মুহাম্মদ দিদার হোসাইন,
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের হাদির পাড়া সিকদার বাড়ীর আবু তৈয়ব এর মেয়ে নাছিমা আক্তার(২২)কে ঘাতক স্বামী রবিউল আলম(৩৩) খুন করেছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে।
৪ মে (মঙ্গলবার) দুপুর আনুমানিক ১১:৪৫ ঘটিকার দিকে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক আ/ এ-ব্লক- এফ, কর বাবুল বিল্ডিং এ ৬ তলায় স্বামী রবিউল আলম এর ভাড়া বাসায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত নাছিমা আক্তার এর পিতা আবু তৈয়ব জানান, নাছিমা আক্তার আমার বড় মেয়ে, অভাবের তাড়নায় আমার মেয়েকে চট্টগ্রাম শহরে এনে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরিতে দিয়েছি, আমার মেয়ে অনেক কষ্ট করে পরিবারকে খরচ বহনে আমাকে সহযোগিতা করতো।এরই বিগত ২ বছর আগে লক্ষীপুরের রামগতি থানার ৯ নং চরগাজী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ টুমচর মোস্তফা মিয়ার বাড়ির মুহাম্মদ মোস্তফা এর পুত্র রবিউল আলম (৩৩) এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয়ের সম্মতিতে পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বর্তমানে আমার মেয়ে নাছিমা এবং স্বামী রবিউল আলম বাকলিয়া থানার কল্পলোক আ/এ-ব্লক- এফ কর বাবুর বিল্ডিং এর ৬ষ্ট তলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিবাহের দুই/তিন মাস যেতে না যেতেই স্বামী রবিউল আমার মেয়ে নাছিমাকে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে বিভিন্ন সময় অকাত্য ভাষায় গালিগালাজ সহ শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন চালাতে থাকে। অনেক বার আমার মেয়েকে মার ধর করে বাসা থেকে বের পর্যন্ত করে দিয়েছে স্বামী রবিউল।এক পর্যায়ে গত ২ মে (রবিবার) নাছিমা আক্তারকে স্বামী রবিউল আলম মার ধর করে বাসা থেকে বের করে দেন, আমার মেয়ে স্বামীর অমানবিক নির্যাতনসহ বাসায় ঢুকতে না দেয়াতে তার নানী মাজেদা খাতুন এর বাসায় চলে যায়,, পরে আমার মেয়ে। স্বামীর যৌতুক দাবি, গালিগালাজ সহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের বিষয়টি আমাকে জানায়। এর পরে স্বামী রবিউল আমার মেয়ে তার বাসা থেকে বের হয়ে গেছে বলে জানায়,এক পর্যায়ে রবিউল আমাকে বলেন আমার মেয়েকে আর বাসায় ঢুকতে দিবেনা। এসব হুমকি ধমকির ২ দিনের মাথায় হঠাৎ রবিউল আমার মেয়েকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্যেই আসে। তখন আমি মেয়ের ভবিষ্যত চিন্তা করে শান্তনা মূলক বুঝ দিয়ে মেয়েকে জামাইয়ের সাথে বাসায় পাঠিয়ে দিই।
বিবাহের পরও নাছিমা চাক্তাই ডীপস এ্যাপারেলস্ লিঃ নামক একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন, এরই মধ্যে ৪ মে(মঙ্গলবার) চাকরি থেকে বেলা আনুষ্ঠানিক ১১ ঘটিকার দিকে বাসায় ফিরে আসে,, বাসায় আসতে না আসতেই স্বামী রবিউল তাকে অকাত্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে বলে আমি পাশের ভাড়াটিয়া মারফত জানতে পেরেছি।
আনুমানিক দুপুর ১২ ঘটিকার দিকে রবিউল তার শশুর আবু তৈয়বকে ফোন করে বলেন যে, নাছিমার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ আমি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি আপনি সেখানে আসেন।এই কথা শুনে আমি আনুমানিক বেলা ১৩: ৪৫ ঘটিকার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছি,, আমি যাওয়ার সাথে সাথেই রবিউল আমাকে লাশ ঘরে নিয়ে যায়, আমার মেয়ের লাশ দেখে আমি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেছি।এক পর্যায়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলেও জানান তিনি।
এসময় তিনি আরো বলেন, রবিউল থানায় নাকি সোর্চগীরি করে তাই থানা কতৃপক্ষ আমার মামলা নিতে চাইনি,, আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে থানা বার বার অপমৃত্যু বা আত্মহত্যা বলে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে। শেষ পর্যন্ত আমার অনেক আত্মীয় স্বজন সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ফোন থানায় ফোন করিয়ে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান আবু তৈয়ব।
আবু তৈয়ব দৈনিক সকালের সময় বাঁশখালী প্রতিনিধিকে জানান, আমার মেয়ে নাছিমাকে তার স্বামী রবিউল আলম পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বাহনা দিয়ে নাছিমার নানীর বাসা থেকে আনছে। এবং সেই আমার মেয়েকে হত্যা করেছে, কিন্তু এই হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার জন্যে নাছিমার গলায় উড়ানা পেঁচিয়ে বাথরুমের গ্রীলে সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে বলে জানান নিহতের পিতা আবু তৈয়ব, এবং পুলিশও হত্যা মামলার এজাহার দায়েরে দীর্ঘ সময় গড়িমশি করেন বলেও জানান তিনি।মামলার দায়রে পুলিশের গড়়িমশি অমানবিক আচরণ দেখে ন্যায় বিচারের স্বার্থে সুষ্ঠ ও নিরেপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান নিহতের বাবা।বর্তমানে আসামি রবিউল আলম (৩৩)কে পুলিশ আটক করেছে বলেও জানান নিহতের পিতা।
এব্যাপারে বাকলিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও সি) রুহুল আমিন এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।