নন্দিত এই অভিনেতার প্রয়াণে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে দেশের অভিনয় জগতে। শুক্রবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে আলী যাকেরের সম্পর্ক ছিল প্রণের। কারো কাছে চাচা, কারো কাছে ছটলু ভাই আবার সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষটা আড্ডায় কিংবা কাজে মাতিয়ে রাখতেন।
১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের রতনপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন আলী যাকের। তিনি টেলিভিশন ও মঞ্চ নাটকে সমান জনপ্রিয়।বহুব্রীহি, আজ রবিবার’সহ বহু নাটকে তার অভিনয়ের মুন্সিয়ানা দর্শকের হৃদয় ছুঁয়েছে। মঞ্চেও আলী যাকের এক জাদরেল অভিনেতার নাম।
একই সঙ্গে দেশীয় বিজ্ঞাপনশিল্পের একজন ব্যক্তিত্ব আলী যাকের। বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির কর্ণধার তার সহধর্মিণী সারা যাকেরও একজন অভিনেত্রী। তাদের ছেলে ইরেশ যাকের অভিনেতা ও প্রযোজক হিসেবে সমাদৃত। মেয়ে শ্রিয়া সর্বজয়া একজন আরজে হিসেবে পরিচিতি পেলেও তিনি অভিনয়ও করেছেন কিছু নাটকে।
শিল্পকলায় অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার আলী যাকেরকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদক এবং মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেছেন।
অভিনয়শীল্পিদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের ছায়া।
অভিনেত্রী সাংসদ সুবর্ণা মুস্তাফা শোক প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছেন, এই অনুভূতি প্রকাশ করার কোনো ভাষা নেই। আলী যাকের, আমাদের প্রিয় ছটলু ভাই তার অনন্ত যাত্রা শুরু করলেন। সারা ভাবি, ইরেশ, ও শ্রিয়া যেন এই শোক সামলে নিতে পারে, সেই দোয়া করি। ভালোবাসা ছটলু ভাই। বিদায়, পুনরায় দেখা হওয়ার আগ পর্যন্ত। যা আমি সবসময় বলি, এটা কেবল সময়ের ব্যাপার। গভীর শ্রদ্ধা।
টেলিভিশন জগতের গুণী অভিনেতা ও নির্মাতা রওনক হাসান লিখেছেন, এমন বিষন্ন সকাল! ছটলু ভাই!
গুণী নির্মাতা ও ডিরেক্টরস গিল্ডের নেতা এস এ হক অলিক লিখেছেন, বিনম্র শ্রদ্ধা। আপনার চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা পূরণ হবার নয়। পরপারে ভালো থাকবেন হে নাট্যজন। আমরা শোকাহত।
গুণী অভিনেত্রী তানভীন সুইটি লিখেছেন, শান্তিতে থাকুন আলী যাকের চাচা। যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন।
একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেরী বন্যা মির্জা লিখেছেন, জীবন এক অদ্ভুত আইরনি, আমার কভার ফটোটা যেখানে নিশাত আপার সাথে আমি দাঁড়ানো মঞ্চে! নিশাত আপা নেই! এই যে দাঁড়াতে পেরেছি তা ছোটলু ভাই শিখিয়েছেন এই নাটক দিয়ে। হ্যাঁ, দর্পনে শরৎশশী, তারই নির্দেশনা। তিনি আজ সকালে চলে গেলেন।
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী লিখেছেন, গভীর শোক ও শ্রদ্ধা। বিশিষ্ট অভিনেতা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক, প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব আলী যাকের আঙ্কেল আর নেই। আজ ভোরে তিনি চিরবিদায় নিলেন এ পৃথিবী থেকে। (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন।) তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষ লিখেছেন, আমার ক্যারিয়ারের প্রথম দিকের কাজ ওল্ড ডায়েরি। মাবরুর রশীদ বান্নাহ এই কাজ আলী যাকের স্যারের সাথে কথার সুযোগ করে দিয়েছিল। থ্যাংক ইউ দোস্ত। সকালে বালায় উনার খবরটা পেয়ে মন খারাপ হয়ে গেলো অনেক। অভিনয় জীবনে উনার সাথে কাজ করতে পারা আসলেই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। স্যার আপনাকে মনে রেখে দিলাম। শান্তিতে থাকুন স্যার।
এ প্রজন্মের অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া লিখেছেন, আবার নূরলদীন একদিন আসিবে বাংলায়, আবার নূরলদীন একদিন কাল পূর্ণিমায়। দিবে ডাক, জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?
জনপ্রিয় নির্মাতা শিহাব শাহীন লিখেছেন, শান্তিতে থাকুন কিংবদন্তি আলী যাকের।
আলী যাকেরের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে মেহের আফরোজ শাওনের। সেই অভিনয়ের একটি দৃশ্যের চিত্র শেয়ার করে তিনি শুধু লিখেছেন, বড়চাচা!
জনপ্রিয় অভিনেত্রী বাঁধন লিখেছেন, শান্তিতে থাকুন চাচা।
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের প্রোফাইলে আলী যাকেরের ছবি দিয়েছেন জনপ্রিয় নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী। আর লিখেছেন, যাকের কাকু!
এ প্রজন্মের নায়ক বাপ্পী চৌধুরী লিখেছেন, শান্তিতে থাকুন স্যার।
দেশের সফলতম নারী নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী লিখেছেন, আলী যাকের আংকেল! এক বিষন্ন কষ্টের সকাল!
তরুণ ও জনপ্রিয় নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহর প্রথম নাটকেই অভিনয় করেছিলেন আলী যাকের। সেই স্মৃতি হাতড়ে বান্নাহ লিখেছেন, আলী যাকের স্যারকে আমার জীবনের প্রথম ফিকশনেই আর্টিস্ট হিসেবে পেয়েছিলাম। জীবনের প্রথম ফিকশন থেকেই আমি স্যারের আশীর্বাদ ধন্য। আমি ভাগ্যবান। আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান। স্যারকে নিয়ে আমার স্মৃতিগুলো অমূল্য। এমন একটি সকাল কোনদিনও চাইনি। কিন্তু এই বুকফাটা কষ্টের সকালটা এলো। আসতেই হলো। অনেক কিছু বলতে চাই, বলতে ইচ্ছা করছে কিন্তু লিখতে শক্তি পাচ্ছি না।