বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

চসিক সড়কের অংশবিশেষ যৌথপার্টি’র দখলে

আপডেট:

আব্দুল করিম, চট্টগ্রামঃ
ক্ষমতার দাপট চকবাজার শেখ আহমদ মেম্বার বাড়ি সড়ক বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ যৌথপার্টির পরিবার বলে কথা। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সড়কের প্রায় এক ফুট জায়গা নিজেদের দখলে রেখেছেন।

আশপাশের লোকজন এর প্রতিবাদ জানালেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এই পরিবারকে সম্মান জানিয়ে সড়কের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করার কোন উদ্যোগ নেয়নি। বরং ওই জায়গাটুকু ছেড়ে বাকি অংশের উন্নয়ন কাজ করছে চসিক। চিত্রটি নগরীর চকবাজারস্থ চান মিয়া মুন্সি বাইলেনের শেখ আহমদ মেম্বার বাড়ি সড়কের। পরিদর্শনকালে আশপাশের বাসিন্দারা জানান, চান মিয়া মুন্সি লেনের শেখ আহমদ মেম্বার বাড়ির সড়কটির একসময় প্রশস্ততা ছিল ১০ থেকে ১২ফুট। দুই দিক থেকে দখল করতে করতে সড়কটি এখন কোথাও ছয় ফুট, কোথাও আট ফুট। কোন কোন জায়গায় এখনো ১০ ফুট প্রশস্ততা আছে। গত দুই মাস ধরে চসিক সড়কটির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কাজ শুরু করেছে। সড়কের যেখানে যতটুকু আছে সেখানে ততটুকু নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু ব্যতিক্রম শুধুমাত্র বাকলিয়া থানা বিএনপি’র সভাপতি ফরিদ আহমদের বাড়ির সামনে। তার বাড়ির সামনে প্রায় এক ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়ে সড়কের উন্নয়ন কাজ করছে চসিক।স্থানীয়রা জানান, অন্য দশজনের মত ফরিদ আহমদের বাড়ির দেয়াল ঘেঁষে কাজ শুরু করে চসিক। কিন্তু তার এক ছেলে গিয়ে উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে তা ভেঙে দেয়। এরপর চসিক পিছু হটে। এখন প্রায় এক ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়েই কাজ করছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

আশপাশের লোকজন জানান, ফরিদ আহমদ বিএনপি’র রাজনীতি করলেও তার এক ছেলে আনিছ উদ্দিন পিন্টু ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা। তাই এই পরিবারের সাথে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি উভয়দলের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই তারা ক্ষমতা দেখিয়ে সড়কের জায়গা নিজেদের আয়ত্তে রাখছেন। এনিয়ে লোকজন সিটি কর্পোরেশনে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে অভিযোগ করলেও রহস্যজনক কারণে তা কোন কাজে আসছে না।

এলাকাবাসী জানান, ফরিদ আহমদের বাড়ির সামনে এমনিতেই সড়কটির প্রশস্ত ছয় ফুটের বেশি হবে না। সেখান থেকে যদি এক ফুট চলে যায় তাহলে কোন গাড়িই এই দিকে চলাচল করতে পারবে না।এবিষয়ে জানতে চাইলে ওই প্রকল্পে নিয়োজিত চসিকের সুপারভাইজার মো. কামাল উদ্দিন বলেন, যে অংশটুকু বাকি রাখা হয়েছে, তা ফরিদ আহমদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের নিজস্ব জায়গা বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ওই জায়গাতে কাজ করতে দিলে তাদেরই লাভ হত। কারণ এই সড়ক দিয়ে তারাই চলাফেরা করবেন।

বিজ্ঞাপন

চসিকের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার মজিবুর রহমান জানান, সড়কটির অন্যান্য অংশে যেভাবে বাড়ি ঘেঁষে কাজ করা হয়েছে। এখানেও সেভাবে শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের বাধার কারণে কিছুটা ছাড়তে হয়েছে। তাদের দাবি ওই অংশটুকু তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত