মহিউদ্দীন মনজুর,আনোয়ারাঃ
করোনাভাইরাস(কোভিট ১৯) এর সংক্রমণ রোধে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করেছে সরকার।
এই নির্দেশনা অমান্য করে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত কোরীয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (কেইপিজেড) শ্রমিকদের গণপরিবহনে কারখানায় যেতে দেখা গেছে।
আজ (২৮) মার্চ শনিবার সকালে উপজেলার ১নং বৈরাগ এলাকায় কেইপিজেডের মূল ফটকে কয়েকশ গণপরিবহন বিভিন্ন এলাকা থেকে ঠেসাঠেসি করে শ্রমিকদের নামানো হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায় করোনাভাইরাস (কোভিট ১৯) এর মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার সারা দেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
এতে পণ্যবাহী ট্রাক,কাভার্ডভ্যান,ওষুধ,জরুরি সেবা,জ্বালানি,পচনশীল (ময়লা)পণ্য পরিবহন,অ্যাম্বুলেন্স এবং সংবাদপত্রবাহী গাড়ি এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
পণ্যবাহী যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মানুষ যাতে ঘর থেকে বের না হয়, সে জন্য একই দিন থেকে টানা ১০ দিনের সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করে সরকার।
এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে শনিবার সকাল থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারাসহ প্রায় ৫টি উপজেলা থেকে গণপরিবহনে কোরিয়ান ইপিজেডে আসেন শ্রমিকরা।
পিএবি,সিইউএফএল,মোহছেন আউলিয়া,বখতিয়ার সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়কে বাস,চাঁদের গাড়ি, সসিএনজি অটোরিকশা সহ প্রায় কয়েক শত গাড়ি করে শ্রমিকদের আনা নেওয়া করা হয়।
শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়,আনোয়ারা উপজেলার ১নং বৈরাগ ইউনিয়ন এলাকায় কেইপিজেডের মূল ফটকে সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকশ গাড়ি শ্রমিকদের বহন করে নিয়ে আসে।
এসব গাড়ি শ্রমিকদের সেখানে নামিয়ে দিয়ে তড়িগড়ি করে দ্রুত চলে যেতে দেখা যায়। এতে শ্রমিকরা ঠেসাঠেসি করে একে অপরের গা-ঘেঁষে কারখানায় প্রবেশ করছেন।
কেইপিজেড সূত্র জানায়,কোরিয়ান ইপিজেডে চার ইউনিটের ২১টি কারখানায় বিদেশিসহ কাজ করেন প্রাত ২৫ হাজার শ্রমিক-কর্মকর্তা।
এখানকার কর্ণফুলী স্যু ইন্ডাস্ট্রিজ (কেএসআই)বিশ্বের বৃহত্তম জুতো কারখানা রয়েছে। শুধুমাত্র এই একটি কারখানায় আট ভবনে ১০ লাখ বর্গফুট আয়তনের ফ্লোরে ৭২ লাইনে কাজ করেন ১২ হাজার শ্রমিক।
শ্রমিকদের অভিযোগ,সামাজিক দূরত্বের কথা বলা হলেও কেইপিজেডে শ্রমিকদের কাজ করতে হয় গাদাগাদি করে। কোনোভাবে করোনা সংক্রমিত হলেও তা বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য অশনিসংকেত ডেকে আনতে পারে।কারখানায় কর্মরত একাধিক শ্রমিক জানান,তাদের ছুটি না হওয়ায় ঝুঁকি জেনেও কাজে আসছেন তারা। তবে তাদের করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে থাকতে হয় সবসময়।ইলিয়াছ নামের এক গাড়ির চালক বলেন,রোড পারমিট না থাকায় আমরা লাইনে গাড়ি চালায় না। মাসিক চুক্তিতে কারখানার শ্রমিকদের আনা-নেওয়া করি। কিন্তু কারখানা বন্ধ না হওয়াতে তাদের নিয়ে আসতে হয়েছে।
যেখানে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সেলাই থেকে ফিনিশিং পর্যন্ত জুতো তৈরির সব কাজ একসঙ্গে চলে।জনপ্রিয় ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস,ডেকাথলন,পুমা,পাটাগোনিয়া,ইউনিকলোর জুতো তৈরি হয়।
আনোয়ারা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মো.সাইফুল ইসলাম বলেন,আমরা সকাল ৯টা থেকে ডিউটি করি। এর মধ্যে কোনো গাড়ি সড়কে দেখা যায়নি। হয়তো এর আগে গাড়ি চলাচল করেছে। গাড়ি চলাচল করতে দেখলে জব্দ করা হবে।
কেইপিজেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো.মুশফিকুর রহমান বলেন,সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য করোনা সুরক্ষায় আমরা কিছু প্রোডাক্ট তৈরি করছি তিনি আরো জানান এ জন্য আজ (শনিবার) থেকে কারখানা সীমিত আকারে চালু রাখা হবে।
এতে যেসব শ্রমিক কারখানার আশপাশে থাকেন,যারা হেঁটে কারখানায় আসতে পারবেন তারা কাজ করবেন। কারখানার কর্মকর্তাদের যাতায়াতে নিজস্ব যানবাহনগুলো চলাচল করলেও গণপরিবহনে শ্রমিক আনা-নেওয়া বন্ধ থাকবে বলে তিনি জানান।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন,করোনা সংক্রমণ রোধে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে সড়কে কেউ গাড়ি চালালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।