মোহাম্মদ জিপন উদ্দিন, চট্টগ্রাম:
কোটি টাকার তক্ষক বিক্রির লোভ দেখিয়ে চাদঁপুর মতলব থানা এলাকার এনজিও কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে ফটিকছড়ি ভূজপুর থানার বাগানবাজারে এনে অপহরণের এক বছর পর তার গলিত লাশের সন্ধান মিলেছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী বাগানবাজার ইউপির নুরপুরের গহীন জঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) দীর্ঘ ১৭ ঘন্টা চেষ্টার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) একটি টিম হেলাল উদ্দিনের এ গলিত লাশটি উদ্ধার করে।
এর আগে গতকাল বিকেলে অপহরণের সাথে জড়িত বিল্লাল নামে একজনকে রামগড় থেকে গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তিতে তাকে নিয়ে গতকাল রাতে বাগানবাজার ইউপির ৯ নং ওয়ার্ডের নুরপুর গহীণ জঙ্গলে মাইলের পর মাইল হেঁটে পিবিআই টিম ঘটনাস্থলে পৌছে হেলাল উদ্দিনকে মেরে লাশ পুঁতে ফেলার এই স্থানটি সনাক্ত করে পিবিআই।
পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, তথাকথিত কোটি টাকা মূল্যের তক্ষক নামমাত্র মূল্যে বিক্রির নাম করে গত বছরের ২৩ নভেম্বর বাবুল সিকদার (৪২) নামে এক ঠিকাদার ও এনজিও সংস্থা সেতু বন্ধনের ঢাকা মুগদাপাড়া শাখার ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন (৪৩)কে কৌশলে বাগানবাজারে এনে অপহরণ করে।
পরে অপহরণকারীরা তাদের পরিবারের কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। কয়েকদিনের মাথায় অপহরণকারীরা বাবুলকে মুক্তি দিলেও অপর এনজিও কর্মকর্তা হেলালকে অপহরণের পর হত্যা করে সংঘবদ্ধ চক্রটি। এমনকি হত্যার পর লাশ ফেলা দেয়া হয়েছিলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এই অঞ্চলটির ৫০ ফুট গভীর গর্তে। লাশ ফেলে দেয়ার পর প্রায় ৫ ফুটের মত মাটি দিয়ে চাপা দেয়া হয়। গত বছর ৬ ডিসেম্বর নিহত এনজিও কর্মকর্তা হেলালের ২য় স্ত্রী কানিজ ফাতেমা পিংকি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে ভূজপুর থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করে। পরে মামলাটি এ বছর মার্চে পিবিআইতে হস্তান্তরের পর অধিকতর তদন্তে নামে তারা। হত্যাকাণ্ডের পর এক বছরের মাথায় জড়িত একজনকে পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় আটকের পর বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ছদ্মবেশ ধারণ করে লালমাই এলাকার বিল্লাল নামের একজনকে আটক করে পিবিআই। তাদের সহযোগীতা করে দাতঁমারা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। এস্কেভেটরের সাহায্যে ৬ ঘন্টা কাটা হয় মাটি। এরপর লাশের সন্ধানে পরিত্যক্ত কুপটিতে নামানো হয় স্হানীয় শ্রমিকদের। পর পর তিনটি বিষধর সাপ গর্তটিতে পায় তারা। দীর্ঘক্ষন মাটি খুড়ার পর হেলালের গলিত হাড়গোড়সহ জামা কাপড় পরিহিত লাশের সন্ধান পায় তদন্ত দল পিবিআই সদস্যরা। এ সময় হেলাল উদ্দিনের ২ স্ত্রী,১ ছেলেসহ অন্যান্য আত্নীয় স্বজনরা উপস্থিত থেকে লাশ সনাক্ত করেন।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম অঞ্চলের (পিবিআই) পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান বলেন, আটককৃত বিল্লাল স্বীকার করেছে যে তারা ১০-১২ জন মিলে এ হত্যাকাণ্ড করেছে এবং তারা লাশটি ৫০ফুট নিচের গর্তে লাশটি পেলে দেয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, জায়গাটা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এখানে কোথাও আশেপাশে ও কোন লোক বসবাস করেনা। তাই চক্রটি জায়গাটি বেঁচে নিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী রামগড়-বাগানবাজার এবং হেঁয়াকোর গহীন জঙ্গলে বিপুল পরিমাণ তক্ষকের বাস রয়েছে। এর কোনো আর্থিক মূল্য না থাকলেও বিভিন্ন গুজব রটিয়ে একটি চক্র সাধারণ মানুষকে এখানে এনে জিম্মি করে রাখতো। যাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ পাওয়া যেত না তাদের হত্যা করে জঙ্গলে লাশ গুম করা হতো।



