বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

বাঁশখালীতে জমি বিরোধে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫ জন!

আপডেট:

মুহাম্মদ দিদার হোসাইন, বাঁশখালী(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নে সরকারি খাস জায়গা দখল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।

(বুধবার) বাঁশখালী উপজেলার ৭ নং সরল ইউনিয়নের বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন চর এলাকায় এবং ২ নং ওয়ার্ডের নয়াপাড়া তিন রাস্তার মোড় এলাকায় স্থানীয় ও মৃত্যু হাজী জমির উদ্দিন এর ছেলে সালাহউদ্দিন মানিক গং এর সাথে সরকারি খাস জমি দখল বিরোধ নিয়ে ওই এলাকার মৃত্যু মনিরুজ্জামান এর পুত্র জহির উদ্দিন গং এর মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।সংঘর্ষের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আহত হয় অন্তত ১৫ জন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় নজরুল ইসলাম বলেন,সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ চৌধুরীসহ আরো বেশ কিছু অসহায় মানুষ দীর্ঘ বছর যাবত একটি সমিতির নামে শেয়ার হিসেবে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন চর এলাকার সরকারি খাস জায়গা ভোগ করে আসছিল সহ ৭০ পরিবারের সদস্যরা।

দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ এলাকাধীন জায়গা মুলত সরকারি খাস জমি।কোন ব্যাক্তি মালিকানাধীন নয়।তবে খ-বঙ্গ নামের লবণ মাঠ ও মাছের ঘোনা স্থানীয় একটি সমিতির নামে শেয়ার হিসেবে ওইসব জায়গা জমি ভোগ করত।তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে শেয়ারদারদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে ওই সমিতি।এই নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত উভয় পক্ষে মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো।

বিজ্ঞাপন

ইতিপূর্বে ওইসব জায়গার বিরোধ নিয়ে মামলা-হামলার ঘটনাও ঘটেছিল অনেক।সরকারি তরফ থেকে জায়গা যার যার দখলে নিতে বিভিন্ন আইনী পক্রিয়ায় আদালতের অনেক মামলার রায় ডিগ্রি দুপক্ষের মধ্যে থাকলেও ওই সব রায় ডিগ্রির নিয়ে আরো একটি মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান ইউপি সদস্য মুহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া।এরই মধ্যে গত বুধবার উভয় পক্ষের মধ্যে জায়গা দখল নিয়ে ঘটনা ঘটেছে বলে জানান মেম্বার ইদ্রিস।

মৃত্যু হাজী জমির উদ্দিন এর ছেলে সালাহউদ্দিন মানিক গং এবং জহির উদ্দিন গংদের মধ্যে দখল-বেদখল নিয়ে নতুন ভাবে চলছে চরম উত্তেজনা।গেলো বুধবার প্রথমে সকাল ১১ টার দিকে বেড়িবাঁধ এলাকায় সালাউদ্দিন মানিক গং ও জহির উদ্দিন গংদের মধ্যে জমি দখল বিষয় নিয়ে সংঘর্ষ বাঁধে,এতে উভয় পক্ষের মধ্যে আহত হয় অন্তত ১০-১১ জন।প্রথম ঘটনার জের ধরে ওই দিন বিকেল ৩ টার দিকে ওই এলাকার নয়াপাড়া তিন রাস্তার মোড়স্থ শাহাব উদ্দিন এর চায়ের দোকানে পুনরায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।এতে আবুল হোসেন, নাছির উদ্দিন ও নুরুন্নাহার নামের এক নারী সহ আহত হয় আরো অন্তত ৫ জন।

এব্যাপারে সালাহউদ্দিন মানিক চট্টগ্রাম ট্রিবিউনকে বলেন, কারো জমি দখল করতে আমি যাইনি,বরং ওই এলাকার বি এস এক নং খতিয়ানের এক নং দাগের জমি(খ-বঙ্গ লবণ মাঠ ও মাছের ঘোনা)হিসেবে পরিচিত। যাহা সরল উপকূলীয় বহুমুখী সমিতির জায়গা। দীর্ঘ বছর যাবত আমাদের দখলে আছে।কিন্তু সচিব হাবিবুল কবির(দুলু)’র নির্দেশে স্থানীয় প্রভাবশালী জহির উদ্দিন এর নেতৃত্বে বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের নিয়ে ওই জায়গা দখল করে নিচ্ছে।এতে আমি ও ইউপি সদস্য ইদ্রিস মিয়া সহ স্থানীয়রা বাঁধা প্রদান করিলে জহির উদ্দিন এর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।এতে জামাল উদ্দিন,নুর মোহাম্মদ,জয়নাল আবেদীন,আব্দুর রহিম,আলমগীর,মিনহাজ উদ্দিন,নেছার আহমদ,আবুল কালাম,আব্দুল মাজেদ সহ আহত হয় অন্তত ১০ জন।আহত দের কেউ কেউ চিকিৎসা করে বাড়ীতে অবস্থান করছে,কয়েকজন চিকিৎসাধীন আছে।এই বিষয়ে বাঁশখালী থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সালাউদ্দিন মানিক।

তবে জহির উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,আমি এখন গাড়ীতে আছি,এই বিষয়ে পরে কথা বলবো বলে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন জহির।

এব্যাপারে বাঁশখালী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন,সরল ইউনিয়নে দু’পক্ষের মধ্যে চলমান বিরোধের বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী(এমপি)’র নির্দেশে উভয় পক্ষের মধ্যে স্থানীয় ভাবে মীমাংসা করার পক্রিকা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সর্বাধিক পঠিত