রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

এড.ওসমানীর অনশনে ঘুম ভাঙ্গে উখিয়া আইসোলেশন সেন্টার পরিচালনায় দায়িত্বরত এনজিওর

আপডেট:

এম এ সাত্তার, কক্সবাজার:
কক্সবাজারের সিনিয়র আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী এডভোকেট আবু ছিদ্দিক ওসমানীর করোনা পজিটিভ হলে গত ২৮ জুন থেকে চিকিৎসার জন্য উখিয়া আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি হয়। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে উক্ত আইসোলেশন সেন্টারের বেশ কিছু অনিয়ম তার নজরে আসে। এমনকি সে নিজেও ভুক্তভোগী। এ বিষয়ে ওই হাসপাতালে কর্মরত ২/১ জনের কাছে জানতে চাইলে তারা তাকে মানসিকভাবে নিগৃহীত করে দমকিয়ে দেন। তখন থেকে সে অমরন অনশন শুরু করলে 18 ঘণ্টা পর তার সব দাবি মেনে নিয়ে অনশন ভঙ্গান কর্তৃপক্ষ।

উখিয়া উপজেলার টিএন্ডটি মাঠের দক্ষিণ পার্শ্বে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প সংলগ্ন বিশাল এলাকা জুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ১৪৪ বেডের পরিপূর্ণ SARI Isolation and treatment center জাতিসংঘের অংগ প্রতিষ্ঠান UNHCR চলমান করোনা ভাইরাস সংকটে তাদের মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসাবে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে মাত্র ৪০ দিনে এ হাসপাতালটি নির্মাণ করে।

বিজ্ঞাপন

গত ২১ মে হাসপাতালটি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন উদ্বোধন করেন। প্রায় এক সপ্তাহ মেডিকেটেড রিহার্সাল দেওয়ার পর ২৭ মে থেকে সেখানে কোভিড-১৯ রোগীদের ভর্তি দেওয়া শুরু হয়। ওয়াশিংটন ভিত্তিক RELIEF INTERNATIONAL উখিয়া SARI আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টারটি সার্বিক পরিচালনা করার দায়িত্ব পান।

৩৪ টি আলাদা বিভাগে বিভক্ত করে উখিয়ার SARI আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টারটি পরিচালনা করা হয়। RELIEF INTERNATIONAL কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণেরে দায়িত্ব পালন করলেও স্থানীয় ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পালন করে আসছিলো ৩৪ টি বিভাগের। দায়িত্বপালনকারী এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে হাসপাতালের কার্যক্রম।

বিজ্ঞাপন

করোনা ‘পজেটিভ’ হয়ে এখানে গত ২৮ জুন পরিবারের ৭ সদস্য সহ ভর্তি হন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী। ভর্তি হয়ে তিনি সেখানে দেখতে পান, বিভিন্ন বিভাগে চরম অনিয়ম ও সমন্বয়হীনতা।

গত ৪ জুন গণমাধ্যমকর্মী মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী’কে প্রেসক্রাইভ করা সেফিক্সিম ১ গ্রাম নামক একটি ইনজেকশন সকাল ৯ টায় দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সকাল ৯ টার ইনজেকশন বিকেলেও কেন দেওয়া হলোনা-তা মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী দায়িত্বপালনরত চিকিৎসক ও নার্সদের কাছ থেকে জানতে চাইলে তারা মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী’র দিকে দলবল নিয়ে তেড়ে আসে, দুর্ব্যবহার ও অসদাচরণ করেন।

এর প্রতিবাদে এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী হাসপাতালের ডি#৫ নম্বর নিজ সিটের মধ্যেই অনশন শুরু করেন। সিনিয়র আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মী এড. ওসমানী হাসপাতালের বেডে অনশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি, এসএসসি ব্যাচ ৮৪ এসোসিয়েশন সহ একের পর এক বিভিন্ন সংগঠন। নিজ বেডে অনশনরত অবস্থায় ওসমানী দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা কিছু নাখেয়ে ওষুধ পত্র সেবন করেননি। ফলে তিনি একজন কোভিড-১৯ রোগী হয়ে জীবন সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়ে যান।

অতপর দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর RELIEF INTERNATIONAL এর হেলথ এন্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রাম ম্যানেজার পেট্রেশিয়া এফে আজকিয়ে SARI Isolation and treatment centre এর ডি-২ নম্বর বেডে নিজে স্বশরীরে গিয়ে পানি পান করিয়ে এডভোকেট ওসমানী’র অনশন ভাঙ্গেন গত সোমবার ৬ জুন বেলা ১ টার দিকে।

তার আগে, SARI Isoletion and treatment centre এর চরম অব্যবস্থাপনা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়া, ভুল ওষুধ দিয়ে ফাইল গায়েব করা ও রোগীদের প্রতি দুর্ব্যবহারের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। RELIEF INTERNATIONAL এর হেলথ এন্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রাম ম্যানেজার পেট্রেশিয়া এফে আজকিয়ে এসব বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এ্যাকশন শুরু করেন।

ব্রেকফাস্টে পানির মতো টলটলে ডাল ও UNHCR ত্রিপলের মতো মোটা,খাওয়ার অযোগ্য রুটি দেওয়া হতো রোগীদের। ৭ জুলাই সকাল হতে তা পরিবর্তন করে উন্নতমানের রুটি, ডাল ও অন্যান্য আইটেম দেওয়া হয়েছে। এ আইসোলেশন চালু হওয়ার পর থেকে রোগীর ম্যানুতে থাকা সত্ত্বেও ফ্রুট দেয়া হয়নি। এখন রোগীদের উন্নতমানের ফ্রুটস দেয়া হচ্ছে। যা নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। রাতের খাবারের ম্যানুতে দেশি মুরগীর সাথে দেওয়া হয়েছে-ডাল ও শব্জী। খাওয়া দাওয়ার সাথে এ হাসপাতালে আগে পুষ্টিবিদের কোন পরামর্শ না থাকলেও ৭ জুলাই থেকে এখানে সকল খাদ্য তৈরিতে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। আগে রোগীদের পানির মতো দুধ দেয়া হলেও এখন ভালমানের দুধ দেয়া হচ্ছে।

হাসপাতালে যে উন্নয়ন কাজ সমুহ অসম্পূর্ণ ছিলো, তা সম্পন্ন করতে মঙ্গলবার ৭ জুলাই সকাল থেকে কাজ শুরু করেন কর্তৃপক্ষ। ওয়াশ ও বাথরুম গুলো ৭ জুলাই সকাল থেকে ঝকঝক করছে। অথচ অন্যান্য সময় দুর্ঘন্ধে ওয়াশ ও বাথরুম গুলোতে যাওয়া যেতোনা। হাসপাতালের লন্ড্রীতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। হাসপাতাল প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা দুর করতে আনা হচ্ছে-চেইন অব কমান্ড ভিত্তিক জবাবদিহিতা। রোগীদের সাথে অসদাচরণ, দুর্ব্যবহার নিয়ে যারা জড়িত তাদেকেও হাসপাতাল চাকুরীবিধির সুস্পষ্ট লঙ্গনের অভিযোগ এনে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায়, কৌশলে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। গঠন করা হচ্ছে তদন্ত কমিটি।

RELIEF INTERNATIONAL এর একজন উর্ধ্বতন কর্মকতা জানান, তাদের সদর দপ্তরের কোন নির্দেশনা ছাড়া স্থানীয়ভাবে তারা কোন মৌলিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারেন না। তাই গত ২ দিনের ঘটনাপ্রবাহ সবই তাদের ১১০১,১৪ তম ষ্ট্রীট, এন ডাব্লিউ স্যুট ওয়াশিংটন ডিসিস্থ কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। RELIEF INTERNATIONAL এর সদর দপ্তর থেকে কোভিড-১৯ রোগীদের স্বার্থে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরো কঠিন সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সুত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত