মুহাম্মদ মুহিব্বুর রহমান হীরন, বাঁশখালী:
বাঁশখালীতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে আক্ষেপের শেষ নাই। অতিরিক্ত গলাকাটা ও ভুতুড়ে বিলের কারণে অতিষ্ঠ বাঁশখালীবাসী,দিশেহারা গ্রাহক। এদিকে করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে দেশজুড়ে মানুষ আতংকে,সারাদেশের মত জ্যামিতিক হারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বাঁশখালীতেও। করোনা মহামারিতে কর্মহীন অসহায় মানুষের জন্য অতিরিক্ত গলাকাটা বিদ্যুৎ বিল যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বাঁশখালী জোনাল অফিসে বিল দিতে এসে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন শতশত গ্রাহক।
বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২০ বেলা ১১টার সময় চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বাঁশখালী জোনাল অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,শতাধিক নারী-পুরুষ বিদ্যুৎ বিলের কপি হাতে নিয়ে পরিশোধ করার জন্য লাইন ধরে অপেক্ষা করছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার সরকারিভাবে বিধিনিষেধ থাকলেও এমন কোন সচেতনতা মোটেও দেখা যায়নি। অন্যদিকে বিল প্রস্তুত রুম ও অভিযোগ রুম ও ডিজিএমের রুমের সামনে গিয়ে অনেককে অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
এ সময় অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা গ্রাহককে খুব একটা বিরক্তবোধ করে গ্রাহকদের বুঝানোর চেষ্টা করলেও সদুত্তর দিতে পারছিলেন না। ফলে অনেককে ভীড়ের মধ্যে বিল না দিয়ে চলে যেতেও দেখা যায়।
গ্রাহকরা জানায়,করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কারনে এমনিতেই সাধারণ মানুষ গৃহবন্ধি ও কর্মহীন হয়ে আছে। উপার্জন না থাকায় খেয়ে না খেয়ে কোন রকম দিনাপাত করছে। এর উপর বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন মনগড়া আন্দাজি অতিরিক্ত গলাকাটা ভুতুড়ে বিল তৈরী করে বাড়িতে পাঠিয়েছে।এক মাসের বিল ২ বারও দেখানো হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকার পরও গত তিন মাসের বিলের জরিমানাসহ একসাথে নেওয়া হচ্ছে।
গ্রাহকরা অভিযোগ করে আরো বলেন, মিটারের কাছে না গিয়ে অফিসে বসে ইচ্ছেমতো বিল তৈরী করা হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ বিলের কাগজের সাথে মিটারে ব্যাবহৃত রিডিংয়ের অনেকটা মিল নেই। যার ফলে ব্যবহৃত রিডিংয়ের চেয়ে অতিরিক্ত রিডিং বিল করা হয়েছে।
কালীপুর ইউনিয়নের পালে গ্রামের ভুক্তভুগী নুর মোহাম্মদ ও বশির আহমদ জানান, বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন অফিসে বসে মনগড়া বিদ্যুৎ বিল তৈরী করছে।আমার বর্তমানে করোনায় স্থগিত মার্চ, এপ্রিল ও মে তিনমাসের বিল আসছে ৫১৪০ টাকা।করোনার আগে বিল আসতো প্রতিমাসে ৪/৫ শত টাকা করে সেই হিসেবে বিল আসার কথা ছিল মোট তিন মাসে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। কিন্তু অতিরিক্ত বিল হিসেবে আসছে প্রায় ৩৫০০ টাকারও বেশি।। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারী মাসের তুলনায় করোনায় স্থগিত মার্চ,এপ্রিল ও মে মাসের বিল এসেছে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি।
এ বিষয়ে অফিসে দায়িত্বরত লোকজন এর সাথে যোগাযোগ করিলে বলে, এবারের বকেয়া বিল গুলো দিয়ে যান। আগামী মাস থেকে ঠিক হয়ে যাবে । এভাবে বলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস প্রতি মাসেই বাড়তি বিদ্যুৎ বিল নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আরো অনেকে।
এমন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা সইতে না পেরে উত্তর জলদি ১ নং ওয়ার্ড়ের মমতাজ বেগম সংবাদকর্মীর কাছে এসে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিন-চার মাস ধরে স্বামীর আয় নেই। আমি নতুন মিটার স্থাপন করেছি। মিটার লাগানোর পর থেকে করোনায় বিল স্থগিত ছিল। প্রথম বিলেই এসে গেছে ১৭,৮৩৪ টাকা। এ নিয়ে মমতাজ বেগমের আক্ষেপের শেষ নেই।
এদিকে গ্রাহকদের বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে দিয়ে ক্ষোভের কারনে অফিসের ভিতর থাকা কর্মকর্তারা বিরক্তে বিব্রতবোধ করতেও দেখা যায়।
এ বিষয়ে বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মুফিজুল ইসলাম বলেন, করোনায় যে কয়মাস বন্ধ থাকায় বিল পরিশোধ করতে অন্য সময়ের তুলনায় গ্রাহকের ভিড় বেড়ে গেছে। গ্রাহকের তুলনায় বিল গ্রহনকারী কর্মকর্তা কম হওয়ায় স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অনেকটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। করোনা সংক্রমনের কারনে বাড়ী বাড়ী গিয়ে রিডিং নেয়া সম্ভব হয়নি বিধায় কিছুটা সমস্যা হতে পারে। একান্ত ভুল পরিলক্ষিত হলে অফিসে অভিযোগ করিলে তদন্ত পূর্বক সংশোধন করে নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী মাস থেকে গ্রাহকদের সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যাবেও বলেন তিনি।