Home সর্বশেষ সংবাদ এক্সক্লুসিভ কক্সবাজার সদর পিএমখালীর সচিব শিহাবের সিন্ডিকেট দুর্নীতির আমলনামা

কক্সবাজার সদর পিএমখালীর সচিব শিহাবের সিন্ডিকেট দুর্নীতির আমলনামা

কক্সবাজার সদর পিএমখালীর সচিব শিহাবের সিন্ডিকেট দুর্নীতির আমলনামা

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শিহাব উদ্দিন নিজেকে চেয়ারম্যান হিসাবে ভাবেন। তাই প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে নিজের স্বাক্ষরে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে জানানো প্রয়োজন মনে না করে। বিধিবহির্ভূভাবে দেওয়া সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস) নামক এনজিওকে প্রদান করা একটি প্রত্যয়নপত্র অন লাইন নিউজ পোর্টাল চট্টগ্রাম ট্রিবিউনের হাতে এসেছে। অনুসন্ধানে জানাযায়, ইউপি সচিব শিহাব ধূর্ত প্রকৃতির একজন দুর্নীতিবাজ সচিব।

সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস) এর প্রতিনিধি মমতাজ শফিনা আজিমের সাথে যোগসাজসে ভিজিডি’র ২০১৭-১৮ সনের অসহায় গরীবের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতে সকল দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করে রেখেছে গোপনে। কিন্তু এমন দুর্নীতির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সঞ্চয়ের টাকা না পাওয়া সংক্ষুব্ধ শতশত ভিজিডি’র উপরকারভোগীরা সদর ইউএনও কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে।

শুরু থেকেই শিহাব সচিবের দুর্নীতির আশ্রয়ে স্কাসের প্রতিনিধি শফিনা আজিম সঞ্চয়ের টাকা জমা রাখার নিয়ম রক্ষা করেনি এমন অভিযোগও আছে। সেই সুুযোগে দুই জনে মিলে গরীবের টাকা আত্মসাতের দাপ্তরিক গোপন অবৈধ নিয়ম শিখিয়ে দেয় উক্ত প্রতিনিধিকে শিহাব এমন তথ্য দেন উক্ত ইউপির একজন মেম্বার। ১৭৪ জন সদস্যের ২০০ টাকা করে ২৪ মাসে, ৮ লক্ষ ৩৫ হাজার ২ শত টাকা উদ্ধারের জন্য “ ভিজিডি ২০১৭-১৮ চক্রের উপকার ভোগীদের আত্মসাৎকৃত সঞ্চয়ী টাকা উদ্ধার করিয়া দেওয়ার আবেদন শিরোনামে ইউএনও কার্যালয়ে ১১ নভেম্বর অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা।

বিপরীতে ইউপি সচিব শিহাব উদ্দিন পিএমখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের অজান্তে ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে স্কাস’কে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেন এভাবে, “ যাহার জন্য প্রযোজ্য শিরোনামে। এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যে, সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস) বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অর্থায়নে দু:স্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) কর্মসূচির ২০১৭-২০১৮ ইং চক্রের উপকারভোগী মহিলাদের উন্নয়ন প্যাকেজ সেবা বাস্তবায়ন করেছে। চুক্তি অনুযায়ী স্কাস কক্সবাজার সদর উপজেলার ৮ নং পিএমখালী পরিষদে দু:স্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) উপকারভোগী মহিলাদের উন্নয়ন প্যাকেজ সেবা যেমন-জীবন দক্ষতা, আয়বর্ধকমূলক প্রশিক্ষণ, সঞ্চয় ব্যবস্থপনা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিচালনা করেছে এবং উত্তোলিত সঞ্চয়ের টাকা উপকারভোগীদের মাঝে বুঝিয়ে দিয়েছে। আমি সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থা (স্কাস) এর সার্বিক সফলতা কামনা করছি।” দুর্নীতি জায়েজ করা এই প্রত্যয়ন পত্রের স্বারক নং-পি,এম,কে-কক্স/২০১৯/৮৬। তারিখ-২৩/০৫/২০১৯।
জানতে চাইলে সচিব শিহাব চট্টগ্রাম ট্রিবিউনের
প্রতিনিধিকে বলেন, আমি এখন সেনালী ব্যাংকে, পরে কথা বলব। এর পরে বারবার ফোন দিলেও তিনি আর কোন প্রতিক্রিয়া জানাননি।

পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাষ্টার আবদুর রহিম জানান, তিনি এসব কিছু জানেন না। প্রশ্ন করা হয়, সচিব প্রত্যয়নপত্র দেয়ার এখতিয়ার রাখে কি কিনা। তিনি বলেন, সচিব প্রত্যয়নপত্র দিতে পারেনা।

কক্সবাজার সদর ইউএনও (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) এইচ এম মাহফুজুর রহমান বলেন, পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদ ও আশপাশের আরো কয়েক ইউনিয়নের ভিজিডি’র সঞ্চয়ের টাকা না পাওয়ার উদ্ধারে বেশ কয়েকটি অভিযোগ আছে। যা তদন্ত করে ব্যবস্থা করা হবে। তিনিও বলেন, একজন সচিব ইউপির প্যাডে প্রত্যয়ন পত্র দেওয়ার বিধান নাই। যদি দেন তা বিধিবহির্ভূত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here