আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরাক। সোমবার (৪ নভেম্বর) বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে অন্তত ৬ জন। আহত হয়েছে অর্ধশত। এ নিয়ে চলমান বিক্ষোভে আড়াইশতাধিক ইরাকি নিহত হয়েছে।
এদিকে, কারবালায় ইরানি কনস্যুলেটে হামলার নিন্দা জানিয়ে বিদেশি কূটনীতিক মিশনের নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রত্যয় জানিয়েছে বাগদাদ।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ইরাক। সোমবার নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকে রাজধানীর গ্রিনজোনে প্রবেশের চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর দফতরসহ সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় রয়েছে। আন্দোলনকারীদের পুলিশ বাধা দিলেই ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল, জলকামান, রাবার বুলেটের পাশাপাশি গুলি চালায় পুলিশ। দু’পক্ষের সংঘাতে হতাহত হন অন্তত ৬০ জন। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে রাতভর বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভ হয়েছে বন্দরনগরী উম কাসর, দক্ষিণাঞ্চলীয় সাতারাসহ বিভিন্ন শহরে।
তারা বলছেন, স্বতঃস্ফুর্তভাবে আমরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। আমাদের এ লড়াই দেশের জন্য, মাতৃভূমির জন্য। রাজনীতিকরা জনগণের ভালোমন্দের কোনো খবরই রাখছেন না।
তাদের দাবি, আমরা অত্যাচার, নির্যাতন, অর্থনৈতিক দৈন্যদশার মধ্যে বসবাস করছি। কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির মূলোৎপাটন চাই আমরা। তাদের কব্জা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করেই আন্দোলনে স্থগিত করবো।
অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত আড়াইশতাধিক ইরাকি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে বহু মানুষ। এদিন, কারবালায় ইরানি কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে নিহতদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বরতার নিন্দা জানান স্বজনরা।
তারা বলছে, আমাদের সন্তানরা বীর। তারা শুধু ইরাকি পতাকা উচিয়ে ধরেছিলো। নির্লজ্জ বাহিনী হামলা চালিয়েছে। সন্তানদের হত্যা করেছে। আইনি অধিকার সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে তারা রাস্তায় নেমছিলো। বহু ইরাকি যুবক বেকার। সরকার জনগণের জন্য কিছুই করছে না।
বিক্ষোভের কারণে জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে রোববার আন্দোলন বন্ধের আহ্বান জানান ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল মাহদি। তার আহ্বান উপেক্ষা করেই চলছে আন্দোলন। চলমান উত্তেজনায় উম কাসর বন্দর বন্ধ থাকায় শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছে, আন্দোলন করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে স্পর্শকাতার বিষয়গুলো আন্দোলনের বাইরে রাখা উচিৎ। বন্দর বন্ধ থাকায় দাম বেড়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
গতমাসে বেকারত্ব, দুর্নীতির প্রতিবাদে ইরাকে বিক্ষোভ শুরু হয়। যা পরবর্তীতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। এতে যোগ দিয়েছেন দেশটির জাতীয় শিক্ষক সমিতি। বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অংশ নিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনও। সরকারি দফতর চালু থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
©সময় সংবাদ



