রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

কক্সবাজার সদরস্থ রাবার ড্যাম-ছনখোলা খেয়াঘাট রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট:

এম এ সাত্তার, কক্সবাজার:
কক্সবাজার সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের রাবার ড্যাম টু ছনখোলা খেয়াঘাট পর্যন্ত তেত্রিশ’শ ফুট সড়ক নির্মাণ (পাকাকরণ) কাজে বালুর পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। আসাদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই রাস্তা নির্মাণ করছে। তাদের বিরুদ্ধে রাস্তার কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারসহ নানা অনিয়মেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, পিএমখালী ইউনিয়নের রাবার ড্যাম থেকে ছনখোলা কেয়াঘাট পর্যন্ত সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাভুক্ত। উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উদাসীনতায় এমন অবস্থা বলে দাবি এলাকাবাসীর।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিডিউল অনুযায়ী সড়কের কাজ করছে না।সড়কের মাটি খুড়ে গ্রাউন্ড লেবেলে সাববেইজ করার সময় বালির পরিবর্তে পাহাড় কাটা মাটি দিয়েই কাজ করছে। সড়কের সাববেইজ থেকে উপরিভাগ পর্যন্ত কাজে বালি, কংকর, খোয়া এবং খোয়া মিশ্রিত বালির মিশ্রণ যথাযথ কারা হচ্ছে না। যথাযথ কম্পেক্টও করা হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এইভাবে সড়কটি নির্মিত হলে তা টেকসই হওয়া নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহানে রয়েছে তারা।

বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পে এলজিইডির দায়িত্বরত সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম বলেন, কেবলমাত্র কাজ শুরু হয়েছে। কোন অনিয়ম হচ্ছে না ঠিকমত চলছে।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি পাহাড়ের মাটি দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অনুমতি নেই বলে জানান।

বিজ্ঞাপন

সূত্রে জানা গেছে ,চলতি বছরের শুরুতে রাবার ড্যাম থেকে বড় বিল রাস্তা হইয়ে ছনখোলা খেয়াঘাট পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণ কাজ চলছে। তবে সড়কটির নির্মাণ কাজ যেনতেনভাবে সম্পন্ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আছাদ এন্টারপ্রাইজ। তারা রাস্তা থেকে পুরাতন ইটের সলিং তুলে সেগুলো ভেঙেই খোয়া হিসেবে ব্যবহার করছে।বেইজ খুঁড়ে মাটি সরিয়ে বালি দেয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানছে না ঠিকাদার। আর রাস্তা নির্মাণের জন্য এস্কেভেটরের দিয়ে সাববেইজ করতে যে মাটি খুঁড়ে সরিয়ে ফেলা হয় তা বেইজে (গর্তে) পুনরায় রেখে দিয়ে রুলার করা হয়।

রাবার ড্রাম এর সাথে সংযুক্ত রাস্তাটি পাকা করণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। কয়েকটি ইউনিয়নের সাথে সংযুক্ত গ্রামীণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য এই সড়কটির গুরুত্ব অনেক। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে এই রাস্তার যোগসুত্র রয়েছে।এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষ সহজে সেবা গ্রহণ করতে পারবে।

এই বিবেচনায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এলজিইডি) সড়কটি নির্মাণের জন্য প্রকল্পটি হাতে নেয়।সে অনুযায়ী চলিত বছরের শুরুতে আনুষ্ঠানিক ভাবে সড়কের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আসাদ এন্টারপ্রাইজ।

স্থানীয় ঘাটকুলিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজ উল্লাহ জানান, রাবার ড্যাম টু ছনখোলা রোডটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঠিকাদার রোডের কাজ শুরু করেছে। কিন্তু, সড়কে সিডিউল অনুযায়ী কোন কাজ হচ্ছে না।

ছনখোলা ইউনুসঘোনা এলাকার হাজি মোহাম্মদ আলম জানান, সড়কের কাজ শুরু থেকে নানা অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। পাহাড়-কাটা মাটি বালির সাথে কংক্রিট মিশ্রণ করে সড়কে দেয়া হচ্ছে। সেখানেও পর্যাপ্ত পরিমাণ কংক্রিট দিচ্ছে না ঠিকাদার।কিন্তু বর্তমানে উক্ত সড়কের কাজে সড়ক বিভাগের কোন ধরণের তদারকি ছাড়াও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’

ছনখোলা পশ্চিম পাড়া এলাকার আবু ছৈয়দ জানান, এলজিইডি অফিস থেকে মাঝেমধ্যে কোন কর্মকর্তা কাজ পরিদর্শনে আসলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমাঝোতা করে সব অনিয়ম দেখেও না দেখার মতো করে চলে যান।অথচ প্রকাশ্যে উক্ত সড়কে কারচুপি হচ্ছে। যে পরিমাণ বালি সংক্রিটের সাথে মেশানোর কথা তা সে পরিমাণ দেয়া হচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে জানতে ঠিকাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বক্তব্য পাওয়া গেলে যত্নসহকারে প্রকাশ করা হবে।

পাহাড়ের মাটি রাস্তা বানানোর কাজে ব্যবহার করা যায় কিনা জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রকৌশলী কক্সবাজার বার্তাকে জানান, যদি এই মাটিতে বালুর গুণগত পরিমাণ ঠিক থাকে তাহলে এ মাটি ব্যবহার করা যাবে। তবে একেবারেই বালু ব্যবহার না করলে এর ওপরে যে কার্পেটিং করা হবে সেটি এই মাটি ধরে রাখবে না। তবে ওপরের স্তরে অবশ্যই গুনগত ভাল বালু ব্যবহার করতেই হবে। নাহলে বর্ষাকালে এই মাটি কাদায় পরিণত হবে আবার শীতকালে শুকিয়ে গেলে রাস্তায় ফাটল দেখা দেবে।রাস্তার ওপরে যে পিচ ঢালাই হয় তা টিকিয়ে রাখতেই এর নিচে বালুর স্তর থাকতেই হবে। তবে যে পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে তা বৈধভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে কিনা সেটাও দেখার বিষয়।কারণ,অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটার কোনও নিয়ম নেই।এজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শাস্তিও হতে পারে।

অভিযোগ পেয়ে এ রোডের কাজ সরোজমিন দেখতে গেলে মাহাত আলম, দুদুমিয়া, মোঃ হাছান, আব্দুল করিমসহ অন্যান্য কয়েকজন জানান এই রাস্তা কাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। ডাম্পারে করে আনা বালি কংক্রিটমিক্স ৮/১০ জন শ্রমিক রাস্তায় সমান করে দিচ্ছে। সেখানে নেই কোন প্রশাসনিক প্রতিনিধি এমনকি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউ।

প্রসঙ্গত: পরিবেশ আইনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া পাহাড় কাটা নিষেধ। অবৈধভাবে পাহাড় কাটার শাস্তি হিসেবে দুই বছরের জেল বা দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করার শাস্তি ১০ বছরের জেল বা অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু, পরিবেশ আইন অমান্য করেই পাহাড় কেটে মাটি নিয়ে সড়ক নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত