মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫

কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেয়ার উদ্যোগ ভেস্তে গেছে

আপডেট:

কক্সবাজার প্রতিনিধি,
মায়ানমারের ক্ষমতাসীন সরকার নিজেরা ইস্যু বানিয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সেনা বাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীর লোকদের লেলিয়ে দিয়ে মুসলিমসহ অন্য সংখ্যালঘুদেরকে গণহত্যা, যুলুম, নির্যাতন করে আসছিল। এসময় বার্মার জান্তাদের জোর জুলুম হ্য করতে না পেরে জনসমুদ্রের মত লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে কক্সবাজার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা বস্তিতে অবস্থান করে আসছে। এক এলাকায় লাখ লাখ মানুষের চাপ কমাতে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের উদ্দেশ্য যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা সহ নোয়াখালীর ভাসানচরে ঘর নির্মাণ করেন বাংলাদেশ সরকার। উক্ত স্থানে রোহিঙ্গাদেরকে স্থানান্তরের জন্য সরকার বারবার উদ্দ্যেগ নিলেও ক্যাম্পে অবস্থানরত এনজিওদের কুপ্ররোচনায় এতদিন রোহিঙ্গারা ওখানে যেতে রাজি হননি। সর্বশেষ অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে গত মাসে ১ম ধাপে ১ লাখ রোহিঙ্গা ভাসানচরে স্থানান্তরের পুর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করে প্রশাসন। অবশেষে দাতা সংস্থাদের অনুমতি না পাওয়ায় সে উদ্যোগ আটকে যায় বলে জানায় একটি সূত্র। সরকারের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বলেছেন সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তাদের নিয়ে এই শীতের আগেই ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সম্মতি না দেয়ায় সেই উদ্যোগ থমকে গেছে।

নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জোর তৎপরতা শুরু করা হয়েছিল। কিছুদিন আগেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবার শীতের আগেই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু করার তাদের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি এটাও উল্লেখ করেছিলেন যে, এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের জন্য ভাসানচর পুরোপুরি প্রস্তুত। গত বর্ষা মৌসুমের আগেই সরকার রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের কাজ শুরু করতে চেয়েছিল সেটা তখন সম্ভব হয়নি। এখন আবার শীতের আগে স্থানান্তরের চেষ্টাও থমকে গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, স্থানান্তরের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মতি মিলছে না। কিছু পরিবার স্বেচ্ছায় যেতে চেয়েছিল, সে ব্যাপারে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু যেহেতু আমরা এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাতিসংঘ এবং ইউএনএইচসিআরসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর নির্ভরশীল, সেজন্য আমরা তাদের সাথে বসেছি। কয়েক দফা বৈঠকের পরও জাতিসংঘ, ইউএনএইচসিআর এবং আইওএমসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত সেখান যাওয়ার পক্ষে মতামত দেয় নাই। যার কারণে আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন ‘সত্যি কথা বলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মতি না পাওয়ায় এটা আটকে আছে।’তিনি জানিয়েছেন রোহিঙ্গাদের ৬৪০টি পরিবারের সাড়ে তিন হাজার জন ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য স্বেচ্ছায় তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন এরপর তাদের ভাসানচরে নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে বৈঠক করে সপ্তাহখানেক আগে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সম্মতি দেয়নি। এখন এই অনিশ্চিত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য রোহিঙ্গা সম্পর্কিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির একটি বৈঠক ডাকা হচ্ছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন।

তবে বাংলাদেশ সরকার স্থানান্তর করার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে কর্মকর্তারা বলছেন।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, এই স্থানান্তর স্বেচ্ছায় হতে হবে। সব সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার পর তা করতে হবে। সে জন্য তারা বাংলাদেশ সরকারকে আরও সময় নেয়ার কথা বলছে।

বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গাদেরকে ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগের ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘চাপ প্রয়োগের কোনো বিষয় নাই। স্বেচ্ছায় না গেলে কাউকে জোর করা যাবে না। এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন যে কোনো বল প্রয়োগ করা হবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত