জাবেদ ভূঁইয়া, মিরসরাইঃ
মহামারি প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস নিয়ে সারা বিশ্ব, সারা দেশের মতো উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে মিরসরাই উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষের। ঠিক সে সময়ে বাড়িতে ফ্রিজে মাংস আছে প্রশাসনের লোকজন অভিযান চালিয়ে জরিমানা করছে, ফ্রিজ ভেঙে দিচ্ছে এমন ‘গুজব’ ছড়িয়ে দিয়ে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে একটি গ্রুপ। এমন গুজব মহিলাদের মাঝে বেশি ছড়িয়ে পড়ায় বেশকিছু পরিবারে মহিলারা আগে থেকে ফ্রিজে সংরক্ষণ রাখা মাছ মাংস সরিয়ে ফেলেছে।
সেনাবাহিনী মাঠে নামার পর সেনাবাহিনীও ঘরে ঘরে তল্লাসী করছে বলে গুজব উঠেছে। ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা করছে এমন গুজবে কেউ কেউ দ্রুত ফ্রিজের মাছ মাংস বের করে রান্না করেছেন। কেউ বা মাংস আত্মীয়-স্বজনদের দিয়েছেন গত মঙ্গলবার থেকে গুজবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন কাণ্ড ঘটার খবর পাওয়া গেছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাস্টাস দিয়ে বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন। এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে ‘গুজবে’ কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন পুলিশ।
বাসায় পুলিশ গিয়ে ফ্রিজ চেক করছে বিষয়টি নিতান্তই গুজব বলে নিশ্চিত করেছেন মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুৃল কবির ও জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া। তারা গুজব সম্পর্কে স্থানীয় লোকজনকে সচেতন হওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। হাইতকান্দি এলাকার মোহাম্মদ রাশেল জানান, আমার খালার বাড়ি থেকে আমাদের কাছে খবর এলো ফ্রিজে মাছ মাংস চেক করছে সেনাবাহিনী । কিছু থাকলে নাকি জরিমানা করে দিচ্ছে, ফ্রিজ ভাংচুর চালাচ্ছে। তখন বাসায় লোকজনকে বলেছিলাম পাড়ার কেউ ফ্রিজ থেকে মাছ মাংস বের করে না রাখলে আমার বাসায় দিয়ে যাওয়ার জন্য। গত বুধবার শুনেছি অনেকে মাছ মাংস জরিমানার ভয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। এগুলো একধরনের খারাপ লোক সমাজে রয়েছে, তাঁরা এসব গুজব ছড়ায়। উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ঘেড়ামারা এলাকার জামাল উদ্দিন জানান, শুনেছি পুলিশ এসে ফ্রিজ ভাংচুর করছে, ধরে নিয়ে যাচ্ছে এমন গুজবে মাছ মাংস ফ্রি থেকে বের করে রান্না করেছেন। কেউ কেউ ফ্রিজে রাখা মাছ মাংস লুকিয়ে রেখেছেন। পরে দেখলাম এগুলি গুজব ছড়ানো হয়েছে।
মিরসরাই থানার ওসি ( তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দেবনাথ জানান, পুলিশ কর্তৃক কোন নাগরিকের বাড়ীতে ফ্রিজ তল্লাশির তথ্য সঠিক নয়। এই সংক্রান্তে কোন তথ্য পাওয়া গেলে মিরসরাই থানা পুলিশকে অবগত করার জন্য জন সাধারণকে অনুরোধ করেছি। গুজব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন হওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছি। এসব গুজবে জনসাধারণকে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, এই ধরনের ঘটনার প্রশ্নই আসে না। এটা স্রেফ গুজব, আমি সাধারণ মানুষকে এই গুজবে আতংকিত না হওয়ার অনুরোধ করছি।