে চসিকের উচ্ছেদ অভিযান অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন প্রকৌশলী মিজানুর রহমান।

ওই আবেদনে বিপ্লব উদ্যানে দোকান নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনরকম চুক্তির ব্যত্যয় ঘটেনি দাবি করে সেখানে চসিকের তরফ থেকে চালানো উচ্ছেদ অভিযানকে ‘অবৈধ’ ও ‘একতরফা’ দাবি করে চসিক প্রশাসক সুজনসহ ৫ জনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে এ ধরনের অভিযানের বিরুদ্ধে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন বাদী।

আবেদনে বাদি প্রতিপক্ষরা যাতে তপশীলের সম্পত্তিতে প্রবেশ করতে না পারে, দুই তলাবিশিষ্ট দোকানগুলো যেন ভেঙে ফেলতে না পারে, নালিশী সম্পত্তির রূপ যাতে পরিবর্তন না পারে, চুক্তি অনুযায়ী চলমান উন্নয়নকাজ এবং দোকানের ব্যবসায় যেন বাধা না দিতে পারে— সে ব্যাপারে আদালতের কাছে আদেশ চেয়েছেন। বাদি মিজানুর রহমান সালিশি কার্যক্রম নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ চান।

পরে বাদীর দাবি অনুযায়ী এই উচ্ছেদ কাজে কেন অন্তবর্ত্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে চসিক প্রশাসক সহ সেই ৫ জনকে আগামী ৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন আদালত।

এদিকে, দৃস্টিনন্দন এ প্রকল্প কর্পোরেশনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দ্বন্দে পড়ার কারনে অনেকটাই খুশি বিরোধী শিবিরের লোকজন। শুরু থেকেই জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত এ পার্কটির ডিজাইন পরিবর্তন করে জয়বাংলা উদ্দ্যান করার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন নগর বিএনপি। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এই সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্প প্রশ্নের মুখে পড়াকে নিজেদের আন্দোলনের ফসল বলছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ প্রকল্পের শুরু থেকেই আমরা বলে আসছিলাম এটির কোন প্রয়োজনই নেই। আমরা আন্দোলনও করেছিলাম।

জানা গেছে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে বিপ্লব উদ্যানে একটি মুক্তিযুদ্ধ মিউজিয়াম চালু ছিল। তৎকালীন মেয়র নাসিরের মৌখিক অনুমোদন নিয়ে একটি অংশে এই মিউজিয়াম চালু করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু উচ্ছেদের কারনে সেটিও বন্ধ রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here