শনিবার, জানুয়ারি ১৭, ২০২৬

ফেসবুক ষড়যন্ত্রের শিকার কালারপোল উচ্চ বিদ্যালয়!

আপডেট:

“বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা”

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার কালারপোল উচ্চ বিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবেশকে অশান্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয়ের,শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা কর্মচারীর মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৬ সালে প্রধান শিক্ষক হিসাবে বিদ্যালয়টিতে যোগদান করে আব্দুর রহিম। তার যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়ে নানা ইস্যুতে কয়েকটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছিল বারবার।

বিজ্ঞাপন

এরপর আব্দুর রহিমের বহিস্কারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও বহিস্কারে সময়সীমা বেধে দিয়েছিল সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ও বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে বিগত ১৯ সালে আব্দুর রহিমকে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।

অভিযোগ রয়েছে বহিস্কারের পর নানাভাবে বিদ্যালয় বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্তে থাকেন তিনি। তার ধারাবাহিকতায় বিগত একমাস ধরে ফেসবুকে নামে-বেনামে ভুয়া আইডি থেকে বিদ্যালয়টির শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পরিচালনা পরিষদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মানহানিকর ও আক্রমণত্মক স্ট্যাটাস দিচ্ছিল। আর এসব ভুয়া আইডি ব্যবহারে আব্দুর রহিমের সহযোগিতার অভিযোগ জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

বিজ্ঞাপন

তবে এসব ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিভ্রান্ত না হতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

একাধিক শিক্ষার্থী এ প্রতিবেদককে জানান, বিদ্যালয়ে সম্প্রতি বিবদমান গ্রুপিংয়ের কারনে আজকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদককে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তারা।

বর্তমান পরিবেশের বিষয়ে একাধিক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থায় আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ঠ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির বর্তমান অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোকলেসুর রহমান ও অন্যশিক্ষকরা বলেন , আব্দুর রহিম কর্তৃক বর্তমান অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমরা শীঘ্রই আইনের আশ্রয় নিব।

অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুর রহিম বলেন, আমি যোগদান করার পর স্কুলটিতে পূর্বের তুলনায় অনেক ভাল রেজাল্ট হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে পরিচালনা পরিষদের সভাপতির সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় আমাকে বহিস্কার ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে। ফেসবুকে ভুয়া আইডির ব্যপারে তিনি বলেন, এসব আইড়ি কিংবা এসব ফেসবুক পোস্টে আমি বিন্দু পরিমাণ জড়িত নয়।

বিদ্যালয়টির পরিচালনা পরিষদ সভাপতি মহিউদ্দীন চৌধুরী জানান, পরিচালনা পরিষদ শীঘ্রই শিক্ষকদের সাথে বৈঠক করে বর্তমান পরিস্থিতির সমাধান বের করব।

এসব বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল চন্দ্র নাথ বলেন, করোনাকালীন সময়ে আপাতত স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ধীর গতি রয়েছে। তবে শীঘই আমরা বিদ্যালয়টিতে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দিব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত