Home সর্বশেষ সংবাদ এক্সক্লুসিভ ফের দখলে রেলওয়ের জমি

ফের দখলে রেলওয়ের জমি

ফের দখলে রেলওয়ের জমি

আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি:
গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত ৫০টি অভিযানে ৩৫ একর জমি দখলমুক্ত করেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। এতে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও সীমানাপ্রাচীর না থাকায় এসব জমি পুনরায় দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা।

২০১৯ সালের অক্টোবরে নগরের সিআরবির আশপাশে তিন একর জায়গা দখলমুক্ত করে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। সেখানে গড়ে ওঠা ৫০০ শতাধিক বসতি উচ্ছেদ করা হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে অভিযান ও তদারকি বন্ধ থাকায় সেখানে ফের গড়ে ওঠছে বসতি।সোমবার (৪ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, উচ্ছেদে ভেঙে দেওয়া টিনশেড ঘর আবার গড়ে ওঠছে। একইভাবে পুনরায় দখল হয়ে যাচ্ছে পাহাড়তলী ও হালিশহরে উচ্ছেদ করা জায়গাও।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ সূত্র জানায়, দখলে থাকা রেলওয়ের জমি উদ্ধারে সরকারের নির্দেশনা আসার পর ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর থেকে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। ওইদিন সদরঘাট থানার কদমতলী ফ্রান্সিস রোডের উভয় পাশে ২৫৮টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ২ দশমিক ৫৮ একর জমি উদ্ধার করা হয়।তারপর ৯ অক্টোবর পাহাড়তলীর সেগুনবাগান রোডের উভয়পাশে ৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দশমিক ৩০ একর জমি উদ্ধার, এক সপ্তাহ পর ১৬ অক্টোবর কদমতলীর জামতলা বস্তিতে ৬৬৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রেলের ২ দশমিক ২৭ একর জমি উদ্ধার করে ভূ-সম্পত্তি বিভাগ।১৭ অক্টোবর সিআরবির বয়লিউ অ্যাভেনিউ’র পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ এক হাজার ২২টি টিনশেড, সেমিপাকা ও আধা সেমিপাকা ঘর উচ্ছেদ করে রেলের ২ দশমিক ৭৮ একর জমি উদ্ধার করা হয়।
২৮ অক্টোবর রেলওয়ের ট্রেনিং একাডেমিতে সবচেয়ে বড় অভিযান চালানো হয়। শত কোটি টাকা মূল্যের জায়গার ওপর যুবলীগ নেতা বাবরের গড়ে তোলা বিশাল সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দেয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। বন্দর এলাকায় রেলওয়ের এই প্রশিক্ষণ একাডেমির প্রায় ৪৫ একর জায়গা দখল করে একাধিক রিসোর্ট ও কৃষি খামার গড়ে তুলেছিলেন বাবর। সেই সাম্রাজ্যে অভিযানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় ৩ দশমিক ৫ একর জমি উদ্ধার করা হয়।৩০ অক্টোবর সিআরবিতে ২য় বারের মতো উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ২০০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৩ একর জায়গা উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৩১ অক্টোবর রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবের পাশেও ২০০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উদ্ধার করা হয় প্রায় ২ একর জায়গা।৪ নভেম্বর নগরের পাহাড়তলীর সেগুনবাগান এলাকায় অবৈধ ৬০০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৩ দশমিক ৫ একর জমি উদ্ধার করা হয়। ৬ নভেম্বর পাহাড়তলীর আমবাগান রেলক্রসিং সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক হাজার ৩০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় সাড়ে ৪ একর জায়গা উদ্ধার করা হয়।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এক হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ১০ একর জায়গা উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ ১১ মার্চ বন্দর থানার পোর্ট মার্কেট এলাকায় ৪০৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এক দশমিক ৭৮ একর জমি দখলমুক্ত করা হয়।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূ-সম্পত্তি বিভাগ জমি উদ্ধারের পর সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করে দেয়াল বা কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে সংরক্ষণ করা প্রকৌশল বিভাগের কাজ। কিন্তু অবৈধ দখলমুক্ত করার পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না করায় জমির দখল ধরে রাখতে পারছে না রেলওয়ে। সুযোগ বুঝে ফের জায়গাগুলো দখলে নিয়ে নিচ্ছে এলাকাভিত্তিক প্রভাবশালীরা। সেখানে বসতি গড়ে ভাড়া দিয়ে মাসে টাকা নিচ্ছেন তারা।রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহাবুবুল করিম বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় দেড় মাস বন্ধ রয়েছে অভিযান কার্যক্রম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমাদের কাজ দখল হওয়া জমি উদ্ধার করে দেওয়া। উদ্ধার হওয়া সব জমিতে এখনও দেয়াল বা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সংরক্ষণ করা যায়নি।এ বিষয়ে জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. সুবক্তগীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here