রবিউল হোসেন, চট্টগ্রাম:
নগরীর ইপিজেড থানাধীন ৩৯নং ওয়ার্ডস্থ বন্দরটিলায় এক ব্যবসায়ীকে মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা পরিচয়দানকারী সাইফুুদ্দিন সাইফু’র (৩৭) বিরুদ্ধে।
বন্দরটিলাস্থ বেপজা স্কুল গেট সংলগ্ন বর্তমানে সংযোগ রোডের উন্নয়ন কাজের জন্য উচ্ছেদকৃত জায়গায় মোঃ রফিক নামের ব্যবসায়ী দোকান ঘর বাবদ প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা জামানত দেন দোকানঘরের মালিক হাজী মোঃ নুরুল হুদাকে।
এই জামানেতর বিপরীতে বিগত কয়েক মাসের ভাড়া বাবদ ১৮হাজার টাকা বকেয়া হওয়ায় অনৈতিক ভাবে সীমানার বাইরের অংশ উচ্ছেদ নিয়ে বারবার রফিককে মানষিক ও শারীরিক নির্যাতন করে দোকান মালিক নুরুল হুদার আপন ভাগিনা কথিত যুবলীগ নেতা সাইফুুদ্দিন সাপু(৩৭)।
ব্যবসায়ী রফিক অভিযোগ করে বলেন, ‘এই বিষয়ে দোকান মালিক হাজী মোঃ নুরুল হুদা গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসে লিখিত বিচার চাইলে আমি বৈধ কাগজপত্র নিয়ে বিচারে উপস্থাপন করি এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমার পক্ষে সত্যতা পেয়ে দোকান না ভাঙ্গার এবং সংষ্কারপূর্বক পিছনে সরে গিয়ে মেরামত করতে কাউন্সিলর পরিষদ কে নির্দেশ দেয়। সেই মোতাবেক আমি নিজ খরচে দোকান মেরামত করায় মালিকের ভাগিনা সাইফুুদ্দিন সাপু বাহিনীর প্রায় ৭/৮জন লোক এসে আমাকে প্রথমে দোকানে পরে নিকটস্থ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নয়ারহাটের রেশন গেইটের ফাঁকা স্থানে(অন্ধকার আস্তানায়) ব্যাপক নির্যাতন সহ মারধর এবং এক প্রকার গুম করার চেষ্টা চালায়। বিগত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে আমি আহত হলে বাসার ও প্রতিবেশীরা আমোকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করান।’
গত ০১/১০/২০১৯ইং তারিখে ব্যবসায়ী রফিক বিজ্ঞ আদালতে উপস্থিত হয়ে একটি সিআর মামলা দায়ের করে যার নং-২৫৬/২০১৯। বিজ্ঞ আদালত তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্যানেল কোডের-১৪৬/৪০৭/৩২৩/৪২০/৩০৭/৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ এনে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ইপিজেড থানা কে আদেশ দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘বন্দরটিলায় এই সাইফু বাহিনীর হাতে অনেক নিরীহ লোক প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হন। তার অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ট।’
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সাইফুদ্দিন সাইফু অত্র ওয়ার্ডের কোন যুবলীগ সদস্য নন। সে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামিলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, পরিচয় দিয়ে কর্মসূচিতে যোগদান করে।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, সাইফুর কাজ হচ্ছে গুন্ডা,সন্ত্রাস প্রকৃতির লোকজন দিয়ে কারো জায়গা দখল, টাকা উদ্ধার, মারপিট করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা এবং মাস শেষে গামেন্টসের নারী-পুরুষ শ্রমিকদের টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, দামি মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া সহ রাতে অলিগলিতে ইয়াবা বিক্রি করে তরুণ সমাজকে অন্ধকারের পথে ঠেলে দেওয়া।
উল্লেখ্য যে, বেপজা স্কুলের মুখে সংযোগ রোডের উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব কাউন্সিলর পরিষদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের (সিডিএ)। সেখানে প্রকাশ সাইফ্যে বাহিনীর এরুপ অবৈধ কাজে পরিষদের সদস্য মোঃ লোকমান হাকিম নিজে বাধাঁ দিয়েছেন বলে প্রতিবেশী দোকানীরা জানান।
৩৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও কাউন্সিলর হাজি জিয়াউল হক সুমন ও সাঃসম্পাদক-মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘তাদের বিষয়টি একান্ত ব্যবসায়ীক। এখানে রাজনৈতিক পরিচয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন বেআইনী। কেউ অন্যায় করলে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নিকটস্থ থানার ওসি কে আমরা পূর্বেই বলে রেখেছি।’
এই বিষয়ে সাইফুদ্দিনের বক্তব্যে জানতে চাইলে তিনি জানায়, ‘আমার বিরুদ্ধে জিডি,অভিযোগ,মামলা করলে কি হবে? আমি আমার চাহিদা আদায় করেই যাব। আর আমি তো অন্যায় করি নাই। আমার মামা নুরুল হুদার টাকা উদ্ধার করতেই রফিককে চাপ দিয়েছি মাত্র। মামার টাকা না দিলে কি করে আদায় হবে সেটিও আমি জানি।’
রফিকের অগ্রীম দেওয়া জামানতের সাড়ে ৩ লাখ টাকার কি হবে জানতে চাইলে সাইফু বলেন, ‘ঐ টাকা ব্যাংকে জমা আছে, মাসে মাসে নিলেই তো হয়।’ প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘নিউজ করে আর খবর লিখে সাইফ্যের বালও ছিড়তে পারবা না।’
এ ব্যাপারে ইপিজেড থানার সেকেন্ড অফিসার নজরুল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালতের কপি পেয়ে বাদী ও বিবাদী কে নিয়ে বিষয়টি সমঝোতা করার চেষ্টা করলেও বিবাদী পক্ষ কেন এই অনৈতিক কাজ করছে তা আমরা জানি না। তবে বাদীর অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।’



