শরিফ হায়দার শিবলু,
আজ বিএনপির নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের (৩১,মে) এইদিনে চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া আব্দুল্লাহ আল নোমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় পাকিস্তান সরকারের আমলে স্বৈরাচার আইয়ুব খান বিরুধী আন্দোলনের মাধ্যমে আব্দুল্লাহ আল নোমানের রাজনিতিতে অভিষেক ঘটে।
১৯৭২ সালে মাওলানা ভাষানীর কমিটিতে মাওলানা ভাসানী সভাপতি এবং কাজি জাফর সাধারণ সম্পাদক ও নোমান সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে বিচারপতি আবদুস সাত্তারের সমন্নয়ক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বর্তমান বিএনপির ১৯ দফা কর্মসূচী বাস্তবায়নে জাতীয়তাবাদী গনতান্ত্রিক দলের (জাগো দল) মাধ্যমে।
তারপর ১৯৭৮ সালের ১, সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে বিএনপির রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় বিএনপির এই নেতার।
বিএনপির প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বিএনপি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার পর ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম ৯ কোতোয়ালি আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৪৯,৮১৮ ভোটে বিজয়ী হয়ে তৎকালীন গঠন করা বিএনপি সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১,৩১,৬৩৯ ভোটে বিজয়ী হয়ে আ,লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীত্ব লাভ করেন বিএনপির বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল – নোমান।
বিএনপির এই নেতা প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও বিএনপির বিগত কাউন্সিল গুলোতে আব্দুল্লাহ আল নোমানের রাজনৈতিক জুনিয়র নেতারা বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে মূল্যায়ন করা হয়নি নোমানকে।
বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সারাদেশে চষে বেড়িয়েছেন বিএনপির এই নেতা।
কিন্তু রাজনৈতিক ভাবে নিজ দল বিএনপিতে বারা বার অবমূল্যায়ন হওয়ার পরেও বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিন্দু পরিমাণ পিছুটান দেয়নি বিএনপির এই নেতা।
বিভিন্ন সময় আব্দুল্লাহ আল- নোমানকে বিএনপিতে অবমূল্যায়ন করার কারনে চট্টগ্রাম নোমান অনুসারীদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও তা নিরসন করেন নোমান নিজেই!
বিভিন্ন সময় বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে ঢাকা ও রাজপথে পুলিশ ও প্রতিপক্ষ দলের গুলিতে রক্তাক্ত ও হামলার শিকার হয়েছিলেন নোমান।
বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে কারাগারেও আটক ছিলেন তিনি।
বর্তমানে চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বেশীরভাগ নেতাই আব্দুল্লাহ আল নোমানের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করছেন।
নিজ দলের কাছে রাজনৈতিক ভাবে অবমূল্যায়ন হওয়ার পরেও নিরলস ভাবে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বিএনপির এই নেতা।
এদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল – নোমানের জন্ম বার্ষিকীতে সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এস কে খোদা তোতন।
আজ (৩১ মে) রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতা এস, কে খোদা তোতন বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সফল মন্ত্রী চট্টগ্রাম ও দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান জননেতা আব্দুল্লাহ আল – নোমানের জন্ম বার্ষিকীতে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সুস্থ রাখেন।