Home সর্বশেষ সংবাদ এক্সক্লুসিভ আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হাট গুলো

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হাট গুলো

কাউছার আলম, পটিয়াঃ
শুধু নামেই ঐতিহ্যে ধরে রেখেছে পটিয়ার সাপ্তাহিক হাটগুলো, কিন্তু তেমন একটা জমে না আর। নিত্য প্রয়োজনীয় সওদা-পাতি আর পণ্য বেচা-কেনার জন্য এখন তেমন একটা হাটে যান না কেউ, এলাকার মোড়ে-মোড়ে, পাড়ায় মহল্লায় গড়ে উঠা দৈনিক বাজারগুলোতে সেরে নিচ্ছেন হাটের প্রয়োজনীয়তা। ফলে জৌলুস হারাচ্ছে এখানকার হাটগুলো।

জানা যায়,সতেরটি ইউনিয়ন ও একটি প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা নিয়ে গঠিত পটিয়া উপজেলায় এক সময় ৫০টিরও অধিক সাপ্তাহিক হাট বসতো। এসব হাটের মধ্যে পৌর এলাকার পুরাতন থানা হাট, বলির হাট, আশিয়া বাংলা বাজার, কাশিয়াইশ নয়া হাট, বুধপুরা বাজার, সফর আলী মুন্সির হাট, কান্তির হাট, আমজুর হাট, মুরালী হাট, মৌলভী হাট উল্লেখযোগ্য।

সপ্তাহে দুইদিন করে এসব হাট বসতো নদীর ধারে কিংবা বটের ছায়ায়। দাদুরা হাট থেকে নাতিদের জন্য কিনে নিয়ে আসতেন বাতাসা। কালের প্রবাহে যেমন হারিয়ে যাচ্ছে হাটগুলো তেমনি অমৃত সেই বাতাসাও। বাতাসার স্বাদ এখন আর অবশিষ্ট নেই।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, হাটের দিন সকালে পলিথিনের অথবা কাপড়ের ছাউনি দিয়ে ব্যবসায়ীরা সাজাতো দোকানপাট। এরপর গ্রামের কৃষকেরা হাটে নিয়ে যেতেন তাদের ক্ষেতে উৎপাদিত টাটকা শাকসবজি ও মৌসুমী শস্যদ্রব্য। দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কেনা-বেচা চলতো ধুমছে। ওইসব দোকানগুলোতে পাওয়া যেতো চাল, ডাল, শাকসবজি, ফল, মাছ-মাংসসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র।

বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারাতে বসেছে গ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এসব হাটবাজারগুলো। যার ফলে আস্তে-আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এসব হাটগুলো। বর্তমান বাজারে গিয়ে এখন পাওয়া যায় না অমৃত সেই বাতাসা। পাওয়া যায় না টাটকা শাকসবজি এবং নদী-নালা ও খাল-বিল থেকে ধরে আনা ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য দেশীয় মাছ। কয়েক বছর আগে এখানকার হাটগুলো ছিলো বেশ জমজমাট। এখন আগের মতো সেই অবস্থা নেই। এখন হাটে তেমন লোকজন আসে না। বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট হয়ে যাওয়ায় হাটের দিকে মানুষের আসা কমে যাচ্ছে। দিন পাল্টে গেছে। সব কিছু আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। যার ফলে প্রায় বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এসব হাটগুলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here