মুহাম্মদ দিদার হোসাইন,
বাঁশখালী(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার টাইম বাজার থেকে গণ্ডামারা ব্রীজ সংযোগ সড়কের বেহাল দশা।বাঁশখালীর উপকুলীয় অঞ্চল গন্ডামারা, বড়ঘোনা চিংড়ি ও লবণ উৎপাদনের জন্যে দেশব্যাপী প্রসিদ্ধ। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারী ব্যবসায়ীরা লবণ ও চিংড়ি কেনার ভিড় জমায় ওই এলাকা। বিগত কয়েক বছর ধরে টমেটোসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের শাক-সবজি উৎপাদনের জন্যে ওই এলাকা খুবই পরিচিতি লাভ করেছে।বিশেষ করে চট্টগ্রামের আনোয়ারা, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া,কর্ণফুলী সহ বিভিন্ন উপজেলার পাইকাররা সূলাভমুল্যে শীতকালীন আগাম টমেটো সহ বিভিন্ন জাতের উন্নত শাক-সবজি কেনার জন্য সরল, গণ্ডামারা ও বড়ঘোনা এলাকায় এসে ভিড় জমায়।গণ্ডামারা এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে টাইম বাজার থেকে শীলকুুপ হয়ে গণ্ডামারা ব্রীজ সংযোগ সড়কটি।ওই সড়কের উপর দিয়ে সিএনজি সহ দৈনিক কয়েকশত যাত্রিবাহী গাড়ী চলাচল সড়ক। বর্তমানে সড়কটির বেহাল দশা। বিগত কয়েক বছর ধরে ওই এলাকায় এস•আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চালুু হওয়াতে প্রকল্পের সমস্ত মালবাহী গাড়ি যাতায়াত করার ফলে সড়কটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।এরই ফলে সড়কটি চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য গণ্ডামারা, বড়ঘোনা উপকূলীয় অঞ্চল। ওই এলাকা ঘনবসতি পূর্ণ বন্যাদূর্গত এলাকা। ঘুর্ণিঝড়ের আশংকা দেখা দিলেই বাড়ি ঘর ফেলে জীবন বাঁচাতে উপজেলার দিকে ছুটে আসে ওই এলাকার হাজার হাজার নারী-পুরুষ।
এমনকি কোন অসুস্থ পুরুষ কিংবা গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে নিতে চাইলে সড়কটির বেহাল দশার ফলে ঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় অনেক রোগী পথিমধ্যে মৃত্যু বরণ ও গর্ভবতী মহিলার ডেলিভারি হাওয়া মতো ঘটনাও সংঘটিত হাওয়ার নজিরও রয়েছে। প্রায় পাঁচ কি:মি: সড়কটিতে একদিকে সৃষ্ট বড় বড় গর্ত অন্যদিকে টাইম বাজার এলাকায় সড়কটির দুই পাশে পানি চলাচল করার জন্যে কোন ড্রেন না থাকায় বর্ষার মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পরিমাণ পানিতে ডুবে থাকে সড়কটির প্রায় এক কি: মি: অংশ।এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গণ্ডামারা এলাকার হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে।
টাইম বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর বলেন, উপজেলার টাইম বাজার থেকে গণ্ডামারা ব্রীজ পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি জনবহুল চলাচল সড়ক। বর্তমানে সড়কটি এমন নাজুক পরিস্থিতি দেখলে মনে হয় যেন পুরো এলাকাটিই অভিবাবক হীন হয়ে পড়ে আছে। এলাকার প্রায় পঞ্চাশ হাজার লোকের চলাচল সড়ক হচ্ছে এই চাম্বল-বাংলা বাজার সড়কটি।সড়কেটিতে মাঝে মাঝে গর্তের সৃষ্টি হওয়াতে গর্ভবতী নারী, অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে হাসপাতালে যাত্রাকালে একদিক দিয়ে এক্সিডেন্টের শিকার অন্যদিকে অনেক রোগীর নিয়ে সঠিক সময়ে চিকিৎসার হাসপাতালে পৌঁছতে নাপারায় মাঝ পথে অনখাঙ্খিত মৃত্যুর ঘটনাও সংঘটিত হচ্ছে অনেক। এই ব্যাপারে চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুজিবুল হক চৌধুরী বলেন, খুব শিগগিরই এই সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হবে, এই সড়কের জন্য এলজিআরডি থেকে বরাদ্দ হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাঁশখালীর উপকূলের উল্লেখিত এলাকার লোকজন চলাচলের অন্য কোন বিকল্প সড়ক কিংবা সুব্যবস্থা না থাকায় সড়কটির অবস্থা নাজুক হলেও এই সড়কটির উপর দিয়ে অনেক ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষ। সিএনজি ড্রাইভার আব্দুল গফুর বলেন, ১৯৯১ সনের আগে থেকেই আমরা উপজেলার দারোগা বাজার হয়ে জালিয়াখালী বাজার সংযোগ সড়ক দিয়ে গন্ডামারা এলাকার মানুষ উপজেলা সহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতাম, কিন্তু স্থানীয় প্রতিনিধিরা কোন ধরনের সংস্কার কাজ না করার ফলে সড়কটি বিলীন হয়ে গেছে। বিগত দশ/পনের বছর ধরে গণ্ডামারা, বড়ঘোনা এলাকার মানুষ টাইম বাজার সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকি। কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় হল বিগত ২০১৬ সাল থেকে গণ্ডামারা এলাকায় এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চালুু হওয়ার পর থেকে ওই প্রকল্পের সমস্ত মালবাহী গাড়ি উক্ত সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে, অতিরিক্ত মালবাহী গাড়ি চলাচল করার দরুন বর্তমানে সড়কটির বেহাল দশা।
সড়কটির মাঝে মাঝে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।শুধু তা নয়, টাইম বাজারস্থ সড়কের দু’পাশে পানি চলাচল করার জন্যে কোন ড্রেন না থাকায় বর্ষার মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পরিমাণ পানিতে ডুবে থাকে সড়কটি।এতে যাত্রীদের যাতায়াত করতে খুবই কষ্টসাধ্য হচ্ছে। মোটর চালিত অটো-রিক্সা ড্রাইভার মুহাম্মদ ছৈয়দ নুর সহ শীলকুপ স্থানীয়দেরও একুই আভিযোগ।টাইম বাজারস্থ ইউনুস সাওদাগর বলেন, গন্ডামারা ও বড়ঘোনা এলাকার অধিকাংশ ব্যবসায়িরা প্রায়ই আমাদের টাইম বাজারস্থ দোকানীদের কাছ থেকে সূলাভমুল্যে পাইকারি হিসাবে চাউল, কূরা, ভূষি, মুরগি ও গরুর খাদ্য সামগ্রী নিয়ে যার যার নিজ এলাকায় খুচরা মূল্যে বিক্রি করে থাকে। একুই ভাবে আমাদের শীলকুপ সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের অনেক লোক গণ্ডামারা ও বড়ঘোনা এলাকা থেকে লবণ, চিংড়ি, টমেটোসহ বিভিন্ন জাতের মাছ আমরা পাইকারিভাবে ক্রয় করে এনে আমাদের নিজেদের এলাকায় খুচরা হিসেবে বিক্রি করে সুবিধা জনক ব্যবসা করে থাকি।কয়েক বছর যাবত সড়কটি এক পর্যায়ে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে।এতে আমরা উভয় এলাকার লোকের যোগাযোগ ব্যবস্থার যথেষ্ট বিঘ্নিত হচ্ছে।প্রতিনিয়তই ঘটছে চলছে ছোট খাটো দূর্ঘটনা। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি সরকারের তরফ থেকে যেন দ্রুত টাইম বাজার থেকে গণ্ডামারা ব্রীজ পর্যন্ত গণ্ডামারা সংযোগ সড়কটি সংস্কার করা হয় এই দাবী শীলকুপ, গণ্ডামারা ও বড়ঘোনা এলাকার জনসাধরনের। এব্যাপারে শীলকুপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহসিন সিকদার বলেন, সড়কটি জনবহুল চলাচল সড়ক।বর্তমানে সড়কটির খুবই নাজুক পরিস্থিতি, বর্ষার মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পরিমাণ পানিতে ডুবে থাকে সড়কটি।এতে লোক চলাচলে যথেষ্ট বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, সড়কটি হাইওয়ে সড়ক এতো বড় সড়কের সংস্কার কাজ ইউনিয়ন পরিষদের ছোট খাটো বরাদ্দ থেকে করা সম্ভব নয়।তবুও আমি ব্যাক্তিগত ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গত বছর ওই সড়কের নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশে ভাঙা ইট দিয়ে মেরামত করে দিয়েছিলাম।কিন্তু গণ্ডামারা এলাকায় এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধন কয়লা বিদ্যুত প্রকল্প এলাকায় প্রতিদিন এক থেকে দেড় শতাধিক বালিসহ বিভিন্ন মালবাহী গাড়ি যাতায়াত করার ফলে সড়কটির মাঝে মাঝে বর্তমান বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে লোক চলাচলে যথেষ্ট বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানান চেয়ারম্যান মহসিন।